রঙ্গের দুনিয়া

বার্সেলোনা: পেরেশানী সড়ক ও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিড়াল

শেয়ার করুন

‘প্রবাস কথা’য় প্রবাসের কথা থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক, তাই না ? চলুন, তাহলে অাপনাদের নিয়ে যাই এমন একটা জায়গায় যেখানে গেলে অাপনার দুঃশ্চিন্তা হয় কমবে- না হয় বাড়বে৷

২০০৫ সাল৷ স্পেনে তখন স্যোশালিস্ট (PSOE) পার্টি ক্ষমতায়৷ প্রেসিডেন্ট ছিলেন Jose Luis Zapatero৷তাকে মানুষ গরীবের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও চিনতো৷ কারণ, অবৈধ অভিবাসীদের প্রতি উনি সব সময় অান্তরিক ছিলেন৷ এক পর্যায়ে মার্চ ২০০৫ এ সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা অাসলো যে স্পেনে অবৈধ অভিবাসীদের সাধারণ ক্ষমা করা হবে। তব তার সাথে কিছু শর্ত থাকবে৷
ঘোষণার সাথে সাথে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ঢল নামলো স্পেনে৷ বিপুল সংখ্যক এশিয়ান লোকের বসবাস বার্সেলোনাতে হওয়ায় এখানেও এশিয়ান লোকজন অাসতে শুরু করেন৷বার্সেলোনার মূল কেন্দ্র ‘প্লাজা কাতালোনিয়া’৷ তার সাথেই ‘লা রাম্বলা’৷এ জায়গাগুলো বলতে গেলে ২৪ ঘন্টাই পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত থাকে৷

collage-2016-04-08(2)(1)
লা রাম্বলার পাশে অারেকটি রাম্বলা বা বড় সড়ক অাছে, যার দু’পাশেই বড় বড় পাইন গাছ অার মাঝে মাঝে বসার জন্য দেওয়া হয়েছে বেঞ্চ৷ জায়গার ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে এখানে বানানো হয়েছে বিশালকৃতির এক বিড়াল৷ তবে স্প্যানিশরা এ জায়গাটাকে বিড়ালের সড়ক বা  Gato Raval নামেই বেশী চেনে৷কেউ কেউ মজা করে বলেন এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিড়াল। সকাল শুরু হলেই দেখা যেত বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীরা এ জায়গাটায় এসে ভীড় করতেন অার সবার সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করতেন৷এক পর্যায়ে টেনশন ভাগাভাগির এ জায়গাটার নাম হয়ে যায় ‘পেরেশানী রাম্বলা’ বা হা-হুতাস ও দুঃশ্চিন্তার সড়ক৷অাজ অবধি এ জায়গাটা ‘পেরেশানী রাম্বলা’ হিসেবেই সবার কাছে পরিচিত৷আর পেরেশানী নামটা এসেছে এশিয়ান অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছ থেকেই। কারণ তাদের মধ্যে ভারত. পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মানুষের সংখ্যাই ছিল বেশী।

কি হল! চলে অাসুন পেরেশানী রাম্বলায়। দেখবেন এখানে অাসলে অার কোন পেরেশানী নেই৷

  • মো: এখলাছ, বার্সেলোনা, স্পেন।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.