Featured ইরান

রমজানের ভেতর ঐশী গ্রন্থ কুরআন এসেছে বলেই রোজার এতো মূল্য

এই সেই মাস যার ভেতরে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। তার মানে এই হলো সেই হরিণ যে হরিণের নাভির ভেতরে কস্তুরি আছে। হরিণের চেয়ে ওই কস্তুরির দাম বেশি। এই মাসের এতো বেশি দামের কারণ এর নাভির ভেতরে কুরআন আছে। আছে কুরআনের মালিকের সামগ্রিক রহমত। সবচেয়ে দামি হলো কুরআন। রমজানের ভেতর ঐশী গ্রন্থ কুরআন এসেছে বলেই রোজার এতো মূল্য। বহু ঐশী গ্রন্থ নাজিল হয়েছে এ মাসে। রমজান ঐশী গ্রন্থ নাজিলের মাস।

রমজান অর্থ হলো পোড়ানো। জীবনের সকল গুনাহ পুড়ে ছাই করে ফেলার নাম রমজান। সুতরাং রমজানে যে জীবনের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারলো না,সে বড়ই হতভাগ্য। রমজানের চাঁদ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। এক মাস সেই ধারা অব্যাহত থাকে। যার পাত্র আছে, সে ভরে ভরে জমাতে পারে। যে হাতই তুললো না,পাত্রই যার নেই সে নেবে কীভাবে। মরমি কবি রুমি লিখেছেন:

”গার বেরিজি বাহর র দার কুযে ই
চান্দ গোন্জাদ? কেসমাতে ইয়েক রোজে ই”

একটা কলসিতে যদি এক সমুদ্রের পানিও ঢালো,কতটুকু ধারণ করবে? এক দিনের প্রয়োজনীয় পানিই তো! আল্লাহ মাসব্যাপী রহমতের বারি ঢেলেই যাচ্ছেন আমরা যদি সারা জীবনের জন্য সেই রহমতের মজুদ গড়ে তুলতে না পারি,আমরা হতভাগ্য। নায়েগ্রা প্রপাতের কথাই ভাবুন। নিরন্তর জলপতন হয়েই যাচ্ছে। সেভাবেই আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতেই থাকে সমগ্র রমজান মাসজুড়ে। আমাদের নেওয়ার মানে সংগ্রহ করার পাত্র থাকতে হবে। সুতরাং রমজানের দিনে পালন করতে হবে সিয়াম আর রাতে করতে হবে কিয়াম।

কিয়াম মানে হলো দাঁড়ানো অর্থাৎ রাতজেগে প্রার্থনায় কাটানো। দু’হাত তুলে চেয়ে চেয়ে নিতে হবে। সুতরাং সিয়াম এবং কিয়াম-এই দুই কাজের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে এখন থেকেই। রোগ-ব্যাধি থাকলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। ডাক্তার যদি রোজা রাখতে নিষেধ করেন তাহলে তো কথাই নেই। তবে রোজা রাখলে যেটুকু শারীরিক ক্ষতি হতে পারে সেটুকু কাটিয়ে ওঠার সুযোগ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শে রোজা রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন ডায়াবেটিক রোগীদের সাধারণত রোজা না রাখার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। রোগীর আগ্রহের প্রাবল্যে এখন ডাক্তাররা সুন্দর পরামর্শ দিয়ে রোজা রাখার কথা বলছেন। খাওয়া দাওয়ার এবং ওষুধ কিংবা ইনস্যুলিন নেয়ার রুটিন করে দিচ্ছেন ডাক্তাররা। সুতরাং ডায়াবেটিসের রোগীরা এখন সেই রুটিন অনুযায়ী ওষুধ সেবন করে সুন্দরভাবে রোজা রাখতে পারছেন। বরং বলা ভালো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার একটা উপায়ই হলো রোজা রাখা। আল্লাহ আমাদের রোজা রাখার তৌফিক দিন, রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি দিন-সেটাই হোক একান্ত প্রার্থনা।

মরুর দেশ কাতারে প্রবাসীর প্রথম রমজান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.