Featured বাংলাদেশ থেকে বিনোদন

ব্যাটিংয়ের তাণ্ডব দেখিয়ে মুমিনুলের সেঞ্চুরি

শেয়ার করুন

যখন সেঞ্চুরি ছুঁলেন, তখন খেলেছেন ৯৬ বল। টেস্ট ক্রিকেটে ১০০ বলের কম খেলে ১০০ রান করার কীর্তি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের খুব বেশি নেই। খুব না থাকা এই কীর্তি গড়ার পথে মুমিনুল হয়ে গেছেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক। চট্টগ্রাম টেস্টে মুমিনুলের ব্যাটে দেখা যাচ্ছে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিংয়ের তাণ্ডব।

১০০-এর উপরে স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরি করার পরও থামেননি তিনি। বরং তার খুনে মেজাজের ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েই যাচ্ছেন। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এর আগে তিনটি সেঞ্চুরি ছিলো মুমিনুলের। এবার করে ফেললেন চতুর্থটিও। সব মিলিয়ে মুমিনুলের সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন পাঁচটি।

চট্টগ্রাম টেস্টে শুরুটা প্রত্যাশামতোই হয়েছিল বাংলাদেশের। বিনা উইকেটে ৭২ রান তুলে দলের ভিতটা শক্ত করছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। লঙ্কান বোলারদের সাধারণ মানে নামিয়ে বেশ দ্রুততার সঙ্গেই উঠছিল রান। কিন্তু দিলরুয়ান পেরেরার বলে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে বোল্ড হন তামিম। এরপর দলীয় ১২০ রানে ইমরুল কায়েস এলবিডব্লু  হলে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ।

তামিম খেলেছেন ওয়ানডে মেজাজে। ৫৫ বলে ৫২ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি মেরেছেন ৬টি, ছক্কা একটি। অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছ থেকে আরও বেশি কিছু আশা করেছিল দল। কিন্তু তামিম সেই প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। সে তুলনায় ইমরুল ছিলেন অনেকটাই ধীর-স্থির। ঠিক যেমনটা খেলেন তিনি। তবে উইকেটটাও দিয়ে এসেছেন বড় অসময়ে। ‘চায়নাম্যান’ লক্ষ্মণ সানদাকানের বলে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লু। রিভিউ নিলে হয়তো বেঁচে যেতেন। ইমরুলের আউটের সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যাহ্ন বিরতির ঘোষণা দেন আম্পায়ার।

তামিম ইকবালের বিদায়ের পর উইকেটে নেমেই মুমিনুল করতে থাকেন খোলসভাঙা ব্যাটিং। চান্দিকা হাথুরুসিংহে কোচ থাকা অবস্থায় মুমিনুল যেভাবে ঢুকে পড়েছিলেন খোলসে, তাতে মনে হয়েছিলো আবির্ভাবে চমকে দেয়া এই ব্যাটসম্যান বোধহয় হারিয়ে যেতে বসেছেন কালের খাদে।

কিন্তু না। যার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর পথে পদে পদে ছিলো বাধা। সেই বাধার প্রাচীর ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে যার পা পড়েছে জাতীয় দলের চৌকাঠে, সেই তিনি আর যাই হোক, বিনা সংগ্রামে হারিয়ে যেতে পারেন না।

মুমিনুল তার হার না মানা মানসকিতার প্রমাণ রাখলেন সেই চান্দিকার সামনেই। ওয়ানডে মেজাজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তার জবাবটা কেবল দীর্ঘই হচ্ছে। কে জানে, প্রতিপক্ষের কোচ হিসেবে মুমিনুলের এমন জবাব গিলতে কতোটা কষ্ট হচ্ছে চান্দিকার!

 

  • প্রবাস কথা ডেস্ক

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.