Featured ভ্রমণ মধ্যপ্রাচ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত

মরুর দেশে প্রবাস জীবন

শেয়ার করুন

একদিন আমি ও আমার এক সহকর্মী সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান সীমান্তে ফুজাইরা আল হাজরা ব্লাক মাউন্টেন থেকে দূর্গম মরুভূমির মাঝ দিয়ে শারজাহ ফিরছিলাম। হটাৎ মরু ঝড়ে পড়ে কয়েক ঘন্টার জন্য আটকে যেতে হলো। কয়েক কিলোমিটার বালু ঝড়ে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।

ঝড় থামার জন্য অপেক্ষার মাঝে হটাৎ চোখে পড়ল, একপাল উট নিয়ে এক শীর্ন কদাকার মানুষ তাড়িয়ে চলছে, দৃষ্টি পড়তেই গাড়ি থেকে নামলাম, তার উদ্দেশে হাটতেই সে এগিয়ে এসে কুশল জিজ্ঞাসা করল।

জানতে পারলাম উনি বাংলাদেশী চট্টগ্রামের বাসিন্দা, এখানে উঠের খামারে কাজ করেন, নির্জন এই মরুভূমিতে। ঝড় থামতে দেরি হচ্ছে দেখে উনি আমাকে তার তাবুতে আমন্ত্রণ জানালেন। তাবুতে ঢুকে দেখি অন্য একজন বাংলাদেশী, বড় একটা ড্রামের নিচে আগুন লাগিয়ে রুটি বানাচ্ছেন;

আমাকে দেখে তিনি ইতস্তত হয়ে ছুটে এসে অভ্যর্থনা জানালেন। কুশলাদি বিনিময় করে বসে পড়লাম তাবুতে। শুরু হলো দুঃখ, বেদনা বিরহের গল্প। কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম, তারা মাসে একবার শহরে যান। খামার মালিক সপ্তাহে একবার এসে প্রয়োজনীয় রসদ দিয়ে যান।

হটাৎ একজনের ফোন বেজে উঠল, দেশ থেকে ফোন ;আনন্দে চোখ ছলছল তিনি ফোন নিয়ে তাবুর বাইরে চলে গেলেন, আমি অন্য জনের সাথে গল্পে ব্যাস্ত। উনি বার বার বলছিল- আজকের রাতটা থেকে যান তাবুতে, রাতের মরুভূমি দেখে যান, আমাদের এখানে সচরাচর কেউ আসে না, আপনাকে পেয়ে আনন্দ লাগছে।

ততক্ষনে অন্য লোকটি কথা শেষ করে তাবুতে ফিরলেন মলিন মুখে, মন খারাপ কেন? জিজ্ঞাসা করতেই তিনি কেঁদে দিলেন। তার মেয়ে অসুস্থ, বললেন ভাইজান পাঁচ বছর আগে দেশ থেকে আসছি।

মেয়ের বয়স চার বছরের উপর হলো এখনো মেয়েটাকে দেখতে পারিনি, কবে যে দেশে যাবো ? বলেই ডুকরে কেঁদে উঠলেন। 

কয়েক ঘন্টা হয়ে গেল ঝড় থেমে গেছে, আমি তাবু থেকে বেরিয়ে বাইরে বিস্ময়ে তাকালাম, কি শুনশান নিরবতা, অদ্ভুত এক ল্যান্ড স্কেপ। হটাৎ বুকটা হুহু করে উঠল এই ভেবে, উতপ্ত এই মরু, এ রেমিট্যান্স যোদ্ধারের ঘাম আর চোখের পানি চুষে নিচ্ছে আর বেদনা বিরহের সাক্ষী হচ্ছে। কিংবা যে ত্যাগ স্বীকার তারা করছে দেশের মানুষের জন্য, পারিবারের জন্য, তা কখনোই কি জানবে কেউ? শুধু এই উতপ্ত মরুর বালুগুলোই সাক্ষী হয়ে রইল।

  • তারেক ইসলাম, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া 

আরও পড়ুন- দেশে ফেরা ১৫ জন ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির কেউ নয়

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইকে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.