ভ্রমণ লিবিয়া

যুদ্ধের দেশে উঁচু পাহাড়ে সুখের শহর

শেয়ার করুন

Libya Mountain Garianলিবিয়ার অনেক উঁচু পাহাড়ের উপেরর একটি শহর গাড়িয়ান। সারা লিবিয়া জুড়ে যখন চরম অস্থিরতা, তখন বেশ সুখেই বসবাস করছে এই শহরের মানুষেরা। শহরটি পাহাড়ের উপর হলেও সেখানে স্কুল-কলেজ হাসপাতালসহ- একটি শহরে যা যা থাকা প্রয়োজন সবই আছে। বেশ সাজানো-গোছানো স্বপ্নের মত এই শহরে সারাদিন ঘুরলেও বুঝাই যাবে না যে এটা অনেক উঁচু পাহাড়ের উপরের একটি শহর। শুধু প্রবেশ আর বের হওয়ার জন্য পাহাড় কেটে বাঁকানোভাবে তৈরি করা হয়েছে একটি মাত্র রাস্তা।

এই রাস্তা দিয়ে উঠা-নামা করার সময় প্রত্যেককেই কিছুক্ষনের জন্য অনুভব করতে হয় উঁচু-নিচুর দূরত্বটা। ১ হাজার ৩০ মিটার উঁচু থেকে নিচ পর্যন্ত পাহাড় কেটে তৈরি রাস্তা দিয়ে গাড়িতে ওঠা-নামার সময় অনেকেই কানে তুলা বা হেডফোন ব্যবহার করে থাকেন। তবে শহর থেকে নামার সময় ঝুঁকি না থাকলেও ওঠার সময় ক্রুটিপূর্ন গাড়ি নিয়ে গেলে কিছুটা ঝুঁকি আছে। কারণ, পাহাড়ের মাঝ পথে গাড়ি বন্ধ হলে নিচে নেমে আসবে গাড়িটি। সাথে চালকেরও দক্ষতার প্রয়োজন। 

Libya Mountain Garianবিশাল আয়তনের লিবিয়ায় মাত্র ৭০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে এই গাড়িয়ান শহরেই ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের বসবাস। ২০১১ সালে লৌহমানব মোহাম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া জুড়েই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করলেও, সেই অস্থিরতার রেশ এই গাড়িয়ান শহর পর্যন্ত পৌঁছায়নি। এত উঁচুতে যুদ্ধের অশান্তি পৌঁছানোও অবশ্য কঠিন। তাই লিবিয়ার সমতল ভূমিতে বসবাসকারী মানুষের তুলনায় এখানকার মানুষেরা অনেকটাই সুখী। এখানে কৃষি জমির পরিমানও কম নয়। 

Libya Mountain Garianলিবিয়ার অন্যান্য এলাকায় বছরে কয়েকবার বৃষ্টির দেখা মিললেও, এই শহরে প্রায় প্রতি মাসেই দু’একবার বৃষ্টি হয়। এতে শাক-শব্জি ছাড়াও অন্যান্য ফসল ভাল হয় বলে জানালেন এই শহরে বসবাস করা কয়েকজন লিবিয়ান। গাড়িয়ান সম্পর্কে তারা বললেন, প্রথমে কিছু সরকারী কর্মকর্তা হেলিকপ্টার নিয়ে অনুন্ধান চালিয়ে এই পাহাড়টির উপর হাজার হাজার হেক্টর সমতল জমি দেখতে পান। পরে সেখানে বসতি গড়ে তুলতে পাহাড়ের উপরে ওঠা-নামার জন্য রাস্তা নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী পাহাড় কেটে নামা-উঠার জন্য ব্রীজ ও রাস্তা তৈরি হয়, মানুষকে বসবাসে উৎসাহিত করতে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সরকারীভাবে এখানে কিছু বাড়ি নির্মানের পর, প্রথমে কিছু সৌখিন মানুষ বসবাস শুরু করে। পরে আরো মানুষকে বসবাসে উৎসাহিত করতে প্রত্যেককে বাড়ি এবং কৃষিকাজের জন্য কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলে আস্তে আস্তে বসতি বাড়তে থাকে।

এই শহরেই প্রায় ১ যুগ ধরে কাজ করে আসছেন কুমিল্লার শাহ-আলম, ফরিদপুরের আশরাফুলসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী শ্রমিক। তারা জানান, লিবিয়া জুড়েই অস্থিরতা বিরাজ করলেও গাড়িয়ান শহরে শুধু দেশে টাকা পাঠানোর সমস্যা ছাড়া তাদের আর কোন সমস্যা নেই। এই শহরের মানুষগুলো খুব ভালো। দিনে-রাতে রাস্তায় চলাচল করলেও কোন প্রকার সমস্যায় পড়তে হয় না। গাড়িয়ান শহরে সুখী মানুষদের সাথে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকরাও বেশ সুখেই আছেন বলে জানালেন তারা।

Libya Mountain Garian

Orpon Mahmud

শেয়ার করুন

৩ Replies to “যুদ্ধের দেশে উঁচু পাহাড়ে সুখের শহর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.