Featured আমেরিকা ভ্রমণ যুক্তরাষ্ট্র

ভ্রমণের গল্পে জীবনের গল্প ; আর্লিংটন ভার্জিনিয়া, পর্ব- ০৮

২০১৪ সালে যখন আমি ভার্জিনিয়াতে চাকরি নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে চলে আসি, এই গল্প তখনকার। আমাদের বাঙালিদের একটা সব সময় টান কাজ করে, যখন কোন স্টেট ছেড়ে অন্য কোন স্টেটে থাকতে যাই তখনকার সবচেয়ে বড় চিন্তা হচ্ছে, কোথায় গেলে বাংলাদেশী গ্রোসারী বা হাটবাজার খুঁজে পাওয়া যাবে? এই জিনিসটি যেমন ভাবনায় ছিল আমার ঠিক তেমনি ভাবনায় ছিল বাড়ির আশে পাশে একটি মসজিদ থাকা।

ভার্জিনিয়াতে আসার কয়েক দিনের মাথায় আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে বাঙালিদের গ্রোসারি দোকান কোথায় পাওয়া যাবে? সাথে সাথে সে আমাকে আর্লিংটন, লি হাইওয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশী সব গ্রোসারীর তথ্য দিল। ভার্জিনিয়াতের আসার তৃতীয় কিংবা পঞ্চম দিনের মাথায় আমি এবং আমার সহধর্মিনী মিলে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলাম।

এই আর্লিংটন শহরটা ওয়াশিংটন ডিসির কাছাকাছি অবস্থিত। খুব বেশি হলে ডিসি থেকে আর্লিংটনের দূরত্ব প্রায় এগারো মাইল। এই আর্লিংটনেই সমাহিত করা হয়েছে এই দেশের অনেক রাজনীতিবিদকে। যাদের সমাধি বিভিন্ন দেশ থেকে অনেকেই ভিসিট করে ফুলের তোড়া দিয়ে আসে এবং ওই জায়গার নাম হচ্ছে ‘আর্লিংটন সেমেট্রি’

আমরা একদিন বাজার করতে গেলাম। বাজার করতে গিয়ে দেখি ওখানে কয়েকটি বাংলাদেশী গ্রোসারীর দোকান আছে যেমন বাংলা বাজার, এশিয়া বাজার। রেস্টুরেন্টের মধ্যে আছে ঘরের খাবার এবং আলাউদ্দিন। আমরা এসেই এশিয়া বাজারে ঢুকলাম। আর্চয্যের বিষয় হচ্ছে এখানে আমরা যখন দোকানে ঢুকলাম, সাথে সাথে একজন কর্মচারী এসে আমাদের পিছনে বাকেট নিয়ে হাজির। বললাম আপনি বাকেট আমার হাতে দিন। উনি বললো আপনার কি কি লাগবে আপনি সেটা উঠিয়ে আমার কাছে দিন আমি ওগুলো বহন করছি।

আমরা দুইজন তো দুইজনের দিকে তাকিয়ে অবাক হচ্ছি। এটা কিভাবে সম্ভব? যে নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিজের কার্ট বা বাকেট নিজেকে বহন করে কি বাজার করছি সেটা দেখার কারো সময় নেই, অথচ ভার্জিনিয়াতে কাস্টমার সার্ভিসের তৎপরতা দেখে একদিকে খুবই ভালো লাগলো আবার অন্য দিকে মনে হল।

একজন মানুষ পিছনে পিছনে ঘুরছে, কেমন যেন ইতস্তবোধ করছিলাম। অনেকবার বললাম উনাকে আমার কাছে বাকেটটা দেয়ার জন্য। উনি নাছোড় বান্দা, কিছুতেই দিবে না। ঠিক ওই মুহূর্তে নিউইয়র্ক সিটির সার্ভিসের সাথে ভার্জিনিয়া স্টেটের আর্লিংটন শহরের সার্ভিসটার তুলনা করতে লাগলাম। আকাশ পাতাল ব্যবধান।

হ্যাঁ, নিউ ইয়র্ক অনেক ব্যস্ত শহর, তার মানে এই না ভার্জিনিয়া ব্যস্ত না। হয়তো তুলনামূলকভাবে একটু কম, কিন্তু যে সার্ভিস উনারা দিয়েছে তাতে আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। ভাবতেই পারছিলাম না কিভাবে বাংলাদেশের অনেক জায়গার মত এই আর্লিংটন সিটিতে উনারা কাস্টমারদের ট্রিটমেন্ট করলেন। বাজার করতে করতে দোকানের মালিক জিজ্ঞাসা করলেন ভাইয়া কি এখানে নতুন এসেছেন? আমি বললাম হ্যাঁ। ওহ আইটির চাকরি নিয়ে এসেছেন? বললাম জ্বি না।

উনার আইটির (ইনফরমেশন টেকনোলজি) চাকরির বিষয়টা নিয়ে প্রশ্ন করলাম, কেন আইটির কথা বললেন? তখন উনি বললো, ভার্জিনিয়া হচ্ছে আইটি জব এর জন্য বিখ্যাত। এখানে সবাই ওই জব নিয়েই আসে। তখন বুঝতে পারলাম কেন উনি আমাকে ওই প্রশ্নটা করেছে। তখন মৃদু হেসে বললাম, নাহ ভাই আমার অত বড় কপাল নেই, আমি সামান্য একটা ইঞ্জিনিয়ারিং জব নিয়ে এখানে এসেছি।

ব্যস এরপরেই বাজার শেষ করেই বাংলাদেশী রেস্টুরেন্টে বিকালে মোগলাই এবং চা খেয়ে আর্লিংটনের একটি অপরূপ রাস্তা ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল হাইওয়ে ধরে বাড়ির পথে যাত্রা করলাম।

  • গোলাম মাহমুদ মামুন, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র 

আরও পড়ুন- ভ্রমনের গল্পে জীবনের গল্প; ম্যানহাটন নিউইয়র্ক, পর্ব- ০৭

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.