Featured এশিয়া বিনোদন সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের মিউজিক ব্যান্ড ‘ড্রিমস এরাইভড’

মিউজিককে বলা হয় ভগ্ন হৃদয়ে মেডিসিন৷ কর্মক্লান্ত দিনশেষে সবাই চায় একটু মিউজিক যা তার ক্লান্তি দূর করে চঞ্চলতা ফিরিয়ে আনে৷ মন খারাপ থাকলেও অনেকে মিউজিক শুনে মনটাকে ভালো করার চেষ্টা করেন৷ আর বাংলাদেশে যেকোন অনুষ্ঠানে মিউজিক ছাড়া তো চলেই না। এখন মিউজিক ভালবাসে না এমন লোক খুজে পাওয়া খুবই দুস্কর৷

আর সেটা যদি হয় রক ঘরনার মিউজিক তাহলে তো কথাই নেই৷ রক ঘরনার মিউজিকের বিশেষত্ব হলো, এর গিটার, ড্রামসের শব্দে মানুষকে আমোদিত করে। সিঙ্গাপুর বহুজাতিক দেশ৷ এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশীর বাস৷ সিঙ্গাপুরে রাষ্টীয় ভাষা চারটি- মালয়, তামিল, চাইনিজ ও ইংরেজি।

এত ভাষার মাঝেও বাংলা ভাষার গান যখন কোন অনুষ্ঠানে শুনি তখন আনন্দিত হই৷ আর অভিবাসী বাংলাদেশীদের বাংলা গান শুনানোর জন্য সিঙ্গাপুরে গড়ে উঠে কয়েকটি মিউজিক ব্যান্ড৷ আর কয়েকটি মিউজিক ব্যান্ডের মধ্যে একটি হলো ড্রিমস এরাইভড৷ কতিপয় বাংলাদেশী অভিবাসী যুবক মিলে গড়ে তুলেছেন রক ঘরনার মিউজিক ব্যান্ড ড্রিমস এরাইভ।

আমি কয়েকবার ড্রিমস এরাইভড এর গান শুনেছি৷ যতবার শুনেছি ততবার তাদের গানে মুগ্ধ হয়েছি৷ প্রথম পেঞ্জুরু রিক্রিয়েশন সেন্টারে তারা যৌথভাবে মাইগ্রেন্ট ব্যান্ডের সাথে মিউজিক শো করে। সেখানে তারা তাদের অসাধারণ গিটার পারফরম্যান্সে উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ হয়৷

গান পরিবেশন করছেন ড্রিমস এরাইভড ব্যান্ড

সিঙ্গাপুরে কর্মক্লান্ত দিনের পর সপ্তাহে একদিন তারা পেঞ্জুরু রিক্রিয়েশন সেন্টারে মিলিত হয় রুটিন প্রাকটিসের জন্য৷ তারা সপ্তাহে কাজে ব্যস্ত থাকলেও এইদিনটি তাদের চেহারায় খুশির আভা ফুটে উঠে৷ শুধু মিউজিকের প্রতি ভালবাসার কারনেই তাদের সবাইকে একত্রিত করে। আমি কয়েকবার তাদের প্রাকটিসে উপস্থিত হয়েছি৷ আমি দেখেছি মিউজিক করার সময় তাদের চোখমুখে খুশির জোয়ার৷

কয়েকমাস আগে মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার সিঙ্গাপুর রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর স্মরনে আয়োজন করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সেখানে তারা রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর গান পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের বিনোদিত করে৷ গত ২৫ শে আগষ্ট সিঙ্গাপুরে আউয়াল আর্ট সেন্টারে মাইগ্রেন্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রিমস এরাইভড সঙ্গীত পরিবেশন করে। সেখানে তাদের গান শুনে উপস্থিত দর্শকরা করতালিতে মুখরিত করে রাখে৷

ড্রিমস এরাইভ এর কর্নধার গিটারিস্ট ও ভোকাল রাহাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আর আমার বন্ধুরা মূলত রক ঘরনার মিউজিক খুব ভালোবাসি৷ কিন্তু আমাদের আগের মিউজিক দল সবধরনের গান পরিবেশন করত৷ যার কারনে একসময় আমি বাধ্য হয়ে সেই মিউজিক দল থেকে বের হয়ে আসি ৷ আমার সাথে ফারহান, সোহেল, বিল্লাল, নেপি ও লিওন সহ আরো অনেকে সে দল ছেড়ে দেয়। আমরা সিদ্ধান্ত নেই নতুন এক ব্যান্ড তৈরি করব এবং শুধু রক গান করবো৷ এ থেকেই শুরু হয় ড্রিমস এরাইভ এর পথ চলা।

এই বাংলাদেশি আরও বলেন, আমাদের সকলের একসময় স্বপ্ন ছিলো রক মিউজিক করব৷ কিন্তু প্রবাস জীবনে এসে আমাদের এই স্বপ্ন পূরন হবে তা আমাদের জানা ছিল না। ড্রিমস এরাইভড ব্যান্ডের নামের আইডিয়া আসে ফারহানের কাছ থেকে। পরবর্তীতে সকলের মতামতে চূড়ান্ত হয় ব্যান্ডের নাম ‘ড্রিমস এরাইভড’৷

ড্রিমস এরাইভড ব্যান্ডের সদস্যদের সাথে লেখক।

আর এভাবেই শুরু হয় সিঙ্গাপুরে রক মিউজিক ব্যান্ড ড্রিমস এরাইভড। ড্রিমস এরাইভড দর্শকদের ভালোবাসায় আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে চায়৷ তিনি আশা প্রকাশ করেন, আরো প্রাকটিসের মাধ্যমে তারা তাদের ভুলগুলো শুধরে আরো ভালো গান পরিবেশন করবেন৷

বিদেশের মাটিতে রক মিউজিক করার কারন জানতে চাইলে গিটারিস্ট ও ভোকাল ফারহান রেজা এবং ড্রামার সোহেল বলেন, ড্রিমস এরাইভড এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশে রক মিউজিক সম্পর্কে পরিচিত করে দেওয়া। বাংলাদেশে যেসব লিজেন্ডারি ব্যান্ড গুলাও আছে যেমন- রকস্ট্রাটা, ওয়ারফেইজ, এলআরবি,মাইলস মূলত তাদের থেকেই আমাদের মূল অনুপ্রেরণা টা আসে৷

তারা আরও জানান, এখন আমরা সবাই শিখছি, আরও অনেককিছু শেখার আছে৷ সবাইকে বাংলাদেশের রক মিউজিকের ইতিহাস সম্পর্কে চিৎকার করে বলার অনেককিছু আছে৷ তাই আমাদের প্রয়োজন সকলের আন্তরিক সহযোগিতা। আশাকরি সবাই আমাদের এই পথ চলায় সঙ্গ দিবেন৷

  • ওমর ফারুকী শিপন, সিঙ্গাপুর 

আরও পড়ুন- বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে সাড়ে ৩ লাখ দক্ষ কর্মী নেবে জাপান

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.