Featured এশিয়া ভারত

১৪৪ ধারা ভেঙ্গে রাজপথে কাশ্মীরের জনগণ

বিগত বেশ কিছুদিন ধরে উত্তাল ভারতের কাশ্মীর। কাশ্মীর সংকট বরাবরই ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও নতুন করে এই আগুনে ঘি ঢেলেছে সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল। এই ঘোষণার পর পরই ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত এবং পুরো বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয় কাশ্মীরকে। মানবিকতার এমন চরম সংকটে পিছিনে নেই এই কাশ্মীরি জনগণ। অবরুদ্ধ উপত্যকায় বসবাস করেও প্রতিবাদ করছেন কাশ্মীরের মানুষেরা।

কাশ্মীরের কয়েকটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর কারফিউ ভেঙ্গে শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিক্ষুদ্ধ কাশ্মীরিরা। বিক্ষোভে পুরুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণও ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকতা জানিয়েছেন,

৩৭০ ধারা বাতিলকে কেন্দ্র করে কারফিউ জারির পর থেকে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। এতে ১০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। তবে ভারত সরকার বিক্ষোভের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

এই বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীরা কালো পতাকা বহন করেছে। সেই সাথে ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’ এবং  ‘৩৭০ ধারা বাতিল মানি না’  লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে তারা স্লোগান দিতে থাকে।

এই ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছুড়েছে দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী। ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে আহত শতাধিক মানুষকে শ্রীনগরের হরি সিংহ হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

শ্রীনগরের সাওরা এলাকার একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন,

ভারতীয় বাহিনীর আক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেক নারী পানিতে ঝাঁপও দিয়েছেন।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে কাশ্মীরের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘোষণাকে সামনে রেখে কাশ্মীরের ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

এই মুহূর্তে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিশ্বের সবচেয়ে সামরিকীকৃত এলাকায় পরিণত হয়েছে। সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী ও পুলিশ সদস্য মিলিয়ে সেখানে ৭ লক্ষাধিক নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী কারাগার বানানো হয়েছে হোটেল, গেস্ট হাউস, সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবনকে। কাশ্মীরের পুরো উপত্যকাটি যেন পরিণত হয়েছে একটি কারাগারে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.