Featured ইউরোপ ফ্রান্স

এক প্রবাসী ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের ভালোবাসা

শেয়ার করুন

ভদ্রলোকের নাম মি. চিস্তিন। বয়স আনুমানিক ৬০ কি ৬৫ হবে, উনি আমার একজন প্রাইভেট শিক্ষক। ক্লাসে এক মাত্র আমি জন্মসূত্রে ভিনদেশি নাগরিক। বাকিরা সবাই জন্মসূত্রে ফরাসি নাগরিক।

ভাষার দিক দিয়ে ফরাসি ভাষা খুব কঠিন। আমার ফ্রান্সে আসা বেশিদিন হয়নি, মাত্র দুই বছর শেষ হলো। ক্লাসের পাঠদান সম্পূর্ণ ফরাসি ভাষায় হয়ে থাকে। তাই আমার জন্য ক্লাসের সব গুলো পড়া ক্লাস টিচার দের কাছ থেকে বুঝে নিতে অনেকটা কষ্ট হয়ে উঠে। বিশেষ করে পদার্থ ও রসায়ন এমনিতেই কঠিন, তার মধ্যে ফরাসি ভাষায় আরো কঠিন লাগে।

এই বিষয়গুলো চিন্তা করে আমার এক দায়িত্বপ্রাপ্ত গার্ডিয়ান এবং আমার প্রধান প্রফেসর আমার জন্য একটা প্রাইভেট শিক্ষক ঠিক করে দেয়।

আরেকটা কথা বলে রাখি এটা সম্পূর্ণ ফ্রি, বিনিময়ে তাকে কোন অর্থ প্রদান করতে হয় না। উনি আমাকে প্রতি সাপ্তাহ দু’দিন দু’ঘণ্টা করে প্রাইভেট পড়ায়। স্যার আমাকে খুব সুন্দরভাবে ক্লাসের পড়া গুলো বুঝিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে আমি যদি কোন পাড়া ভালোভাবে না বুঝে আনতে পারি, আমার খাতার কোন নোট যদি স্যার না বুঝে, তখন উনি ক্লাস টিচার দের ফোন দেয় বা ক্লাসে যেয়ে স্যারদের কাছ থেকে শীট নিয়ে আসে।

আমার ক্লাস শেষ হতে হতে সন্ধ্যা পাঁচটা কি ছয়টা বেজে যায়। আমার কষ্ট হবে ভেবে, স্যার তার ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আবার আমার মুঠোফোনে ছোট একটি টেক্সট করে আরিফ আমি ক্যাম্পাসের পিছনে কার পার্কিং এ তোমার জন্য অপেক্ষায় আছি।

আরও পড়ুন- লন্ডনে ফ্রিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ; আবেদন করবেন যেভাবে

তখন আমরা এক সাথে স্যারের পাঠদানের স্থানে যাই। স্যার আমাকে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন ভিডিও খুঁজে পড়াগুলো সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দেয়। ভদ্রলোক অনেক সময় আমার মেধার খুব প্রশংসা করে।

যে সাপ্তাহে আমার জব থাকে, তখন আমার কাজটা দুটি সময়ে ভাগ করা থাকে। মাঝখানে যে সময়টা থাকে তখন আমি প্রাইভেট পড়ি। আমি কাজ করে খুব ক্লান্ত থাকব সেটা ভেবে স্যার নিজে আমার কর্মস্থানে চলে যায়, আমাকে তার গাড়ি দিয়ে নিয়ে আসে।

সেদিনগুলোতে আর দু’ঘণ্টা পড়ায় না এক থেকে দেড় ঘণ্টা পড়ায়। তারপর বলে, তুমি কাজ করে খুবই ক্লান্ত চলো তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি। বাসায় যেয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিয়ে আবার কাজে চলে যেও, আর নিজের দিকে খেয়াল রেখো।

আমি বাসায় এসে ভাবনায় পড়ে যাই, যে একটা প্রাইভেট শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে এতটা ভালোবাসতে জানে? এতটা যত্ন নিতে পারে তাও আবার বিনামূল্যে বিনা পারিশ্রমিকে। মন থেকে তখন তার জন্য অনেক শ্রদ্ধা আসে ভালোবাসা তো বটেই।

  • মাকসুদুল হক আরিফ, বেলফোর্ট, ফ্রান্স 

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.