Featured আমেরিকা ভ্রমণ যুক্তরাষ্ট্র

ভ্রমনের গল্পে জীবনের গল্প; ম্যানহাটন নিউইয়র্ক, পর্ব- ০৭

শেয়ার করুন

নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি বোরোর মধ্যে সবচেয়ে ডেন্স বা ঘনত্বের বোরো হচ্ছে ম্যানহাটন। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৈরী হয়েছে ম্যানহাটন আইল্যান্ড দিয়ে, যেটি ঘিরে আছে হাডসন ইস্ট এবং হারলেম নদী দিয়ে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় কমার্শিয়াল, ফিনান্সিয়াল এবং কালচারাল সেন্টারের মধ্যে, এটিকে হার্ট অফ ‘বিগ আপেল’ বলা হয়। এই সিটির সবচেয়ে আইকনিক সাইট হচ্ছে স্কাইস্ক্র্যাপার্স, যেমন এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, নিয়ন লিট টাইমস স্কয়ার এবং দ্য থিয়েটার্স অফ ব্রডওয়ে।

এই ম্যানহাটনে উঁচু উঁচু ভবনের দিকে তাকাতে তাকাতে আপনি নিজেই হয়তো কাত হয়ে পড়ে যাবেন, কিন্তু তারপর ও ভবনগুলোর উচ্চতা শেষ হবে না। মনে হয় সবগুলো ভবনই আকাশছোঁয়া। ভাগ্যক্রমে, সেই ২০০৪ সালে আমেরিকায় এসে  তিন দিনের মাথায় কাজ শুরু হয়েছিল আমার এই ম্যানহাটন সিটিতে। চাচার ব্যবসা ছিল ম্যানহাটন সিটির ১৪ নাম্বার স্ট্রিটের ৩ নাম্বার এভিনিউতে, যেটি ইউনিয়ন স্কয়ারের পাশেই অবস্থিত।

এই শহরের এক বিন্ধুও ঘুম নেই, কত শহর দেখেছি সন্ধ্যে নামলেই তালা ঝুলিয়ে দোকান-পাঠ বন্ধ করে মানুষ বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেয়, কিন্তু এই ম্যানহাটনকে কখনোই দেখলাম না একটু বিশ্রাম নিতে। সারারাত এবং সারাদিন মানুষের আনাগোনা। মানুষের চলাফেরা দেখলে আপনি বুঝবেনই না  দিন নাকি রাত। চারিদিকে আলোকসজ্জিত এই শহর। রাতের ম্যানহাটনকে যখন হাডসন রিভারের ওপাশ থেকে দেখা হয় তখন আপনি নির্ঘাত এই সিটির প্রেমে পড়ে যাবেন। সে এক অপূর্ব দৃশ্য।

এই ম্যানহাটনের গল্প পড়েছিলাম ক্লাস টেনের একটা বই ‘দ্য লাঞ্চেন’ নামের একটি বইতে। যেটি লিখেছিলেন উইলিয়াম সমারসেট মম। ওখান থেকেই স্যালমন মাছের কথা, ম্যানহাটন সিটির কথা জানতে পারলাম। যদিও তখন ওটা কল্পনায় থাকতো কিন্তু যখন এই শহরের অলিতে গলিতে নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করছি।

সেই সময়ে ওই বইয়ের পাতার স্মৃতি গুলো সামনে এসে হাজির। স্যালমন মাছের অনেক দাম, মাছের মধ্যেও অনেক তফাৎ। কিছু আছে ফার্ম রেইজড, আবার কিছু আছে ওয়াইল্ড মানে সাগরের মাছ। এগুলো জেনেছি যখন আমি হোল ফুডস মার্কেটে সি ফুড ডিপার্টমেন্টে জব করি তখন।

যাই হোক, এই সিটিতে এমন কিছু নেই আপনি খুঁজলে পাবেন না। এখানে দিনের আলোতে ব্যবসা বাণিজ্য, অফিস আদালত নিয়ে মানুষ ব্যস্ত থাকলেও ঠিকই রাতের বেলায় ওরা পার্টি করে বেড়ায়। এই সিটির ম্যাক্সিমাম কর্নারে আপনি দেখবেন নাইট ক্লাব এবং বার। রেস্টুরেন্ট গুলো ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। এখানে ঘুরে দেখার অনেক লোকেশন আছে। এখানে আছে ওয়ার্ল্ড লার্জেস্ট শপিং সেন্টার ‘মেসি’স’

নিউইয়র্ক সিটির আরেকটা সৌন্দর্য হচ্ছে সাবওয়ে ট্রেন। আপনি চাইলে সাবওয়ে ট্রেনে করে অধিকাংশ নিউ ইয়র্ক শহর ঘুরে বেড়াতে পারবেন। এটা এই জন্য সুবিধা যারা প্রথম প্রথম আমেরিকা আসে তারা নিউইয়র্ক ছাড়া অন্য কোথাও যেতে চায় না কারণ ট্রান্সপোর্টেশনের জন্য। কেউ এখানে এসেই হুট করে গাড়ি কিনতে পারে না, কিন্তু এই শহরে গাড়ি বাদেও আপনি জীবন যাপন করতে পারবেন।

ম্যানহাটনের রাস্তায় আপনি আমি হেঁটে কুল পাবো না। ওরা যে গতিতে হাঁটে সেটা দেখেই আমি অবাক। আমার এক চাচা এই দ্রুত হাঁটা দেখে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘এরে মামুন, সামনে কি কোথাও আগুন লাগছে নাকি?’ আমি বললাম কই নাতো, আপনি কই দেখলেন আগুন লাগছে? উনি বলে-‘ তাহলে মেয়ে মানুষরা সব দৌঁড়াইতেছে কেন আমগো পুরুষদেরকে পিছনে ফালাইয়া।’ আমি হাসতে হাসতে শেষ উনার কথা শুনে। পরে বললাম, ‘এই সিটির মানুষ গুলোই এইরকম ফাস্ট। ওরা কাজ ও করে দ্রুত এবং সেই কারণে উন্নয়ন ও করে খুব তাড়াতাড়ি।

  • প্রবাস কথা ডেস্ক 

আরও পড়ুন- ভ্রমণের গল্পে জীবনের গল্প; ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার হারপার্স ফেরি, পর্ব- ০৬

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.