Featured Uncategorized বাংলাদেশ থেকে

ঈদের ছুটিতে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে যা করণীয়

এ বছর ডেংগু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পূর্বের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। গত জুলাই মাসে ডেঙ্গু জ্র্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীর সংখ্যার চাইতে এই চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ৮ দিনে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেশি। অর্থাৎ ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার বদলে আগের তুলনায় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একইসাথে কোরবানি ঈদে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে যাবেন বেশিরভাগ মানুষ। তাই কোরবানির ঈদে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন গবেষক এবং চিকিৎসকেরা।

একদিকে বর্ষাকাল, অপরদিকে ৯ দিনের ঈদের ছুটি, সব মিলিয়ে পরিবেশ ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ার পক্ষেই যাচ্ছে। তবে এই ঈদের ছুটিতে কীভাবে এই এডিস মশার বিস্তার রোধ করা যায়, তা জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে তুলে ধরা হলো

ডেঙ্গু রোধে আমাদের করণীয়-

ডেঙ্গু রোগের জীবাণু বিস্তার করে ‘এডিস ইজেপ্টাইল’ নামক মশার মাধ্যমে। ডেঙ্গুর বিস্তার বন্ধ করতে হলে, এই মশার বিস্তার রোধ করতে হবে। এই এডিস মশার জীবনচক্রে চারটি ধাপ আছে, এগ, লার্ভা, পিউপা ও অ্যাডাল্ট। চারটির মধ্যে প্রথম তিনটি ধাপ পানিতে সম্পন্ন হয়। ফলে পরিত্যক্ত পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

যেহেতু এবারের ঈদের ছুটিটা এবার লম্বা,তাই লক্ষ্য রাখতে হবে যেন এই ছুটিকে এডিস মশা তার বংশবিস্তারের কাজে লাগাতে না পারে।এক্ষেত্রে তিন পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া যেয়ে পারে।

শহর ত্যাগের সময় এটা নিশ্চিত করে যেতে হবে, যেন বাড়িতে কোনো পাত্রে পানি না জমে থাকে। একান্ত যদি পানি ধরে রাখতে হয় তবে তা শক্ত কোনো ঢাকনা অথবা মশার জাল দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে যেন পানিতে মশা বসে ডিম পাড়তে না পারে। এছাড়াও যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে সেগুলোর বিষয়ে সতর্কতা থাকতে হবে।

এছাড়া যারা শহরে থাকবেন এবং কোরবানি করবেন তাদের লক্ষ্য রাখতে হবে কোরবানির পশুর বর্জ্য বা রক্তে যেন পানি চলাচল আটকে না পরে অথবা কোথাও যেন পানি জমে না থাকে। কোরবানির সময় সাধারণত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো না হওয়ায় পোকামাকড়-রোগবালাই বৃদ্ধি পায়। নগরবাসী সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে নিজ উদ্যোগে এই বিষয়গুলোর সমাধান করতে পারলে মশাসহ অন্যান্য্ পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেকটাই কমে যাবে।

স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো অসুখ মানুষের মাধ্যমে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেহেতু ঈদের মধ্যে কয়েক লাখ মানুষ নিজ নিজ জেলায় যাবেন তাই তাদের সঙ্গে কিংবা যোগাযোগ পরিবহণের মাধ্যমেও ডেঙ্গু রোগ অন্যান্য জেলায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।এ ক্ষেত্রে পরিবহণ কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবার যাত্রী নামার পরে এবং নতুন যাত্রী উঠার আগে পরিবহণে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে ট্রেনের বগি বা বাসের সিটের আশেপাশে এরোসল স্প্রে করে নেওয়া যেতে পারে।

ডেঙ্গুর কারণে আক্রান্ত রোগীদের প্রাণহানিও ঘটছে অনেক বেশি। এই ঈদ যেন সবার জন্য আনন্দ ব্যতীত আর কোনো দুঃখ বয়ে না আনে। তাই এই রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকতে হবে আপনাকে-আমাকে, সবাইকে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.