ইরান মধ্যপ্রাচ্য যুক্তরাষ্ট্র

জেনারেল সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পরিস্থিতি

শেয়ার করুন

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি)কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানি মার্কিন সন্ত্রাসী হামলায় শাহাদাতবরণ করেছেন। গত শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোনের সাহায্যে রকেট হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

ইরাক সরকারের আমন্ত্রণে তিনি বাগদাদ সফরে গেলে সেদেশের জনপ্রিয় সংগঠন হাশদ-আশ-শাবি’র (পিএমইউ) সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু মাহদি আল মুহানদিস তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে যান। দুই সমরনেতা একত্রিত হবার পর বিমান হামলা চালিয়ে তাদেরকে সন্ত্রাসী কায়দায় হত্যা করা হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এরইমধ্যে সোলাইমানির পদে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানিকে নিয়োগ দিয়েছেন।

ইরানের প্রতিক্রিয়া:

ইরান বলেছে, আমেরিকা এই বোকামির দাঁতভাঙা জবাব পাবে এবং মার্কিন সরকার তাদের ওই কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের জন্য অনুতপ্ত হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এবং প্রেসিডেন্টসহ প্রায় সকল ফোর্সই ঘোষণা করেছে তারা এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ নেবে। তাঁর সহযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফাজল শেকারচিও বলেছেন,

“আমরা তাড়াহুড়ো করবো না। ধৈর্যের সঙ্গে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের যথাযোগ্য জবাব দেবো। আমরা পাল্টা জবাব দেয়ার জন্য সময় এবং স্থান নির্ধারণে অধৈর্য হবো না।”

শুক্রবার রাতে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এক টেলিফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন: কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার যে কোনো পরিণতির জন্য সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমেরিকাকে দায়ী থাকতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের পরিণতি যে কতোটা ভয়াবহ হতে পারে তা কারো পক্ষে কল্পনা করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।ইরানের বিশিষ্ট আলেম আহমাদ খাতামি বলেছেন,এখন থেকে বিশ্বের কোথাও মার্কিন সরকারের স্বার্থ আর নিরাপদ নয়। এ অঞ্চলকে পুরোপুরি শত্রুমুক্ত করার সময় হয়েছে এখন।

কেন এই হত্যাকাণ্ড:

  • এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন জাগতেই পারে। যেমন আমেরিকা কেন এরকম সন্ত্রাসী হামলা চালালো। কেন তারা জেনারেল সোলাইমানির ওপর এতোটা ক্ষুব্ধ! আমেরিকার কোথায় কখন কোন কাঁচা ধানে মই দিয়েছিল সোলাইমানি?

উত্তরটাও সচেতন নাগরিকমাত্রেরই জানা থাকার কথা। কাসেম সোলাইমানি ছিলেন পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন কৌশলগত পরাজয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা।আমেরিকার তৈরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর আতঙ্ক ছিল সোলাইমানি। তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস এবং আন-নুসরাসহ অন্যান্যদের ব্যবহার করে আমেরিকা সিরিয়া দখল করতে চেয়েছিল। কাসেম সোলাইমানির অনন্য সমর কৌশল, দূরদর্শিতা ও বুদ্ধিমত্তার কারণে ওই গোষ্ঠিগুলো নাস্তানাবুদ হয়ে গিয়েছিল।আমেরিকার বিশাল বিনিয়োগ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা বহুরকম নাটকীয়তারও আশ্রয় নিয়েছে।

তারও আগে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে ইরাকে নিযুক্ত মার্কিন জেনারেল ম্যাক-ক্রিস্টাল কাসেম সোলাইমানির প্রভাবশালী ভূমিকার কথা সরাসরি স্বীকার করেছিলেন। ইরাকের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী তখন বলেছিলেন নি:সন্দেহে ইরাকে সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যক্তি হচ্ছে কাসেম সোলাইমানি। আশ-শারকুল আওসাত পত্রিকায় তখন তাঁদের সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল। তারও আগে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি সেনাবাহিনীকে দক্ষতার সঙ্গে সংগঠিত করেন এবং বিভিন্ন ব্যাটেলিয়নকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দিয়ে যুদ্ধের জন্য তৈরি করেন। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গড়ে তোলা এবং তাকে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী একটি বাহিনী হিসেবে পরিচিত করার পেছনে তার অবদান অনস্বীকার্য। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি আইআরজিসি’র কুদস বিগ্রেডের কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা এবং সেদেশের নিরীহ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে কাসেম সোলাইমানি যে ভূমিকা রেখেছিলেন তাতে সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকদের গা-জ্বালার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

