Featured কানাডা

শরণার্থী অভিবাসনে কি কঠোর হচ্ছে কানাডা?

বিশ্বের অন্যতম শান্তিপ্রিয় দেশের তালিকায় থাকা কানাডা বরাবরই শরণার্থীদের প্রতি উদার ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জাস্টির ট্রুডোর লিবারেল পার্টি নতুন একটি আইন নিয়ে আসছে, যা এই শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক। 
এই আইন নিয়ে আইন অধ্যাপক এবং শরণার্থী বিষয়ক আইনজীবী ওয়ার্দা শাজাদী মেগান বলেন,
“আমার মনে হয় এই আইনের মাধ্যমে লিবারেল সরকার শরণার্থীদের ব্যাপারে আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কানাডা সরকার প্রথম ৫ বছরে, শরণার্থীদের বিষয়ে খুবই ভাল অবস্থানে ছিল। কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে তাদের পুরনো খ্যাতির পুরোটাই নষ্ট হয়ে যাবে।”
শরণার্থীদের কাছে কানাডা এক আশ্রয়ের নাম

এই নতুন আইন যে পরিবর্তণ আনবে-

গত সপ্তাহে কানাডার বাজেট বিলে এই নতুন আইনের কথা উঠে আসে। সেখানে জানা যায়, শরণার্থীদের মধ্যে যারা আশ্রয় চাইতে অযোগ্য এবং যাদের অন্যান্য দেশেও আশ্রয় চাওয়ার জন্য আবেদন করা আছে, তারা কোনভাবেই ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেনা। এই আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও আছে।

শরনার্থীদের বিষয়ে জাস্টিন ট্রুডোর পুরনো টুইট

“শরণার্থীরা স্বাগতম?”

২০১৪ সাল এ জাস্টিন ট্রুডোর দল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শরণার্থীদের প্রতি উদার ছিল কানাডা। যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭টি মুসলিম দেশের অধিবাসীদের আমেরিকায় প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করে, ঠিক সেই মুহূর্তে জাস্টিন ট্রুডো জানান,
“কানাডার অধিবাসীরা আপনাকে স্বাগতম জানাবে, আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেন।”
‘শরণার্থী স্বাগতম’ ব্যানারে কানাডিয়ানরা
ট্রাম্প নির্বাচনে জেতার পর ৪০ হাজারেরও অধিক শরনার্থী আমেরিকা থেকে কানাডায় এসেছে আশ্রয়ের খোঁজে। সে সময় শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য মন্ট্রেলের অলিম্পিক স্টেডিয়ামটিকেও অস্থায়ী শিবির বানানো হয়েছিল।
কানাডা সব সময়ই সকলের প্রতি উদার হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করেছিল। তবে এই নতুন আইনের ফলে কানাডা তাদের পুরনো নাম-ডাক অনেকটাই খোয়াবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.