Featured বাংলাদেশ থেকে

পিইসি পরিক্ষায় অংশ নিচ্ছে রোহিঙ্গা শিশুরা!

শেয়ার করুন

দুই বছর পেরিয়ে যাবার পরও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উঠে আসছে একের পর এক অসংগতির চিত্র। জাল পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি ছাড়াও এবার নতুন করে অনিয়মে জড়িয়েছে রোহিঙ্গারা। দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, চলমান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষায় উখিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অংশ নিচ্ছে অসংখ্য রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী।

অপরদিকে শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরীক্ষা শেষে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ বৃহস্পতিবার উখিয়ার থাইংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পিইসি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে পিইসিতে ধর্মীয় শিক্ষা, আর ইবতেদায়ীতে কোরআন ও ফিকাহ বিষয়ের পরীক্ষার চলছে। এতে বালুখালী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা,আইডিয়াল কেজিসহ ১০-১২টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

পরীক্ষা শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চাইলে তারা বিব্রতবোধ করে। অনেক চেষ্টা করার পর জানা যায় তাদের আসল পরিচয়।

এদের মধ্যে একজন হলো জাহাঙ্গীর আলম। বালুখালী আইডিয়াল কেজি স্কুলের পরিচয় উল্লেখ রয়েছে। তার পিইসি রোল নং-৪৩০৮,  আইডি নাম্বার ১১২০১৯৪১২০১০৪৩০৮। জাহাঙ্গীরের পিতার নাম নুরুল ইসলাম। এই শিক্ষার্থীর বাড়ি দেখানো হয়েছে রাজাপালং ইউনিয়নের সিকদার বিল গ্রামে।

উক্ত পিইসি কেন্দ্রের সচিব কুতুপালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন,

গত বুধবার একই অভিযোগ এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে মো. জুবাইর, পিতা-মো. কামাল উদ্দিন, রোল নং-৯২৮, সে বালুখালী ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ছাত্র। পরীক্ষার্থীর আইডি নাম্বার ১২২০১৯৪১২০১০০৯২৮ কে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি এ বিষয়ে আরও জানান, এই ঘটনার পর আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। তারা তথ্য গোপন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল বলে ধারণা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুব্রত কুমার ধর সংবাদমাধ্যমকে বলেন,

থাইংখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কিছু শিক্ষার্থী তথ্য গোপন করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। এ নিয়ে আমি কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে সন্দেহজনক কয়েকজন শিক্ষার্থীর নিকট তথ্য জানতে চাইলে তারা সঠিক তথ্য দিতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন,

এখন যেহেতু পরীক্ষা চলমান তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরীক্ষা শেষে তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা স্থগিত করা হবে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.