Featured বাংলাদেশ থেকে বিনোদন

মিথিলা-ফাহমির ঘনিষ্ঠ ছবি প্রকাশ; মিথিলার বিবৃতি

শেয়ার করুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গতকাল থেকে গায়িকা ও অভিনেত্রী মিথিলা এবং পরিচালক ইফতেখার আহমেদ ফাহমি এর কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয় নিয়ে একের পর এক আলোচনা-সমালোচনার জোয়ারে ভেসে গেছে পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। তবে আজ এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী রাফিয়া রশিদ মিথিলা। তিনি ফেসবুকে একটি ইংরেজি পোস্টে এই বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন।

পুরো পোস্টটি বাংলা ভাষায় তুলে ধরা হলো-

“আমি এখানে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করতে আসিনি বরং আমি এসেছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি আমার একান্ত ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে মাতামাতির বিষয়ে আমার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো ছবিগুলোর মধ্যে কিছু আসল এবং কিছু বানোয়াট, যা আমার মর্যাদাকে নষ্ট করতেই ছড়িয়ে দিয়েছে অপরাধীরা।

২০১৭-১৮ সালে যখন আমি এবং আমার বয়ফ্রেন্ড ‘ডেটিং’ করছিলাম সেসময় এই ছবিগুলো তোলা হয়েছিল। তার (ইফতেখার আহমেদ ফাহমি) ফেসবুক প্রোফাইল হ্যাক হওয়ার পর পরই অপরাধীরা এমন কিছু কনটেন্টই খুঁজছিল যেন তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরাধ করতে পারে।

এখানে আমি ‘ডেটিং’ শব্দটি বলতে আমাদের সম্পর্ককে বুঝিয়েছি। এই প্রযুক্তির যুগে দুটো মানুষ একটি সম্পর্কের মধ্যে থাকলে ঘনিষ্ঠ সময় কাটায় এবং সেসময়ের ছবিও আদান প্রদান করে, এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের  অবুঝ সাজার কোনো কারণ নেই। আমি স্বীকার করছি আমি আমার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারিনি যার দায় সম্পূর্ণ আমার।

তবে, প্রকাশিত ছবিগুলো নিয়ে আমি লজ্জিত নই; বরং আমি লজ্জিত যে, আমার দেশের কিছু নিচু স্তরের মানুষ নির্দ্বিধায় আমার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করছে, শেয়ার দিচ্ছে এবং সাবস্ক্রিপশন বিক্রি করছে, সেইসাথে সংবাদও তৈরি করছে। এতে আমার মানহানি কিংবা আমাকে ভার্চুয়ালি ধর্ষণ করা হলেও তারা আমার ছবিগুলোর অপব্যবহার করা থামাচ্ছেনা।

আমি লজ্জিত যে মিডিয়া, বিশেষ করে কিছু সংবাদমাধ্যম আমার অনুমতি ব্যতীত এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে এবং এই পুরো ঘটনায় আমার মতামতও প্রকাশ করেছে, যেখানে আমি কোনো সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথাই বলিনি কিংবা কোনো বিবৃতি দেইনি। আমি লজ্জিত এবং ক্ষুব্ধ যেভাবে আমি রাস্তাঘাট, নিজের ঘর, ভার্চুয়াল জগতসহ সব জায়গায় নারীদের যৌন হয়রানির সম্মুখীন হতে দেখে লজ্জিত ও ক্রোধ বোধ করি।

আমার অবস্থান এখানে এই যেঃ- আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমার সম্মান এবং মর্যাদা আমার শরীর বা আমার অন্তর্বাস কিংবা আমার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবির মধ্যে অবস্থান করে না। আমি আমার জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি সব আমার কঠিন শ্রম, সৃজনশীলতা এবং শিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করেছি। আমার অতীতের ব্যক্তিগত মুহূর্ত নিয়ে টানা হেঁচড়া করছে এমন অপরাধীদের জন্য আমি আমার সারাজীবনের অর্জনগুলো জলে ফেলতে চাই না।

গত ২৪ ঘন্টায় নিজেকে শান্ত রাখতে এবং নিজের ইতিবাচক শক্তির দিকে মনোযোগ দেওয়ার জন্য আমি সবকিছু থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলাম, যেন আমি আরও জোরালো ভাবে ফিরে আসতে পারি। এই পরিস্থিতি আমাকে ভঙ্গুর করে দেয়নি, বরং আমাকে সকল পরিস্থিতির চেয়ে শক্তিশালী করেছে।

সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। একইসাথে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি এবং আইসিটি আইনে একটি মামলা করার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করছি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের সহায়তায় আমি অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টাও বহাল রেখেছি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি আমার নিজের জন্য এবং যারা সাইবার আক্রমণের স্বীকার হয়েছে তাদের জন্য এই লড়াই চালিয়ে যাবো।

আমার পরিবার, আমার বন্ধুবান্ধব এবং সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এই পরিস্থিতে আমার পাশে থাকার জন্য।”

তবে এই ঘটনায় এখনো ইফতেখার ফাহমি এর পক্ষ থেকে কোনো মতামত জানা যায়নি।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.