Featured ইউরোপ ভ্রমণ

ইউরোপের অনন্য সৌন্দর্যে ঘেরা দেশ স্লভেনিয়া

এখানে আমি বিকলাঙ্গ পাথর তোমার সাজানো দৃশ্যে হাঁটছি গন্তব্যহীন, অনেকবার এই জায়গায় এসেছি, এই জায়গায় আসলে কেনো জানি এই গানের কথাগুলোর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি স্লভেনিয়ায়। অতিথি পরায়ণ স্লুভেনরা প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেন, যার ফলে একজন পর্যটকের সারা জীবন তাদের কথা মনে রাখাটাই স্বাভাবিক।

কোনো দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে অন্যান্য সম্পদের পাশাপাশি এ বৈশিষ্ট্য থাকা খুবই জরুরি। এ খাতে স্লভেনিয়ার লক্ষণীয় উন্নতির কারণগুলো ধরতে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যগুলো বুঝতে চেষ্টা করছিলাম।

রাজধানী লুবিয়ানা থেকে যেকোনো দিকে দেড় ঘণ্টা গাড়ি চালালেই সীমান্তে পৌঁছানো যায়। এ তথ্য থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে, দেশটি আয়তনে মোটেই বড় নয় (খুলনা বিভাগের চেয়ে একটু ছোট)। লোকসংখ্যাও একেবারে কম, গোটা দেশে ২১ লাখের মতো। সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যে কয়টি রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়, স্লোভেনিয়া এর অন্যতম।

১৯৯১ সালে স্বল্পসময়ের (১০ দিনব্যাপী) যুদ্ধে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে স্থান করে নেয়া দেশটি পর্যটন খাতে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছে। প্রতি বছর গড়ে ৪০ লাখ পর্যটক স্লভেনিয়ার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ভ্রমণ করেন।

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করা জাতি জার্মান, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর অস্ট্রিয়া, ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইতালি, সমুদ্রসৈকতের জন্য বিখ্যাত ক্রোয়েশিয়ার মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্র থাকার কারণেই সম্ভবত এ শিল্পে ইতিবাচক পরিবেশের উদ্ভব হয়েছে।

পর্যটন মৌসুমে রাজধানীসহ প্রতিটি শহর ও সমুদ্র সৈকতে থাকে উপচে পড়া ভিড়। রফতানি আয়ের ৪০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। স্লভেনিয়ার ছোট্ট রাজধানী শহরের প্রায় প্রতিটি স্থানই দর্শনীয়। বিশেষত গ্রীষ্মকালে এত বেশি পর্যটক আসেন, মনে হয় পুরো অঞ্চলে মেলা বসেছে। রাজধানীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লুবিয়ানিত্সা নদীকে কেন্দ্র করে উভয় পাশে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপনা।

ফলে অতিথিরা নৌবিহারের মাধ্যমেও নগরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। সিটি সেন্টারে অবস্থিত ঐতিহাসিক দুর্গ, ট্রিপল ব্রিজ, ড্রাগন ব্রিজ, জাতীয় বীরদের প্রতিকৃতি এবং রোমান ও যুগোস্লাভদের ঐতিহ্যভিত্তিক নগর উন্নয়ন— রাজধানীকে করেছে মনোমুগ্ধকর ও চিত্তাকর্ষক।

তদুপরি ব্যবসায়ী, ড্রাইভার, পুলিশ, বোটম্যান এমনকি সাধারণ নাগরিক, প্রত্যেকে হাসিমুখে পর্যটকদের সহযোগিতা করেন। ছবির মতো সুন্দর দেশটি দেখতে ইউরোপ-আমেরিকার পর্যটকরা নিয়মিত এলেও তাদের উল্লেখ করার মতো পর্যটনসম্পদ নেই বললেই চলে। হাতে গোনা কয়েকটি বিচ, নামকরা তিনটি গুহা আর কিছু লেক হলো তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর পর্যটকদের স্লোভেনিয়া ভ্রমণে জটিলতা নেই বললেই চলে। ইউরোপের যেকোনো দেশের ভিসাধারীরা সহজেই দেশটি ভ্রমণ করতে পারেন। তাছাড়া জার্মানি, অস্ট্রিয়া, ইতালি ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যখানে ভৌগোলিক অবস্থান হওয়ায় তারা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পায়।

প্রতিবেশী দেশগুলোয় ঘুরতে আসা ট্যুরিস্টরা দু-একদিন সময় রাখেন স্লোভেনিয়া ঘুরে দেখার জন্য।

  • সানি ভুইয়া, ইতালি 

আরও পড়ুন- প্রবাস জীবন; বিয়ের সময়ও গড়িয়ে যায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.