Uncategorized

বিমানবন্দরে দফায় দফায় লেনদেন

ভেতরে প্রবেশ করলাম। ব্যাগ দুইটা চেকিংয়ে দেওয়া হলো। ডাকা হলো আমাকে বেশ বিনয়ের সাথে এবং চেকিং এর রিপোর্ট দেখানো হলো। বেশ ঘাবড়ে গেলাম এবং নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টায় ব্যর্থ হলাম। প্রস্তাব দেয়া হলো- স্বীকারোক্তিমূলক আপোষের। না হলে, আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। বিলম্ব না করে আপোষেই সম্মত হলাম। এরপর লেনদেনের সিস্টেম বলে দেওয়া হলো। স্বস্তি ফিরে আসলো কিছুটা। খুশিমনে হ্যান্ডব্যাগটা নিয়ে ফরম পূরণ করতে যাবো ভাবছি। কিন্তু দ্রুত পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার চাপ আসলো। চুক্তি মোতাবেক ব্যাগ চেক করে আকাশ ভেঙ্গে পড়লো মাথায়। মনে হলো স্বপ্নের মৃত্যু অবধারিত।বিশ্বাস ভেঙ্গে গেলো। নিজেকে লুডু খেলার গুটির চরিত্রে আবিষ্কার করলাম।যাই হোক, তবুও চুক্তিমতো কাগজে মুড়িয়ে পাওনা মিটিয়ে দিলাম। এরপর ফরম পূরণ শেষ হতেই পাশ থেকে মৃদু শব্দে-
‘ভাইয়া আমারটা একটু………!!
মানসিক অবস্থার এ চরম বিপর্যয়েও বোনের ফরম পূরণে সহযোগিতা করলাম।

টিকেট কাউন্টারের কাজ সেরে চলে এলাম ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে।
ভিসা ও প্রয়োজনীয় পেপারস চেক করে পাসপোর্টে সীল দিয়ে সম্মানপূর্বক বিদায় দিলো।
এরপর সামনে যেতেই পেয়ে গেলাম একই কলেজে ভর্তি হওয়া আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের ধরণ ভিন্ন।তাদের পাসপোর্ট আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে। চিন্তা আরো বেড়ে গেলো বহুগুন। কারণ, ঐ সময়ে আমার যে কোন একজন সহযোগী যাত্রীর সহযোগিতা খুব প্রয়োজন।

বড়ই হতাশ এবং আশাহত অবস্থায় দ্বিতীয়বার চেকিং এর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম।
চেক করা হলো এবং রেজাল্ট খুব ভালো হলো না।
আবারও আপোষরফার প্রস্তাব।বসিয়ে রাখা হলো পাশের ওয়েটিংরুমে……চলবে

 

লিখেছেন-মোস্তাইন বিল্লাহ,সাইপ্রাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.