Featured বাংলাদেশ থেকে

সুন্দরবনে আঘাত হানতে শুরু করেছে ‘বুলবুল’

শেয়ার করুন

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ধীরে ধীরে নিচ্ছে ভয়াবহ রূপ। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে এই ঘূর্ণিঝড় মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে আজ (শনিবার) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের কাছ দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। ঝূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ আঘাত হানতে শুরু করেছে। দুবলার মাঝেরচর থেকে জেলেরা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ১০/১৫মিনিট ব্যাপী ঝড়োবাতাস বয়ে গেছে।

দুবলা ফিশার মেন গ্রুপের হিসাব রক্ষক ফরিদ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে সিডর এভাবেই প্রথমে আঘাত হেনেছিল এবং বিকাল থেকে তা প্রায় ২০০ কিলোমিটার গতিবেগে দুবলার চরের জেলে পল্লী গুলো তছনছ করে দেয়। সিডরের মতই বুলবুলের গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শনিবার বিকেল ৪টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত আবহাওয়া অধিদফতরের উপ-পরিচালক আয়েশা খাতুন সংবাদ সম্মেলন করে এই ঝড়ের সর্বশেষ তথ্য জানান।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেও বুলবুলের কারণে সবচেয়ে ক্ষতি বাংলাদেশেই হতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

আয়েশা খাতুন জানান, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিসহ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

অতি প্রবল এই ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আয়েশা খাতুন আরও বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উত্তর-উত্তরপূর্ব দিক থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার/ঘণ্টা বেগে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।গ

এদিকে মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বুলবুলের প্রভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারে চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতাভুক্ত থাকবে।

  • প্রবাস কথা ডেস্ক
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.