Featured Uncategorized মধ্যপ্রাচ্য

দূতাবাসের একজন পাবলিক ইনফরমেশন অফিসারের গল্প

শেয়ার করুন

প্রবাসে সবচেয়ে বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের দূতাবাসে গিয়ে। ভালো ব্যাবহার না পাওয়া বা সেইভাবে সাহায্যের হাত না পেয়ে হতাশার যেন শেষ নেই! প্রায় প্রতিটি দেশেই প্রবাসীদের মুখে এই কথাটা শোনা যায়।

আজ আপনাদেরকে সাথে অন্য এক মানুষের সাথে পরিচয় করে দিবো। তিনি তাজ উদ্দিন সেকেন্দার বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসে “পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার” হিসেবে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাহরাইনে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মুখে শুনেছি, তিনি তাঁর জায়গা থেকে যতোটুকু সাহায্য প্রবাসীদের করছেন এর আগে কেউই প্রবাসীদের জন্য এমনভাবে সাহায্যের হাত কখনো বাড়িয়ে।

তিনি পরিবার নিয়ে এ দেশে আছেন প্রতি শুক্রবার, শনিবার দূতাবাস বন্ধ থাকে সরকারি ছুটিতে সাধারণত ছুটির দিনে ফ্যামিলিকে সময় দেওয়া এটা স্বাভাবিক। কিন্ত এই মানুষটা ভিন্ন। তিনি পরিবারকে সময় না দিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে সময় দেন বাহরাইনে বাংলাদেশিদের, কার কি সমস্যা, কাকে কিভাবে সাহায্যে করা যায়।

প্রতি শুক্রবার আসলেই উনাকে লাইভে পাওয়া যায় আর সেটি টানা ১-২ ঘন্টা এভাবেই লাইভে কথা চলতেই থাকবে আর টেলিফোন কল, মোবাইল কল, যতোটুকু সম্ভব আর কি সবাইকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। কে আউট পাশে দেশে যাবে, কে জেলে গেলো, কে ট্যাক্সি চালাইতে যেয়ে ধরা খেয়েছে, কে মারা গিয়েছে তার লাশ কিভাবে দেশে প্রেরণ করা যাই। কোন প্রবাসী অসুস্থ হয়ে পড়ছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া তার চিকিৎসার খরচ কিভাবে জোগাড় করা।

এভাবে যে কতোটা উপকারে এই মানুষটা এগিয়ে আসে তার হিসাব করে উঠা মুশকিল। আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি, উনি কি রাতে ঘুমায় না এভাবে সত্যি পাগলামি করে একটা প্রবাসী ভাইকে সাহায্যে করলে উনার হাত ধরে কান্না করে। কেউ একটা হাসি দিয়ে বলে- স্যার আপনি না থাকলে আজ হয়তো এটা হতো না, সেটা হতো না, এই সুখের বাণী গুলো উনার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে ভালোবাসার কথা বলে মনে হয়।

একটা বিষয় খেয়াল করে দেখবেন প্রবাসে যখন একজন সাধারণ শ্রমিক  ছোটখাটো সাহায্যে করবেন, তার মুখ জুড়ে সুখের রাজ্যের হাসিটা ঝলমল করে। আমি এইরকম সুখের হাসির ঝলমলের বহু সাক্ষী হয়ে থাকি মাঝে মাঝে। তাই তাজ উদ্দিন সাহেবের ভেতরের আনন্দের ভাব প্রকাশ কিছুটা বুঝি।

কিন্ত দুঃখের কথা কি জানেন? আমি টানা ৫ বছরের উপরে দেখছি এই মানুষটা বাহরাইন প্রবাসীদের উপকারে এগিয়ে এসেছে। তারপরও একদল লোক চাইছে উনাকে দূতাবাস থেকে সরিয়ে দিতে। যেন তাদের অবৈধ পথের ব্যাবসা চালিয়ে যেতে পারে, আর হাজার হাজার প্রবাসীর চোখের পানির কারণ হতে পারে। বেশ কিছুদিন ধরে স্যারকে নিয়ে বাহরাইনে তারা ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

  • মুসাফির জাকারিয়া, বাহরাইন।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.