Featured ইউরোপ সাইপ্রাস

সাইপ্রাসে যেভাবে দালালের খপ্পরে পড়ে শরণার্থীরা

শেয়ার করুন

সাইপ্রাস দুটি অংশে বিভক্ত। একটি হচ্ছে গ্রিক সাইপ্রাস যেটা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্যটি নর্থ সাইপ্রাস বা তুর্কি সাইপ্রাস নামে পরিচিত। এটি তুরস্কের অধীনে। সাইপ্রাস বলতে মূলত গ্রিক সাইপ্রাসকেই বোঝানো হয়ে থাকে। দেশটিতে স্টুডেন্ট ভিসায় যাওয়া কঠিন হওয়ায় সবাই এখন নর্থ সাইপ্রাস দিয়ে ইউরোপ আসার স্বপ্ন দেখে।

প্রতিদিন নর্থ সাইপ্রাস হয়ে গ্রিক সাইপ্রাসে ঢুকছে অনেক মানুষ। কিন্তু তারা কী আদৌ জেনে-বুঝে আসে। নাকি দালালদের মিষ্ট ভাষার ফাঁদে পড়ে নিজের পা সাগরে ডুবাচ্ছে? নর্থ সাইপ্রাস হয়ে যারাই সাইপ্রাস ঢুকছে তাদেরকে প্রথমে শরণার্থী আবেদন করতে হয়। শরণার্থী আবেদন করতে কোনো টাকা লাগে না। নিজে নিজে আবেদন করা যায়।

অনেক দালাল শরণার্থী আবেদন করিয়ে দেয়ার জন্য টাকা নেয়। প্রথম অবস্থায় তাদের দেশটির প্রশাসন ৬ মাস মেয়াদ দেয়। মেয়াদ চলে যাওয়ার পর ৭৫ দিন সময় দেয় আপিল করার জন্য। এই ৭৫ দিনের ভেতর আবার নতুন করে অভিবাসী আবেদন করতে হয়। আবারো ৬ মাস পর মেয়াদ চলে যায়।

এভাবে দুই থেকে তিন বছর দেশটিতে থাকা যায়। তবে শুরুতেই শরণার্থীদের সামান্য ভাতা দেওয়া হয়। মাসে মাত্র ১৮০ ইউরো হবে। তবে এটা দেয় মাত্র ৪-৫ মাসের জন্য। আবার সবাই পায় না। দালালরা প্রচার-প্রচারণা চালায় ৩০০-৪০০ ইউরো অভিবাসী ভাতা দেয়। তাও বছরের পর বছর। এসব ধোঁকাবাজি ছাড়া কিছুই নয়।

আর সাইপ্রাসে শরণার্থীদের কাজ পাওয়া খুব কঠিন। বিশেষ করে তুর্কি সাইপ্রাস দিয়ে যারা আসে এদের অধিকাংশ লোক মধ্যবয়স্ক। যাদের তেমন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। তারা বেশিরভাগই গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। ওরা না বোঝে ভাষা, না জানে ইংরেজিতে কথা বলতে। তেমন কাজও পারে না। ফলে দেশটিতে কাজ না পেয়ে অসহায়ের মতো সময় পার করে তারা।

তাই সাইপ্রাসে মানবেতর জীবন শুরু হয় তাদের। বাসা ভাড়া দিতে পারে না। খাবার খরচ জোগাড় করতে পারে না। তারপর কেউ কেউ দুঃচিন্তা নিয়ে স্ট্রোক করে মারা যায়। বাকিরা দেশে চলে যায়। শুধু স্বল্পসংখ্যক লোক সাইপ্রাসে ভালো কাজ-কর্ম করতে পারে। বিশেষ করে যারা শিক্ষিত।

শেষমেষ তারাও বেছে নেয় কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পথকে। কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ করে সাইপ্রাস থেকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। কিন্তু সে পথ এত সহজ? কয়জন সে পথে সফল হয়েছে? এসব যোগ-বিয়োগের অংক মিলিয়ে নিলে মনে হয় না কেউ আর বাংলাদেশ থেকে নর্থ সাইপ্রাস হয়ে গ্রিক সাইপ্রাসে আসবে।

  • নয়ন, সাইপ্রাস। 
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.