Featured এশিয়া

মালদ্বীপে এক বন্দী প্রবাসীর প্রথম রমজান

মালদ্বীপ আসার আট মাসের মাথায় প্রথম রমজান মাস পেলাম, যেহেতু রেস্টুরেন্ট কাজ করি সেজন্য লম্বা সময় কাজ করতে হতো। কোন ছুটি ছিলো না মাসে, আর এটা নিয়ে মনে অনেক ক্ষোভ আর কষ্ট ছিলো। যখন রোজার মাস এলো তখন একটু বিশ্রাম পেলাম, মানে রোজার মাসে সারাদিন রেস্টুরেন্ট বন্ধ, শুধু ইফতারের পর থেকে রাত একটা পর্যন্ত কাজ ছিলো।

সেখানে খাবার দিতো না ঠিক মতো, মালিক খুবই খারাপ আর বাজে ব্যবহার করতো। রোজার মাস অতচ এক কেজি মাছ বা একটা মুরগী, বা গরুর গোশত, শাক সবজি কিছুই কিনে দেয় না, শুধু আলু আর ডিম, নুডলস খেয়ে কি রোজা থাকা যায়! ইফতারে কোন কিছু নেই, ভাত আর পানি- চিনি মিশিয়ে ভাত দিয়ে ইফতার করেছি।কি যে কষ্ট আর,কান্না পেত দেশের কথা মনে করে, মায়ের হাতে কতো সুস্বাদু খাবার খেতাম আর প্রবাসে এতটা করুন অবস্থা মেনে নিতে পারছিলাম না।

রাত্রে তারাবী ও এশা নামাজের জন্য সময় দিতো না, আর রোজার মাস হওয়ায় বেচাকেনা কম ছিলো, শুধু কফি ও জুস বিক্রি হতো, তাই দেখা যেত, হোটেল বন্ধ করার সময় চার বা পাঁচ হাজার রুফিয়া হতো, আর এই অল্প টাকায় মালিক সন্তুষ্ট হতো না, সন্দেহ করতো আমরা চুরি করে টাকা রেখে দেই। এটা নিয়ে প্রায় কথা কাটাকাটি হতো।

এদিকে বেতন জমা হয়ে গেছে তিন মাসের দেয়ার নাম নেই, বেতন না পাওয়াটা ছিলো সবচেয়ে কষ্টের, এ দিকে আরেকজন একটু উগ্র ধরনের ছিলো, সে ঝগড়াঝাটি বেশিই করতো মালিকের সাথে তাই মালিক তাকে বেতন না দিয়েই দেশে পাঠিয়ে দিলো, আমি ভয়ে আর কিছু বলিনা, ব্যাংক ঋণের বোঝা, যদি দেশে পাঠিয়ে দেয়! চিন্তা করলাম পালিয়ে যাবো,

তাই রোজার পনের তারিখে সাগরে ভাটার সময় আধা কিলোমিটার দূরে তিনাধু শহরে সাতার কেটে চলে এলাম,নিজেও জানিনা কি ভাবে এতটা দূর পর্যন্ত সাতার কেটে চলে এসেছিলাম, এক কাপড়ে, সাথে মোবাইল আর মানিব্যাগ।

শহরে এসেছি যখন তখন ভোর হয়ে গেছে,প্রায়,দ্বীপের এক পাশে নিরিবিলি জায়গায় বসে নিজের জামা কাপড় পানি ঝড়িয়ে পলিথিন ব্যাগে থাকা গামছা বেড় করে শুকিয়ে নিলাম। পরে জেটির দিকে এসে অজানা এক জাহাজের  টিকিট কিনে নিলাম, জাহাজে উঠে পেছনের দিকে চুপচাপ বসে রইলাম, বেলা বারোটায় জাহাজ ছেড়ে বিভিন্ন দ্বীপে ঘুরেফিরে অনেক দূরে কলামাফশি নামের এক দ্বীপে যাত্রা শেষ করে দিলো।

সেখানে পৌঁছে  ইফতারের সময় হয়ে গেল, বলা বাহুল্য মালদ্বীপের সকল মসজিদে ফ্রি ইফতার দেওয়া হয়,স্থানীয় লোকজন প্রতিদিন ইফতার দেয় মসজিদে। উপায় না দেখে মসজিদে ইফতার করে নামাজ শেষে একজন বাংলাদেশের লোককে ডেকে বিস্তারিত বলাম, তাঁর নাম নাজমুল বাড়ি নোয়াখালী, তিনি যথেষ্ট সাহায্য করলেন,একটা কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন, আর বললেন মোবাইলের সিম কার্ড ফেলে দিতে। তাই করলাম, সেই দ্বীপে বাকি পনের রোজা ও ঈদের দিন নামাজ শেষে আরেক জাহাজে করে রাজধানীতে মালেতে চলে এলাম।

এটা ছিলোনা আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে সময় ও করুন অবস্থা। আলহামদুলিল্লাহ এই  রমজানে অনেক ভালো সময় কাটাচ্ছি।

  • কাইয়ুম ইসলাম, উমাধু আইল্যান্ড, মালদ্বীপ 

আরও পড়ুন- মন্ট্রিলের একাল সেকাল এবং বাংলাদেশীদের উত্থান

প্রবাস কথা আপনাকে নিয়ে যাবে, দুনিয়ার সকল প্রান্তের প্রবাসীদের কাছে। প্রবাসীদের সব খবর জানতে, প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.