Featured ইউরোপ ইতালী ভ্রমণ

রেনেসাঁর শহর ফ্লোরেন্সে একদিন

ফ্লোরেন্স মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় বাণিজ্য ও অর্থব্যবস্থা এবং সেই যুগের ধনী শহরগুলোর মধ্যে একটি ছিল। এটি রেনেসাঁর জন্মভূমি হিসেবে বিবেচিত, এবং  একে ‘মধ্য যুগের এথেন্স’ বলা হয়। ফ্লোরেন্স সমগ্র ইতালির সংস্কৃতির ভাষা বলে পরিচিত, বিশ্বের শীর্ষ কয়েকটি ফ্যাশন শহরের মধ্যে ফ্লোরেন্সও আছে।

ফ্লোরেন্স ইউরোপের নবজাগরণের উৎসমুখ। এ শহর চতুর্দশ শতকের শেষভাগে সারা ইউরোপে সাহিত্য, শিল্প, ভাস্কর্য,স্থাপত্যে বিপ্লব এনে দিয়েছিল। সেই দান্তে, বোকাচ্চিও, পেত্রাকের শহর। কালজয়ী শিল্পী- ভাস্কর্য লিওনার্দো-দা-ভিঞ্চি, মিকেলাঞ্জেলো জন্ম নিয়েছিলেন এই শহরে।

বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক গালিলেয়ো জন্মেছেন এখানে। আপাতদৃষ্টিতে ফ্লোরেন্স শহরটা ভেনিসের মত সুন্দর করে সাজানো নয়। এর সৌন্দর্যের সন্ধান পেতে আপনাকে পৌঁছেতে হবে ফ্লোরেন্স শহরের হৃৎপিণ্ড পিয়াৎজা দেল্লা সিনিওরিয়াতে।

মধ্যযুগীয় অলিগলি বেয়ে চলতে চলতে আপনী স্পষ্ট অনুভব করবেন প্রাচীন ইতিহাসকে বিশাল সিনিওরিয়া চত্বর জুড়ে ছড়ানো ছিটানো ভাস্কর্য। আপনার দৃষ্টি আটকে যাবে খোলা চত্বরের দুটি বিশেষ ভাস্কর্যে। একটা চেলিন্নির বিখ্যাত কীর্তি, পারসিউসের মেডুসা বধের মূর্তি। দ্বিতীয়টা মিকেলাঞ্জেলোর ‘দিকলোসাল ডেভিড।

ফ্লোরেন্স শহরে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক আসে এবং ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক ফ্লোরেন্সের ঐতিহাসিক কেন্দ্র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা হয়। শহরটি তার সংস্কৃতি, রেনেসাঁ শিল্প এবং স্থাপত্য এবং স্মৃতিসৌধগুলোর জন্য সুপরিচিত।

শহরটিতে অসংখ্য জাদুঘর এবং আর্ট গ্যালারী রয়েছে, যেমন উফিজি গ্যালারী এবং প্যালাজো পিটি, এবং এখনও শিল্প, সংস্কৃতি এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে আছে। ফ্লোরেন্স এর শৈল্পিক এবং স্থাপত্য ঐতিহ্যের কারণে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর শহরগুলোর মধ্যে একটি হিসাবে ফোর্বসে স্থান করে নিয়েছে।

  • সানি ভুঁইয়া, মনফালকোন, ইতালি 

আরও পড়ুন- ইতালিতে নতুন মন্ত্রীপরিষদের তালিকা ঘোষণা

পৃথিবীর সব প্রান্তের খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.