রঙ্গের দুনিয়া

জ্বীনের উপত্যকা: বন্ধ ইঞ্জিনে গাড়ি চলে ১২০ কিলোমিটার গতিতে

শেয়ার করুন

নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। ইঞ্জিন বন্ধ কিন্তু গাড়ি চলছে ১২০ কিলোমিটার গতিতে। হয়তো ভাবছেন, রাস্তা একেবারে ঢালু হয়ে নিচের দিকে নেমে গেছে। নাহ ঢালু শুধু নয়, তার উল্টোদিকেও (উজান) বন্ধ ইঞ্জিনে এমন গতিতে গাড়ি চলে। বিশ্বাস না-ই করতে পারেন বা যতই রহস্যময় মনে হোক, এটাই বাস্তব চিত্র ওয়াদী আল জ্বিন এলাকায়। জায়গাটি সৌদি আরবে। এমন অবাক ঘটনা দেখার জন্য প্রতিদিন অনেক মানুষ নিজের গাড়ি নিয়ে গিয়ে এর সত্যতার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।

অনেকেরই ধারণা, জায়গাটিতে প্রচুর চুম্বক জাতীয় পদার্থ আছে তাই এমনটি হতে পারে। কিন্তু এখানে পানির বোতল কিংবা এমনকি শুধু পানি ফেললেও তা ঢালুর বিপরীত দিকে গড়াতে থাকে। ওয়াদী আল জ্বিন জায়গাটির অবস্থান মদিনার আল বায়দা উপত্যকায়। উপত্যকাটি মসজিদে নববীর উত্তর পশ্চিম দিকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। জানা গেছে, ২০০৯-২০১০ সালের দিকে সৌদি সরকার এই ওয়াদী আল জ্বিনে একটি রাস্তা বানানোর পরিকল্পনা করে। কিন্তু ত্রিশ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করার পরই সমস্যা শুরু হয়।

collage-2016-04-24(2)

হঠাৎ দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণের যন্ত্রপাতি আস্তে আস্তে মদিনা শহরের দিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাচ্ছে। দেখে মনে হয় অদৃশ্য কেউ বা কোন কিছু যন্ত্রপাতিগুলো মদিনার দিকে টেনে নিচ্ছে। এমনকি পিচ ঢালাই এর ভারী রোলারগুলোও বন্ধ থাকা অবস্থায় আস্তে আস্তে ঢালু বেয়ে উপরের দিকে উঠতে থাকে। এ সব দেখে কর্মরত শ্রমিকরা ভয় পেয়ে যায়। তারা কাজ করতে অস্বীকার করে। রাস্তাটির কাজ যেখানে বন্ধ করা হয় সেখানে চারিদিকে বিশাল কালো পাহাড়। ওখানেই শেষ মাথায় গোল চক্রের মত করে আবার সেই রাস্তা দিয়েই মদিনা শহরে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঐ রাস্তাটি ২০০ কিলোমিটার করার কথা থাকলেও ৪০ কিলোমিটার করেই নির্মাণ কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সৌদি নাগরিকরাও সহজে কেউ এই স্থানটিতে যেতে চান না। তবে রাস্তাটি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়। বিকাল ৪ টার পর আর কোন গাড়ি বা মানুষকে ওয়াদী জ্বিন এলাকায় যেতে দেয়া হয় না। এখানে যাত্রী নিয়ে আসা অনেক সৌদি ট্যাক্সি চালকের কাছে এই ব্যাপারে জানতে চাইলে সবাই মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। সৌদি আরবের কঠোর নীতির কারণে এই দর্শনীয় স্থানটি আন্তজাতিক নজরে তেমন ভাবে আসেনি। আর এই স্থানটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেখানে ভীড় জমান।

এই রহস্যের কোন সঠিক ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত না পাওয়া গেলেও, ভূতত্ববিদরা মনে করেন আশেপাশের পাহাড়ে চৌম্বকীয় কোন ব্যপারের কারণে এমন হয়।

4like mini

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.