Uncategorized আফ্রিকা মিশর

মিশরে ৪০ প্রবাসী’র প্রায় ২৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে হুন্ডি ব্যবসায়ী দুই ভাই

শেয়ার করুন

মিশরের কায়রোতে কর্মরত ৪০ প্রবাসী বাংলাদেশির প্রায় ২৫ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে দুই ভাই আনোয়ার গাজী ও আলামিন গাজী। স্থানীয়ভাবে তারা হুন্ডির ব্যবসা করতো। এই সুযোগে দেশে স্বজনদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দেয়ার নাম করে বাংলাদেশী প্রবাসীদের কাছ থেকে ওই টাকা সংগ্রহ করে তারা। পরে গোপনে মিশর ত্যাগ করে পালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিশরের কায়রোতে কর্মরত কয়েকজন ভুক্তভোগী প্রবাসী বাংলাদেশীরা এসব অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, আনোয়ার গাজী ও আলামিন গাজীর বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার পারুলিয়া বাজার এলাকায়।

প্রবাস কথা’র অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে যে, আনোয়ার গাজী ২০০৭ সালে ভিজিট ভিসা নিয়ে মিশরের কায়রোতে আসে এবং অবৈধভাবে একটি কোম্পানীতে কাজ শুরু করে। কাজ না জানার কারণে তার বেতন ছিল মাত্র ১৫০ ডলার অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ১২ হাজারের মতো। তবে কোম্পানী থাকার ব্যবস্থা করলেও খাওয়াটা ছিলো নিজের। এই অল্প আয়ে খুব কষ্টেই দিন কাটতো আনোয়ার গাজীর। তাই অফিসের কর্মসময়ের বাহিরে  মোবাইল রিচার্জের ব্যবসা শুরু করে সে।

এখানে ক্লিক করুন, লাইক দিন, প্রবাসের সব খবর পৌঁছে যাবে আপনার কাছে

এছাড়া মিশর থেকে দেশে বৈধভাবে টাকা পাঠানোর বিশেষ সুবিধা না থাকায় হুন্ডি ব্যবসার প্রচলন ছিলো। আনোয়ার গাজীও সে সুযোগে হুন্ডির ব্যবসা শুরু করে। তার ব্যবসা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। কোম্পানীতে মাঝে মধ্যে অনুপস্থিত থাকায় তাকে চাকরী বের করে দেয়। কিন্তু তার হুন্ডির ব্যবসা তখন জমজমাট।

কোম্পানীর কোয়ার্টারে থাকার সময় আদম ব্যবসায় জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠে আনোয়ার গাজীর। তাই নিজেই একটি সুকেনালে একটা বাসা ভাড়া করে আদম ব্যবসা করবে বলে। নিজের সুবিধার জন্য আপন ছোট ভাইকেও ভিজিট ভিসায় মিশরে নিয়ে আসে এবং নিজের ব্যবসার কাজে লাগিয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় দুই ভাইয়ের অবৈধ হুন্ডি আর ভিজিট ভিসার মাধ্যমে আদম ব্যবসা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানান গেছে, দীর্ঘদিন কায়রোতে থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মন জয় করে নেয় অনোয়ার গাজী। সে এ পর্যন্ত শতাধিক মহিলা ও পুরুষ কর্মীকে ভিজিট ভিসায় মিশরে নিয়ে এসে অবৈভাবে বিভিন্ন কোম্পানীতে ঢুকিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ আবার তাদের প্রতারণা বুঝতে পেরে মুখ বুজে দেশে ফিরে গেছে। ২০১২ সালের পর থেকে এই অবৈধ কার্যক্রমের পরিমাণ বেড়ে যায়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জানুয়ারি হুন্ডির কথা বলে ২৫ জনেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকের কাছ থেকে বিশাল অংকের টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় মিশর থেকে। এছাড়া আরো ১৫ জনের কাছ থেকে ভাই, বন্ধু, আত্মীয় স্বজনকে ভিসা দিয়ে মিশরে নিয়ে আসবে বলে টাকা নিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে এর পরিমান ২৫ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যাবে। ভুক্তভোগীরা জানান, আনোয়ার গাজীর বাংলাদেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হোয়াটস অ্যাপ চালু আছে। কিন্তু কোন উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

লাইক দিন, প্রবাস কথা’র সাথেই থাকুন

প্রতারকরা হুন্ডির কথা বলে যাদের টাকা নিয়ে পালিয়েছে তাদের মধ্যে জামালের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, মামুনের ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা, শরিফের ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা, জাকিরের ২ লাখ ৪২ হাজার টাকা, কামালের ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, মালেকের ৬০ হাজার টাকা এবং নাম পাওয়া যায়নি এমন কয়েকজনের প্রায় ৭ লাখ টাকা। ভিসার জন্য টাকা দিয়েছেন এমন কয়েকজন হলেন-  মিথেন, ইলিয়াস, কাওসার, শরীফ ও আরো কয়েকজন। তোদের প্রায় ৭ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঐ আদম ব্যবসায়ী দুই ভাই।

ভুক্তভোগী শরিফ প্রবাস কথা’কে বলেন-

‘ভাই গো কিছু কইয়েন না! আমরা মইরা গেছি আনোয়ার কে বিশ্বাস কইরা, আমরা সবাই মইরা গেছি। কইছে, ২১ তারিখ আমার ভাইরে ফেলাই দিব, বিশ তারিখে দুই ভাই রাইতেই টেকা-পয়সা নিয়া পলাইছে মিশর থাইকা। এখন আমাগো কি হইবো রে ভাই! বাংলাদেশে আনোয়ারের বাড়ির নম্বরও এহন বন্ধ।’

কেউ কেউ জানান, দেশটিতে আসার পর থেকে যা রোজগার করেছিলেন তার সবই নিয়ে গেছে ওই প্রতারকেরা। তাদের কেউ কেউ এখন নিঃস্ব প্রায়।

অন্যদিকে এমন ঘটনার পর বাংলাদেশে ভুক্তভোগী প্রবাসীদের পরিবারে বইছে শোকের ছায়া। কেউ ঋণ করে মিশর এসেছেন, কেউ কেউ ভিটা-বাড়ি বন্ধক রেখে, কেউবা বিক্রি করে। এ অবস্থায় পলাতক দুই ভাই আনোয়ার গাজী ও আলামিন গাজীকে ধরিয়ে বা সন্ধান দেওয়ার জন্য সবার কাছে অনুরোধ করেন। এছাড়াও এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে বাংলাদেশ সরকার, মিশরে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস, কায়রো ও বাংলাদেশ প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন মিশরে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিশেষ করে মিশরে দ্রুত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার অনুরোধ জানান তারা।

 

  • বিশেষ প্রতিনিধি কায়রো, মিশর

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.