Featured আমেরিকা ভ্রমণ

আমার বিদেশ ভ্রমন; যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডা, পর্ব- ১

বাংলাদেশ থেকে ইমিগ্রান্ট ভিসাতে আমেরিকা এসেছি ৩ বছর হলো। বলতে গেলে নড়াইল থেকে নিউইয়র্ক। পাশের দেশ ভারত তো অনেক দূরে, কখনো স্কুল-কলেজের পিকনিকেই যাওয়া হয়নি আমার।

আমেরিকা আসার পর মনে হল Land of opportunity এর কিছুটা কাজে লাগায়। এরপর থেকে টুকটাক ঘুরতে শুরু করলাম। হঠাৎ মনে হল বিদেশ ভ্রমনের অভিঙ্গতা থাকা উচিত। প্লান করে ফেললাম কানাডিয়ান রকিস দেখতে যাব।

অফিসিয়ালি এটা আমার প্রথম বার্ষিক ছুটি। টিকিট কনফার্ম করার পর থেকেই এক্সাইটমেন্টে আমার ঘুম হারাম! ১০ জুন বিকেলে ফ্লাইট, রাত ১১ টায় কানাডার  ক্যালগরি পৌঁছাবো। দুপুর ২ টায় ব্যাগ নিয়ে রেডি , বাসা থেকে বের হব, ঠিক তখনি, এয়ার কানাডা থেকে ইমেইল আসলো অতিরিক্ত বৃষ্টির কারনে আমার আজকের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

আমার ফ্লাইট ছিলো ১১জুন সকাল ১০ টায়। নতুন ফ্লাইট অনুযায়ী ক্যালগরি পৌছাবো বিকেল ৪ টায়। এদিকে এয়ার বিএনবিতে এ্যাকোমডেশনের জন্য পে করেছি, ১১ তারিখের বান্ফ ন্যাশনাল পার্ক ডে ট্যুর পে করেছি, যা নন-রিফান্ডেবল!

ছুটিও সীমিত। একটা দিন লস হবে। বাইরে মুষল ধারে বৃষ্টি , এদিকে আমার মনে ও বৃষ্টি শুরু হলো। কিছুক্ষন চুপ করে বসে থেকে এয়ার কানাডার কাস্টমার কেয়ারে কল করলাম। ৩০ মিনিট লাইনে থাকার পর এজেন্টকে পেলাম। পুরো ঘটনা আরও ৩০ মিনিট ধরে রিপিট করার পর আমাকে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটা টিকিট ইমেল করে বললো এখনি যান ফ্লাইট ৫ টা ২০ মিনিটে।

তখন বাজে ৩ টা ৩০ মিনিট, উবার নিয়ে রওনা দিলাম লাগরডিয়া এয়ারপোর্টে। বোর্ডিং পাসের জন্য লাইনে থেকে যখন আমার টার্ন আসলো তখন জানতে পারলাম আমেরিকান এয়ার লাইন্সের এই ফ্লাইটও বাতিল হয়েছে।

দৌড়ে গেলাম এয়ার কানাডার বোর্ডিংপাসের লাইনে। ঘটনা শুনে তারা দায় এড়ানোর জন্য বললো, যেহেতু আমেরিকান এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, সেহেতু দায়ভার ওদের। আবার আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বোর্ডিংপাসে দৌড়ে আসলাম।এতক্ষনে লাগরডিয়া এয়ারপোর্টের ফ্লোর আমার জামা দিয়ে দুই বার ক্লিন করে দিয়েছি। এবার বলে তোমার মুল টিকিট এয়ার কানাডার, আমরা কিছু করতে পারবো না।

এবার রাগ কন্ট্রোল করতে পারলাম না, দুই ঝাড়ি মারার পর আমেরিকান এয়ারলাইন্স এর এজেন্ট বললো- আমার সাথে যেয়ে সে এয়ার কানাডার সাথে কথা বলবে। আমার রাগ হলো, ফ্লাইট বাতিল শুনেতো আমি বাড়িতেই ছিলাম। তাহলে ভুলভাল কথা বলে, আমাকে বাসা থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এনে এখন কেন নাটক?

এতকিছুর পর টিকিট পেলাম ৭ টা ৩০ মিনিটের। টরেন্টোতে নাইট হোল্ড করতে হবে , ক্যালগরি পৌঁছাবো ১১ তারিখ সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটে। আমি তাতেও রাজি হলাম। ৭ টা ২০ মিনিটে শুনি এই ফ্লাইটে আমার জায়গা হবে না। পরের ফ্লাইট ৯ টা ৩০ মিনিটে। অপেক্ষা অপেক্ষা  শেষমেশ প্লেনে উঠলাম রাত ১০টা ৩০ মিনিটে, প্লেন নিউইয়র্ক ছাড়লো রাত ১১ টায়।

এয়ারপোর্টেই নষ্ট হল ৭ ঘন্টা। স্থানীয় সময় ১২টা ৩০ মিনিটে টরেন্টো পৌঁছালাম । ক্যালগরি কানেক্টিং ফ্লাইট সকাল ৬ টায় । সময়টা কাজে লাগালাম, ট্যাক্সি নিয়ে বের হয়ে পরলাম রাতের টরেন্টো সিটি দেখতে।

কানেক্টিং ফ্লাইট যথা সময়েয় ক্যালগরি পৌছে গেল। ক্যালগরিতে পৌঁছালাম স্থানীয় সময় সকাল ৯ টা ৪০ মিনিটে।

  • পাপিয়া শারমিন, ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র 

আরও পড়ুন- আজ ( ১৭ জুন ) ঢাকায় আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিনিময় মূল্য

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.