Featured রঙ্গের দুনিয়া

গবেষণা বলছে ডিপ্রেশনের পেছনে দায়ী সোশ্যাল মিডিয়া!

শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হোমপেজ স্ক্রল করা কিংবা টেলিভিশনের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার সাথে ডিপ্রেশনের যোগসূত্র আছে বলে জানিয়েছে একটি নতুন গবেষণা। ‘জার্নাল অব অ্যামেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (JAMA) নামক পত্রিকা সম্প্রতি জানিয়েছে এই তথ্য।

এই পত্রিকার তথ্য মোতাবেক প্রতি ১ ঘন্টা অতিরিক্ত সময় কোনো তরুণ যদি টেলিভিশন দেখা কিংবা মুঠোফোনের স্ক্রিনে ব্যয় করে তবে তার মধ্যে ডিপ্রেশনের লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়ার বেশি সম্ভাবনা দেখা দেয়।

গবেষণা মতে এও জানানো হচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিপ্রেশনের মাঝে যে যোগসূত্র রয়েছে তাতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে যায়। অর্থাৎ ডিপ্রেশনের বিবেচনায় কমবয়সী ছেলেদের চাইতে মেয়েরাই বেশি এগিয়ে।

কিভাবে করা হয়েছে এই গবেষণা?

এই গবেষণার জন্য কানাডার ৩১ টি স্কুলের একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া ৩৮২৬ জন শিক্ষার্থীকে বেছে নেওয়া হয়। ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই শিক্ষার্থীদের আচার-আচরণ, ব্যবহার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই পর্যবেক্ষণের একটি অন্যতম বিষয় ছিল এই শিক্ষার্থীদের ‘স্ক্রিনটাইম’ বা মুঠোফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশনের স্ক্রিনে ব্যয় করা সময়ের হিসাব।

তবে এই স্ক্রিনটাইমের হিসাবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কম্পিউটারে গেম খেলা, মুঠোফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা কিংবা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকার হিসাব তুলে ধরা হয়। এই হিসাব-নিকাশ মূলত প্রতিদিনের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

ডিপ্রেশনেরও হিসাব-নিকাশ সম্ভব?

এই গবেষণার একটি অন্যতম বিশেষ দিক হলো এখানে মাপা হয়েছে ডিপ্রেশনের মাত্রা। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের সার্বিক আচরণের ভিত্তিতে ডিপ্রেশনকে ভাগ করা হয় ০ (সর্বনিম্ন) থেকে ৪ (সর্বোচ্চ) পর্যন্ত। মূলত একাকিত্ব, মন খারাপ, হতাশা, বিষাদ ইত্যাদির বিবেচনায় শিক্ষার্থীরা তাদের ডিপ্রেশনের মাত্রাকে নম্বর দিয়েছেন।এভাবে ০ থেকে ৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সংখ্যার মাধ্যমে তারা নিজেদের ডিপ্রেশনের মাত্রাকে প্রকাশ করেছে।

এক্ষেত্রে দেখা গেছে যেসব শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের সামনে ব্যয় করে তাদের ডিপ্রেশনের মাত্রা ৪ কিংবা ৪ এর খুব কাছে। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী স্ক্রিনের সামনে সময় ব্যয় করার পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে নিজেদের সময় কাজে লাগিয়েছে তাদের ডিপ্রেশনের মাত্রা খুবই নগন্য।

ডিপ্রেশনের পেছনে দায়ী এই অ্যাপগুলো

কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন’ এর সাইক্রিয়াটিস্ট ডক্টর মাইকেল ব্লুমফিল্ড বলেছেন,

“অল্পবয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই সময়টাতেই তাদের মস্তিষ্ক এবং চিন্তা-চেতনা গঠিত হয়। এই অল্প বয়সের যদি ডিপ্রেশনের বেড়াজালে একবার কেউ পেঁচিয়ে যায় তবে সারাজীবন তাকে এই বোঝা বয়ে বেড়াতে হতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর মধ্যে ইন্সটাগ্রাম সবচেয়ে বেশি ডিপ্রেশনের কারণ। যদিও এই সোশ্যাল মিডিয়াগুলো তরুণদের বন্ধুবান্ধবদের সাথে মিলেমিশে থাকতে সাহায্য করছে, তবুও এই মাধ্যমগুলো অতিরিক্ত ব্যবহারে করা হচ্ছে নিষেধ।

এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের উপদেশ হলো ঘুমের অন্তত এক ঘন্টা পূর্বে স্ক্রিনের সামনে থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা। এছাড়া চার্জিং পয়েন্ট বিছানার পাশে তো দূরের কথা, বেডরুমে রাখাও উচিত নয়, কেননা এতে মনোযোগ বিঘ্নিত হয় সবচেয়ে বেশি।

ডিপ্রেশনে চলে যাননি তো?

ডিউক ইউনিভার্সিটির এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডক্টর গ্যারি মাস্লো এর মতে,

“এই যুগে এসেও অবশ্যই আপনার একটি এলার্ম ক্লকের প্রয়োজন। কারণ একটি ফোন আপনার এলার্মের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আপনার ঘুম নষ্ট করতেও কাজ করে যাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন,

“সোশ্যাল মিডিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি আপনার জীবন থেকে বাস্তব জীবনের অস্তিত্ব কেড়ে নিতেও সক্ষম। তাই খুব সাবধান, কেননা এটি আপনার জীবনের ‘সুইট স্পট’ গুলোকেই কেড়ে নিতে আগ্রহী।”

বিশেষজ্ঞদের সবাই-ই স্ক্রিনটাইম কমানোর বিষয়ে একমত। তাদের মতে, এই সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমিয়ে যদি বাস্তব জীবনে একটি বেশি সময় দেওয়া যায় তবে ডিপ্রেশন থেকেও বেঁচে থাকা সম্ভব।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.