Featured অভিবাসন ইউরোপ স্পেন

স্পেনের রেসিডেন্ট কার্ডের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও কিছু কথা

স্পেনে আপনি রেসিডেন্ট কার্ড অথবা স্প্যানীশ জাতীয়তার জন্য কাগজ জমা দিতে গেলেই, আপনাকে অবশ্যই প্রমাণ দেখাতে হবে, যে আপনি একজন নিরপরাধ লোক অথবা আপনার উপর কোন মামলা সংক্রান্ত ঝামেলা নেই। সেই কারণে এই দুটি কাজের জন্য দেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট আনা খুবই জরুরী হয়ে পড়ে।

আর এই কাজটি জরুরী হওয়াতে এখানের প্রবাসীরা অনেক ঝামেলার মধ্যে পড়ে যান। তখন তারা বিভিন্ন মাধ্যম খোঁজেন এবং অনেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হন।

কিভাবে দেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আনবেন?

আপনাকে প্রথমে স্পেনের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে একটি আবেদন পত্র ২৫ ইউরো ফি জমা দিয়ে সত্যায়িত করে নিতে হবে। এই আবেদনে বাংলাদেশে আপনার একজন প্রতিনিধির নাম উল্লেখ করতে হবে।

এই আবেদনের কপি, সোনালী বাংলাদেশ ব্যাংক হতে পাঁচশত টাকার চালান রশিদ, পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করে সচিব,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর সরাসরি অথবা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের এক সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদান করবে। পরবর্তীতে আপনি সেই সার্টিফিকেট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে স্পেন দূতাবাসে লিগালাইজেশনের জন্য জমা দিতে হবে।

এ বছরের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে স্পেনের কনস্যুলেট অফিস নতুন একটি নিয়ম চালু করেছে সেটা হলো- আপনার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লিগালাইজেশন করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশে আপনার পরিচিত কাউকে প্রতিনিধি করতে হবে। আর তার জন্য আপনাকে লিগেলাইজেশনের কারণ উল্লেখ করে একটি আবেদন করতে হবে।

তাছাড়া স্প্যানীশ নোটারাইজড একটি কাগজ আপনার প্রতিনিধিকে প্রদান করতে হবে, যেখানে সেই প্রতিনিধির নাম এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার অথবা পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখ থাকতে হবে। ঐ ব্যক্তি কোন সরকারী ছুটি ব্যতিত যেকোন বৃহস্পতিবার নিজে উপস্হিত হয়ে লিগেলাইজেশনের জন্য জমা প্রদান করবেন তার পরবর্তী বৃহস্পতিবার গিয়ে ঐ লিগেলাইজেশনের কপি সংগ্রহ করবেন।

লিগালাইজেশনের জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর পাসপোর্ট অথবা রেসিডেন্ট কার্ডের ফটোকপি এবং উপস্হাপনকারী ব্যক্তির পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সঙ্গে দিতে হবে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স অবশ্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে ইস্যুকৃত এবং এর মূলকপি জমা দিতে হবে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রসঙ্গে কিছু কথা

স্পেন দূতাবাসে লিগালাইজেশনের জন্য যে প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে নোটারী বাবদ এখানে ৭০ থেকে ৮০ ইউরো নোটারী উকিলকে প্রদান করতে হয়। বাংলাদেশের স্পেন দূতাবাস থেকে আবেদনের যে সত্যায়িত কপি প্রয়োজন সেখানেও ২৫ ইউরো ফি জমা দিতে হয়।

তারপর দেশে যাওয়ার মতো লোক পেলে ভাগ্য ভালো নতুবা এই কাগজ গুলো দেশে পাঠাতে আরো ৬০ থেকে ৭০ ইউরো খরচ পড়ে যায়। এর চেয়েও বড় সমস্যায় আমরা প্রবাসীরা পড়ি, সেটা হলো- প্রতিনিধি প্রদান করা নিয়ে। কারণ অনেকের নিজস্ব কোন আত্নীয়-স্বজন দেশে না থাকা তারপর অনেকে এসব ব্যাপার গুলো বুঝে উঠতে না পারা এর বড় কারণ।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আনতে গিয়ে এই অতিরিক্ত ইউরো গুণা এবং প্রতিনিধি প্রেরণসহ নানামূখী সমস্যায় পড়েন এখানের প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এই সমস্ত সমস্যা এড়াতে পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন অবৈধ পন্হা অবলম্বন করতে গিয়ে আরও বেশি বিপদের সম্মৃখীন হন।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে বেশি সমস্যার সম্মূখীন হই আমরা স্পেন প্রবাসীরাই। এজন্য আমি এখানের কমিউনিটির সবার স্বার্থে স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতসহ সকল কর্মকর্তাদের অনূরোধ করছি আপনারা আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে চিন্তা করে দেশের স্বার্থে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট যদি আপনাদের মাধ্যমে আনার ব্যবস্হা করেন তাহলে স্পেনের প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেরকম উপকৃত হতেন তেমনি আমার দেশের সরকারও উপকৃত হতো।

  • সাইফুর রহমান, মাদ্রিদ, স্পেন 

আরও পড়ুন- কুয়েতে দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যু

কুয়েতে দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশীর মৃত্যু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.