Featured ইউরোপ গ্রিস

গ্রীসের পেরামা গুহা, পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য !

শেয়ার করুন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়না, এমন মানুষ পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর তাও আবার সেটা যদি হয় দুর্লভ কোন স্থান। তাই আজ আমি আপনাদের সামনে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য হিসেবে পরিচিত পেরামা কেভের সৌন্দর্য, গঠন, আকার, আকৃতি বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

পেরামা গুহা 

পেরামা গুহাটি গ্রীসের তৃতীয় বৃহত্তম ইওয়ান্নিনা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার উত্তরে পামভতি লেকের ধারঘেঁষে অবস্থিত। এই গুহাটি প্রায় ৫ কিলোমিটার বিস্তৃত কিন্তু দর্শনার্থীদের জন্য প্রায় ১ কিলোমিটার উন্মুক্ত।

এই গুহাটির আবিস্কার নিয়ে চমকপ্রদ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪০ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় গুহার আসেপাশের গ্রামবাসী ইতালির সৈনিকদের বোমার আঘাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য ছুটোছুটি করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা এই গুহাটির সন্ধান পায় এবং সেখানে আশ্রয় নেই। এক প্রকার অলৌকিক কিংবা আশ্চর্য ভাবেই গুহাটির আবিষ্কার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে, চিত্রশিল্পী ও শারীরিক ব্যায়াম শিক্ষক কস্তান্দিনস কাসভিকিস, তার বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে পেরামা গুহায় আসেন এবং কিছু ছবি তুলেন এবং পরবর্তীতে এথেন্সের দৈনিক পত্রিকায় গুহার ছবি ও বর্ণনা দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন আর তখন থেকেই এই গুহাটির আকার, আকৃতি, জন্ম, বৈশিষ্ট্যসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।

গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে গুহাটির ১৫ লক্ষ বছর আগে নদীর তলদেশে অবস্থান ছিল কিন্তু এর জন্ম হয় প্রায় ১৬/১৮ মিলিয়ন বছর আগে। তাছাড়া ১৯৬৫ সালে গুহার ভেতরে ভাল্লুকের দাঁত ও হাড়ের সন্ধান পাওয়া যায়, পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় যে, ৬ লক্ষ বছর আগে এই গুহায় ভাল্লুকের বসবাস ছিল।

পেরামা গুহার ভেতরের প্রাকিতিক সৌন্দর্য আপনার কল্পনার জগতকেও হার মানাবে। আশ্চর্যের বিষয় হল, গুহার ভেতরে প্রাকিতিকভাবে তৈরি ক্রস চিহ্ন যা খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক। গুহার ভেতরে এই ক্রস চিহ্ন দেখে খ্রিস্টান ধর্মাম্বলীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠেন। 

এছাড়াও উপরের দণ্ড গুলো (দেখতে অনেকটা মোম বাতির মত ) বিন্দু বিন্দু পানি বরফ হয়ে গুহার ছাদ থেকে শুরু হয়ে, আসতে আসতে জমাট বেঁধে নিচের দিকে আসতে থাকে ঠিক তেমনি, নিচ থেকে বিন্দু বিন্দু পানি বরফ হয়ে আসতে আসতে জমাট বেঁধে উপরের দিকে উঠতে থাকে।

প্রতি কিউবিক সেন্টিমিটির বরফ জমতে লাগে ৬০ থেকে ৮০ বছর। গুহার ভেতরের তাপমাত্রা সবসময়ের জন্য ১৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর পানির তাপমাত্রা ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস থাকে। গুহাটি দর্শনের পর সৃষ্টি সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিবর্তন হয়ে যাবে।

দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকে। প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য টিকিট ৭ ইউরো, গ্রুপ হলে জনপ্রতি ৫.৫ ইউরো তাছাড়া ছাত্র ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ৩.৩ ইউরো।

  • মুহাম্মদ আল আমিন, গ্রীস 

আরও পড়ুন- ইউরোপের অনন্য সৌন্দর্যে ঘেরা দেশ স্লভেনিয়া

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.