Featured রঙ্গের দুনিয়া সুস্থ থাকুন

সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি; অজান্তেই যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা প্রায় সবাই এসব মাধ্যমে নিজেদের একাউন্ট তৈরি করেছিলাম অবসর সময় কাটানোর জন্য। কিন্তু পক্ষান্তরে দেখা যায়,আমাদের দৈনন্দিন কাজই এখন অবসর সময়ে চলে গেছে আর দিনের বেশিরভাগ সময় আমরা কাটাচ্ছি এই মাধ্যমগুলোতে। বাস্তব জীবনকে এড়িয়ে ঠিক কতটুক যৌক্তিকতার সাথে আমরা ভার্চুয়াল জীবনে সময় ব্যয় করছি সেটিই এখন ভাব্বার বিষয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
এই সোশ্যাল মিডিয়া এডিকশন আসলে কী?
ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের সাথে আমরা সবাই ই কমবেশি পরিচিত। আমরা প্রতিদিনের প্রয়োজনে এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা দোষের কিছু না। কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় যখন দেখা যায় আপনি দৈনিক ৬-৭ ঘন্টা বা তার অধিক সময় এই মাধ্যমগুলোতে ব্যয় করছেন।
আপনি হয়তো জানেন না, একজন সুস্থ মানুষ গড়ে ৭৫ বছর বেঁচে থাকে। অর্থাৎ তার জীবনের আয়ুকাল মাত্র ৬৫৭০০০ ঘন্টা। আপনি যদি প্রতিদিন গড়ে ৬ ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়া ‘স্টক’ করেন, তাহলে দেখা যায়, ৭৫ বছরে আপনি আপনার জীবনের প্রায় ২০ বছরের সমপরিমাণ সময় অপচয় করেছেন।
আসক্তির পিছনে রয়েছে ফেসবুক এবং টুইটার
সারাবিশ্বে ২০০ কোটি এরও অধিক মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। আপনিও তাদের মধ্যে অন্যতম। প্রায় ১২ কোটি টাকা একজন ইউজারের মাধ্যমে ফেসবুকের প্রতি মাসে আয় হয়। ১২ কোটির সাথে ২০০ গুণ করলেই হিসাব পেয়ে যাবেন যে আপনার সময়ের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করছে একটি ৩য় মাধ্যম। এখন কি একটু নড়েচড়ে বসেছেন? এটি শুধুমাত্র ফেসবুকের হিসাব তাও সামান্য এদিক সেদিক হতেই পারে! ঘন্টার পর ঘন্টা যে ইউটিউবে ব্যয় করছেন, সেই হিসাব নাহয় আপনিই বের করে নিতে পারবেন।
যেভাবে বুঝবেন আপনি এ মাধ্যমগুলোতে ‘এডিকটেড’
জেনে বুঝে আমাদের মধ্যে অনেকেই বলে বসে ‘আর যাই হোক আমি এডিকটেড না’। অথচ বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। যে লক্ষণগুলো দেখে বুঝতে পারবেন তা হলো-
  • যদি আপনি প্রতি ৫ মিনিট বা তারও কম সময় পর পর ফেসবুক, টুইটার বা ইন্সটাগ্রামে প্রবেশ করেন শুধুমাত্র নোটিফিকেশন নজরে আনতে।
  • বাসায় বা অফিসে বিদ্যুৎ অথবা ওয়াইফাই না থাকলে আপনার খুবই অস্বস্তি লাগে।
  • সব সময় ‘আপডেট’ দিতে থাকেন, কোথায় গেছেন, কি করছেন ইত্যাদি।

    আমাদের বেশিরভাগ সময় ব্যয় হয় এই সামাজিক মাধ্যমগুলোর পেছনে
  • কারোর বাস্তব জীবনের চাইতে ভার্চুয়াল জীবনের প্রতিই আপনি বেশি আগ্রহ দেখান।
  • ফেসবুক বা এসব মাধ্যমের যেকোনো জিনিস ভাবতে ভাবতে আপনি আপনার বাস্তব জীবনের অধিকাংশ সময় নষ্ট করেন।
  • আপনার দৈনন্দিন জীবনের সকল আলোচনা এসব ভার্চুয়াল জীবন কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।
  • আপনি কোনো স্মৃতি ধরে রাখার উদ্দেশ্যে না, বরং অন্যকে দেখানোর জন্যই আপনার প্রোফাইলে অনেক ছবি বা লিখা পোস্ট করেন।
  • আপনি অন্যের ভার্চুয়াল জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করেন।
  • আপনার ফোন নষ্ট হয়ে গেলে বা কোনো কারণে এসব মাধ্যমে প্রবেশ করতে না পারলে আপনার মেজাজ খিটখিটে থাকে, আপনি বাস্তব জীবনে খাপ খাওয়াতে পারেন না।
  • সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর প্রথম কাজ আপনার হয় ফেসবুকে ঢুঁ মারা।

    এই আসক্তি থেকে মুক্তি লাভ খুব সহজ নয়
  • অনেক সময় উপলব্ধি করেন প্রায় ঘন্টা দুয়েক বা তার অধিক সময় ধরে আপনি শুধু ফেসবুক ‘স্ক্রল’ই করে গেছেন, কোনো বিশেষ কারণ ছাড়া।
  • আপনি বাইরে ঘুরতে বের হোন, বা বন্ধুবান্ধব অথবা পরিবারকে সময় দেন শুধুমাত্র ফেসবুকে বা ইন্সটাগ্রামে ভাল কিছু ছবি পোস্ট করার জন্য।
  • আপনি ভার্চুয়াল জীবনে নিজেকে পরিবর্তন করে প্রকাশ করেন। খোলাসা করে বললে, বাস্তব জীবনে আপনি খুবই গম্ভীর প্রকৃতির, অথচ ভার্চুয়াল জীবনে আপনি খুবই হাসিখুশি। এমন অবস্থা দাঁড়ালে বুঝতে হবে, আপনার জীবনের ভাল দিকের অনেকটাই আপনি নিজ হাতে ধ্বংস করে দিচ্ছেন এবং মেকি বা নকল জিনিসে সময় অপচয় করছেন।
  • সবশেষে, আপনি খাওয়া, দাওয়া, ঘুম, পরিবারকে সময় দেওয়া, লেখাপড়া, অফিসের কাজ ইত্যাদির উর্ধ্বে গিয়ে এসব মাধ্যমে সময় ব্যয় করছেন, কিন্তু সত্যিকার অর্থে ভাল কাজের জন্য আপনার কোনো সময় অবশিষ্ট নেই।
উপরের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেলেই বুঝতে পারবেন আপনি আসলেই সোশ্যাল মিডিয়া তথা ভার্চুয়াল জীবনের প্রতি আসক্ত। এখন অবশ্যই আপনাকে সচেতন হতে হবে এবং নড়েচড়ে বসতে হবে। কেননা এই আসক্তি খুব সহজে তৈরি হলেও খুব সহজে এ থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। আগামী লিখায় এই আসক্তি থেকে মুক্তি লাভের কিছু সহজ উপায় জানিয়ে দেওয়া দেওয়া হবে।
  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.