Featured এশিয়া মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘রোড শো এন্ড ব্রান্ডিং বাংলাদেশ’

শেয়ার করুন

মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো ‘রোড শো এন্ড ব্রান্ডিং বাংলাদেশ’। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন ) দেশটির পেরাক প্রদেশে বাংলাদেশে বিনিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে পেরাক প্রদেশের ইনভেস্টমেন্ট এন্ড করিডোর ডেভেলপমেন্ট এর প্রধান, দাতো সেরি হাজি মোহাম্মদ নিজার বিন জামালুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এসময় চাইনিজ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট, পেরাক মালয়েশিয়া চেম্বারস অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট, স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, শিল্প মালিক এবং নিয়োগকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অভ্যুদয়, অদম্য অগ্রযাত্রা এবং বিশ্বে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মহ. শহীদুল ইসলাম বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশদভাবে তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

তিনি বলেন, এই মুহুর্তে বাংলাদেশ সৃজনশীল নেতৃত্বে উপযুক্ত ম্যাক্রোইকনমিক পলিসি এবং উন্নয়নের সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারন করে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক এবং আইএমএফ বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৮.১৩% প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ‘আউট স্ট্যান্ডিং’। বাংলাদেশে ব্যবসা করার ব্যয় তুলনামূলক কম।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। বঙ্গোপসাগর কন্যা বাংলাদেশ থেকে শুধু স্থল ও আকাশ পথে নয়, সমুদ্র পথে সহজেই দক্ষিণ, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের সাথে বাণিজ্য করা যায়।

বিশ্বে উৎপাদনের মূল শ্রমশক্তির এক বিশাল অংশ এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শ্রম মূল্য কম। ইতোমধ্যে শ্রমব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করায় ইউরোপ-আমেরিকার ভোক্তাদের নিকট সমাদৃত হয়েছে। পরিশ্রমী এ জনশক্তির রয়েছে সৃজনী ক্ষমতা এবং অল্প সময়ের মধ্যে দক্ষতা অর্জন।

বাংলাদেশী এ কূটনীতিক বলেন, ৮ টি রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ছাড়াও সরকার মোট একশ’টি স্পেশাল ইকনমিক জোন স্থাপন করছে বিনিয়োগকারিদের জন্য। দি ফরেন প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট (প্রমোশন এন্ড প্রটেকশন) এক্ট করে বিদেশী বিনিয়োগের শতভাগ সুরক্ষা দেয়া হয়েছে। এসময় তিনি বাংলাদেশের ট্যুরিজম শিল্পে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা, ঐতিহাসিক ঘটনা, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান, সৃংস্কৃতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, পাহাড়, সমতল এবং সাগর রয়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ এবং শান্ত গ্রামীন জীবন ও পরিবেশ। ছয় ঋতুতে ফুটে ওঠা বাংলার ছয়টি প্রকৃতি। আছে নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া।

তিনি কৃষি ভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পন্ন। আছে সুস্বাদের সাদা পানি ও সামুদ্রিক উভয় প্রকার মাছ। এছাড়াও আছে কাঁকড়া ও চিংড়ি । ভিন্ন স্বাদের বিশ্বখ্যাত ইলিশ রয়েছে বাংলাদেশের।

বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কুপ্রভাব মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাট এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পাট পণ্য পরিবেশ বান্ধব। পাট পাতার পানীয় স্বাস্থ্যসম্মত যা জার্মানিতে রপ্তানি করা হচ্ছে। পাট শিল্পকে কেন্দ্র করে স্পেশাল ইকনোমিক জোন করেছে। আরো কিছু পণ্য যেমন বাংলার রেশম ও মসলিন সম্পর্কে ধারনা প্রদান করে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।

অপ্রচলিত পণ্য যেমন বাঁশ, বেত, মাটি, কচুরিপানা ও কাঠ থেকে তৈরি অপ্রচলিত অনেক পণ্য তথা কারুপণ্য ও নকশীকাঁথা বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। প্লাস্টিকের আগ্রাসন থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে এসব খাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।

এছাড়াও পরিবহন, তথ্য যোগাযোগ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগের তথ্য তুলে ধরেন।

  • সূত্রঃ বাংলাদেশ দূতাবাস, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া 

আরও পড়ুন- প্রবাসীদের মক্কা প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.