Featured কাতার মধ্যপ্রাচ্য

মরুর দেশ কাতারে প্রবাসীর প্রথম রমজান

আমি মূলত বাংলাদেশ থেকে রমজান মাসে কাতারে আসি ২০১৩ সালের ৭ম রমজানে। জীবনে প্রথম দেশের বাইরে এসেছি সবকিছুই একেবারেই নতুন৷

কাতারের রমজান মাসে সারারাত জমজমাট থাকে সব মানুষ রাতের বেলা কাজ করে সমস্ত দোকানপাট রাত একটা পর্যন্ত খোলা থাকে৷ আমি প্রথম যখন আসলাম আমার কাছে সব কিছু অদ্ভুত লাগত৷ সবাই রাতে সেহরি খেয়ে ঘুমায় আর আসরের সময় ঘুম থেকে উঠে ইফতার তৈরি করে মাগরিবের নামাজ পড়ে বাইরে যায়, আবার রাত একটার সময় ঘরে ফেরে ৷

প্রথম খুব কষ্ট হতো, এটা কেমন কথা রোজা রেখে সারাদিন ঘুম সেই আছরের সময় ঘুম থেকে ওঠা কেউ কেউ ঘুম থেকে উঠে জোহরের নামাজ পড়ে আবার ঘুমায়৷ অবশ্য যে সব শ্রমিক ভাইয়েরা সকালে কাজে যায় তারাও দশটা এগারোটার মধ্যে ফিরে আসে, অর্থাৎ তারপর থেকে তাদের একেবারেই অলস সময় ৷

প্রবাসে রমজান মাসে সবচেয়ে যেটা কি মিস করেছি হচ্ছে, যদি কোনো কারণে তারাবির নামাজের পর বাসায় এসে একটু ঘুমিয়ে যাই তখন রাতে সেহরি খাবার জন্য কেউ ডাকাডাকি করে না ৷ ভুলে ঘুমের মধ্যে যদি একবার না করে দেই, দ্বিতীয় বার আর কেউ ডাকে না ৷ না খেয়ে রোজা থাকতে হয়|

প্রথম রমজানে আমার সাথে এমন ঘটনা বেশ কয়েকদিন ঘটেছিল কারণ আমার ঘুমের টাইম টেবিলটা দেশের মতোই ছিল, নামাজের পরে একটু ঘুম পেত সেহরির সময় কেউ ডাকতো না।

সেই সকাল বেলা ঘুম ভেঙে যেত, দেখতাম, বাসার সবাই ইচ্ছামতো ঘুমাচ্ছে আমি একা শুধু জেগে আছি ৷ তখন মাকে মনে করে খুব কান্না পেত প্রতি রাতে সেহরির সময় আমি বিছানা ছেড়ে খাবার টেবিলে খেতে যেতাম না। এমনটা আমি প্রায়ই করতাম, কারণ ঘুম থেকে উঠে হাত ধুয়ে খাবার খেতে খুব কষ্ট হতো।

আর এমন করলেই মা অথবা বড় আপু খাইয়ে দিত। কিন্তু প্রবাসে কেউ একবারের জায়গায় দুইবার ডাকেনি, কেউ ডাকতো না এখন অবশ্য এমন ভুল আর হয় না৷ এখন শরীর খারাপ থাকলেও মন না চাইলেও নিজেই নিজের যত্ন নেই৷

এই বিষয়টা খুব খারাপ  লাগতো আস্তে আস্তে এই জীবনটাই আমার খুব প্রিয় হয়ে গেল এখন ঠিক এদের মতই হয়ে গেছি ৷

প্রবাসে রোজার মাসে ইফতারিতে আম্মুকে খুব মিস করি,  আমার মায়ের মতো এমন সুন্দর করে আলুর চপ, পিয়াজু সত্যি কেউ বানাতে পারেনা ৷ কত বছর হয় আমার হাতের এই প্রিয় খাবার গুলো খাওয়া হয় না যখন দেশে ছিলাম, আম্মু সব সময় আমার পছন্দের খাবার গুলো আলাদা করে রাখতেন, কারণ তিনি জানতেন তারাবি পড়ে আসলেই আমার ক্ষুধা লাগবে৷ কিন্তু প্রবাসে এটা চিন্তা করার মতোই কেউ নেই ।

যারা আমার মতো প্রথম প্রবাসে আসে, তাদের অনেকেরই এই  ধরনের অনেক কিছুতে নতুন পরিবেশে মানিয়ে চলতে হয়৷ কিন্তু সময় আমাদের সব কিছু শিখিয়ে দেয়।

এখন আমার কাছে মনে হয় কাতারে বারো মাস রমজান থাকুক৷ কারণ এদেশে রমজান মাসে সত্যিই ইচ্ছামতো এবাদত করা যায়। এখানের মসজিদগুলো নামাজের জন্য সত্যিই খুব উপযুক্ত। আমার প্রথম রমজান সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে জিনিসটা, সেটা হচ্ছে এখানে রাতভর নামায পড়া যায় মসজিদগুলো খুব সুন্দর তাই রমজান মাসটাকে আমার খুব ভালো লাগে।

  • রেজওয়ান বিশ্বাস, প্রবাস কথা, প্রতিনিধি, কাতার 

আরও পড়ুন- ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি; লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সর্বশেষ তথ্য

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.