Featured মধ্যপ্রাচ্য সংযুক্ত আরব আমিরাত

আমিরাতের রাজকীয় প্রাসাদ কাসর আল ওয়াতান

আবুধাবি শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত রাজকীয় প্রাসাদ কাসর আল ওয়াতান সম্প্রতি সকল দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। চমৎকার স্থাপত্যশৈলিতে নির্মিত রাজকীয় এই ভবন সংযুক্ত আরব আমিরাতের তথা আরবদের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বলে মনে করা হয়।

বিভিন্ন জোনে বিভক্ত এই ভবনের দ্বার উন্মোচনের মাধ্যমে বহিঃবিশ্ব ও ভ্রমন পিপাসু সকলের জন্য আরব বিশ্বের ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টি হলো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। আসুন আমরাও কিছুটা বিশদ জেনে নেই রাজকীয় এই প্রাসাদ সম্পর্কে।

দ্যা গ্রেট হল

১০ হাজার স্কয়ার মিটারের দ্যা গ্রেট হল নামের কক্ষটি কাসর আল ওয়াতানের সবচেয়ে বড় কক্ষ। বর্গাকৃতির এই রুমটির আয়তন দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে ১০০ মিটার। চমৎকার নির্মাণ শৈলীতে ভরপুর এই রুমটির স্থাপত্যের সৌন্দর্যকে আরো ফুটিয়ে তুলেছে।

রুমের গ্রাউন্ড লেভেল থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে স্থাপন করা হয়েছে ৩৭ মিটার ব্যাসের বিশাল একটি গম্বুজ। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম গম্বুজের একটি। গ্রেট হলের ভিতরে চারকোনে স্থাপন করা চারটি আয়নাযুক্ত কিউব এই রুমটির স্থাপত্যশৈলীর উন্নত রুচির পরিচয় সম্পর্কে ধারনা দেয়।

স্পিরিট অব কোলাবরেশন হল

স্পিরিট অব কোলাবরেশন নামের এই হলটি মূলত রাজকীয় মিটিং রুম। এই হলটির মধ্যখানে লাগানো রয়েছে ১২ টন ওজনের একটি ঝাড়বাতি, যেটার সৌন্দর্য বর্ধনে ব্যবহার করা হয়েছে সাড়ে ৩ লক্ষ পৃথক পৃথক ক্রিস্টালের টুকরা।এই হলটি ফেডারেল সুপ্রীম কাউন্সিলের মিটিংয়ের পাশাপাশি আরব লীগ, উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিল এবং ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সংগঠনগুলির বৈঠক ও শীর্ষ সম্মেলনের সভায় হোস্ট করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।

দ্যা প্রেসিডেন্টাল বানকুয়েট

রাস্ট্রীয় অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য লক্ষাধিক কাষ্টমাইজ ডিজাইনের সিলভার, ক্রিষ্টাল দিয়ে সাজানো রাজকীয় ভোজনশালা এইটি। বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত রাজকীয় অতিথিরা এখানে আরব ঐতিহ্যের সু্স্বাদু রান্নার রাজকীয় আথিতেয়তা গ্রহন করেন।

আমিরাতের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলো ও জোটের প্রতিনিধিরা এখানেই আমিরাতি আতিথেয়তা গ্রহন করেন।

হাউজ অফ নলেজ

এখানে দর্শনার্থীরা আরব বিশ্বের ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান, মানব সভ্যতা এবং অগ্রগতির জন্য আরবদের প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবেন। পবিত্র কুরআনের প্রাচীনতম একটি পান্ডুলিপির পাশাপাশি এখানে হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিগুলির আকর্ষনীয় সংগ্রহও রয়েছে এখানে। যেগুলো আরব অঞ্চলের জ্যোতির্বিজ্ঞান, বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য এবং আরও আরব অঞ্চল বিষয়ে জানার জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

কাসার আল ওয়াতান লাইব্রেরি   

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কিত প্রায় ৫০ হাজার বই রয়েছে এই সুবিশাল লাইব্রেরিতে। ভিজিটর সেন্টারে গিয়ে শুধু নিবন্ধিত হলেই বিনামূল্যে বিশাল সংগ্রহের যেকোন বই পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বইয়ের পাশাপাশি এই লাইব্রেরিকে সমৃদ্ধ করতে রাখা হয়েছে। গত ৩৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত ও বহুল পঠিত সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি বিভিন্ন পত্রিকা, প্যাফলেট এবং সাময়িকীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি। এছাড়া লাইব্রেরির ডিজিটাল কালেকশানেও রয়েছে ১৬ মিলিয়নেরও বেশি আইটেম, আরব আমিরাতের আবুধাবির প্রদেশের যেকোন স্থান থেকে অনলাইনে অ্যাক্সেস করার সুযোগ রয়েছে।

প্যালেস ইন মোশন

বিল্ডিংয়ের সম্মুখ প্রান্তের বিশাল জুড়ে দেয়াল প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ১৫ মিনিট দৈঘ্যের একটি সাউন্ড এবং লাইট শো প্রদর্শিত হয়। যেখানে মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের যাত্রার প্রতিফলন দেখানো হয়। সূর্যাস্তের সাথে মিলিয়ে এই লাইট ও সাউন্ড শো টি করা হয় বলে এর প্রদর্শনের সময়ও পরিবর্তনশীল, অবশ্য পবিত্র রমজান মাসে এই শো এর প্রদর্শন বন্ধ রাখা হয়।

প্রবেশমূল্য ও গাইড

প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য এর প্রবেশমূল্য ৬০ দেরহাম। তবে যাদের বয়স ১৭ বছরের কম তাদের জন্য প্রবেশ মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৩০ দেরহাম। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন জোনে গাইড রয়েছেন যারা ইংরেজি, আরবি, ম্যান্ডারিন, কিংবা রাশিয়ান ভাষায় ব্রিফ করেন।

  • মোহাম্মদ জাহেদ, প্রবাস কথা, সংযুক্ত আরব আমিরাত 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.