  • সিরিয়া থেকে ওইসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠি পালিয়ে ইরাকে প্রবেশ করে সেখানকার পরিস্থিতিও নিরাপত্তাহীন ও অস্থিতিশীল করে তোলে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাক সরকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আইএস-কে মোকাবেলা করার জন্য গড়ে তোলে প্রতিরোধ সংগঠন হাশদ-আশ-শাবি। সংগঠনটি খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে ইরাকের স্বাধীনতাকামী জনতার মাঝে। ওই সংগঠনটি সন্ত্রাসীদের নির্মূলে সামরিক কৌশলগত অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে জেনারেল সোলাইমানির প্রজ্ঞার কাছে অনেকাংশেই ঋণী। সন্ত্রাসী গোষ্ঠি নির্মূলে হাশদ-আশ-শাবি বা পিএমইউ বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। পক্ষান্তরে পরাজিত হচ্ছিল তথাকথিত সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আমেরিকা এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আইএস। সুতরাং যুদ্ধে জয়ী হতে না পেরে আমেরিকার মতো একটি দেশ চোরাগোপ্তা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করেছে। জেনারেল সোলাইমানি দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যের মজলুম দেশগুলোতে মার্কিন মদদে সৃষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠির বিজয়ের পথে দেয়াল তৈরি করে দিয়েছিল। পক্ষান্তরে ওইসব দেশের নিরীহ জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে দূরদর্শী ভূমিকা রেখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। স্বয়ং মার্কিন মিডিয়াতেই সোলাইমানিকে বিশ্বের সেরা সমরবিদ বলে সম্মানিত করেছিল। বিজয়ের পথে বাধা সৃষ্টিকারী ওই দেয়াল ভাঙতেই আমেরিকা সন্ত্রাসী এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

সোলাইমানি হত্যায় জয়-পরাজয়ের হিসেব:

  • এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমেরিকা কি জয়ী হয়েছে? প্রশ্নটির জবাব দেওয়ার আগে বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতা ও বিশ্বজুড়ে তার প্রতিক্রিয়ার প্রতি খানিকটা নজর দেওয়া যাক। আমেরিকা সোলাইমানিকে হত্যা করে কী বুঝিয়েছে-সেটা বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। বিশ্ববাসীকে কি তারা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় নি যে আমেরিকা মুখে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের বুলি আওড়ালেও প্রকৃতপক্ষে সন্ত্রাসীদের তারা লালন পালন করছে। বিশ্বের সকল রীতিনীতি লঙ্ঘন করে যারা এভাবে পূর্বপরিকল্পিত চোরাগোপ্তা হামলা চালায় তারা যে সম্মুখযুদ্ধে কতোটা দুর্বল সেটা যে-কেউই অনুমান করতে পারে। এ ধরনের হামলা কি একটি দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন নয়?

কদিন আগেই তারা সন্ত্রাসী আইএস বিরোধী প্রতিরোধ যোদ্ধা ইরাকের হাশদ-আশ-শাবির ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলার জন্য আমেরিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী মুসলমানদের পরম শত্রু বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন সেনাদের পরামর্শমূলক কাজে জড়িত থাকার কথা। অথচ সেই চুক্তির প্রতি বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে তারা স্বয়ং ইরাকি বাহিনীর ওপরই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন আবার সন্ত্রাস বিরোধী সংগঠনটির সেকেন্ড-ইন-কমান্ড এবং জেনারেল সোলাইমানিসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তাকে সন্ত্রাসী কায়দায় হত্যা করেছে তারা। এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে আমেরিকার দেউলিয়াত্বই প্রমাণিত হলো বলে মনে করা হয়। একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় যেরকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তাতে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • স্বয়ং ইরাকেই কাসেম সোলাইমানিকে মৃত্যুপরবর্তী শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে যেভাবে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নেমেছে তা প্রমাণ করে এই হত্যাকাণ্ডকে সেদেশের সর্বস্তরের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারে নি। এই পরিস্থিতি আমেরিকার পক্ষে যায় কিনা ভেবে দেখার বিষয়। তাছাড়া কদিন আগেই ইরাকের জনগণ মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়ে তাদের ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়েছে।
  • কিছুদিন আগে ইরানের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে ইস্যু করে সরকার বিরোধী একটি গোষ্ঠি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল। তারা ওই ঘটনাকে গণবিদ্রোহের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করলেও সাধারণ জনগণের উপস্থিতি যে খুব একটা ছিল না সেটা প্রমাণিত হয়েছে ওই ঘটনার পর দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত সরকারপন্থি জনতার মিছিলের মধ্য দিয়ে। জেনারেল সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ইরান সরকারের সঙ্গে ওই তথাকথিত বিরোধী পক্ষের দূরত্ব ব্যাপক কমিয়ে দিয়েছে। ধ্বংসকামী গোষ্ঠি একেবারেই চুপ হয়ে গেছে এবং সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমগ্র ইরান জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ইরানের জনগণ প্রতিশোধকামী। তারা কাসেম সোলাইমানির হত্যাকাণ্ডকে মার্কিনীদের নির্জলা অপরাধযজ্ঞ হিসেবেই দেখছে।তাই ইরানের জনগণ এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়ার ব্যাপারে অঙ্গিকারাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
  • আমেরিকা সবসময়ই চেষ্টা করেছে ইরাকের সঙ্গে ইরানের দূরত্ব সৃষ্টি করতে। কিন্তু ইরানের বিচক্ষণতা ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতার কাছে মার্কিনীদের সেই উদ্দেশ্য সফল হতে পারে নি। এই হত্যাকাণ্ড মার্কিনীদের চেষ্টাকে ভূলুণ্ঠিত করে পক্ষান্তরে ইরানের সঙ্গে ইরাকের সৌহার্দ্য ও সংহতি দৃঢ়তর করেছে। ইরাকের জনগণ কাসেম সোলাইমানিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করার মাধ্যমে এবং হাশদ-আশ-শাবির সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের লাশ ইরানে এনে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে সম্পর্কের একটি মজবুত সেতুই বরং রচিত হয়েছে। ফলে আমেরিকার বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। শুধু কি তাই? উল্টো বরং বলা যেতে পারে ইরাকি জনগণ শহীদদের জানাজার পরিবেশকে যেভাবে মার্কিন বিরোধী শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তুলেছে তাতে ওই দেশটির প্রতি তাদের চরম ঘৃণাই প্রকাশ পেয়েছে।

অপরদিকে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সেদেশের সংসদে একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। ওই প্রস্তাবের পক্ষে ১৭০ জন সংসদ সদস্য  স্বাক্ষর দিয়েছে। কেবল ইরাক থেকেই নয় বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য থেকেই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন ফল হচ্ছে উল্টো। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকা সেনা সরিয়ে নিচ্ছে বলে কোনো কোনো সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে মিডিয়াগুলো জানিয়েছে।

  • কাসেম সোলায়মানি হত্যাকাণ্ডের জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আমেরিকা। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাবও দিয়েছে। প্রস্তাবটি হলো ইরান সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ না নিলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। কিছুটা হাস্যকর এই প্রস্তাবকে প্রতারণা এবং ইরানের ক্ষোভ প্রশমিত করার অপপ্রয়াস বলে ভাবছে ইরানি কর্মকর্তারা। কেননা ইরানের মুখপাত্র এরইমধ্যে বলেছে এখন পর্যন্ত আমেরিকার প্রায় সকল প্রতিশ্রুতিই মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। সুতরাং তাদের কোনো প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রাখা সহজ নয়। পরমাণু সমঝোতা তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

অন্যদিকে ট্রাম্প গতকাল এক টুইটার পোস্টে এও বলেছেন:ইরান যদি হামলা চালায় তাহলে ওয়াশিংটন ইরানের বায়ান্নটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাবে। এই বায়ান্ন সংখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আসলে অতীতের দু:সহ ক্ষতের কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে ইরানে যে মার্কিন দূতাবাস ছিল সেখানে কূটনীতিকের ছদ্মবেশধারী বায়ান্নজন গোয়েন্দাকে জিম্মি করে রাখার প্রতিই প্রকারান্তরে ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প।

যাই হোক, এইসব পরিস্থিতি সচেতনভাবে পর্যালোচনা করলে অনুমান করতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করে আমেরিকা যে বিশাল বিজয় অর্জন করেছে বলে ভাবছে, বাস্তবতা তার বিপরীত। বিশ্বের স্বাধীনচেতা দেশগুলোর দিকে তাকালে এই সত্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

  •  নাসির মাহমুদ, প্রতিনিধি
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.