Featured আমেরিকা ভ্রমণ যুক্তরাষ্ট্র

ভ্রমণের গল্পে জীবনের গল্প; ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার হারপার্স ফেরি, পর্ব- ০৬

এক ছুটির দিনে হঠাৎ আমার সহধর্মীনি এসে বললো, ‘এই জানো আমাদের এখান থেকে ঘন্টা খানেকের দূরত্বে একটা ন্যাশনাল পার্ক আছে, যেটি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়াতে অবস্থিত। যদি চাও একদিন ঘুরে আসতে পারি’।

এই কথা শুনার পর বললাম, ‘একদিন নয় আজই ঘুরতে যাবো, তোমরা যেতে চাও? বউ বলে- ‘তুমি শিউর যেতে চাও? আমি বললাম হ্যাঁ। যেই কথা সেই কাজ। সাথে সাথে কোন প্ল্যান বাদেই ঘন্টা খানেকের মধ্যে সবাই রেডি হয়ে যাত্রা শুরু করলাম।

সেন্টারভিল রাস্তা দিয়ে সোজা ১৮ মাইল গাড়ি ড্রাইভ করে যখন আমরা কান্ট্রি সাইডের রাস্তায় উঠলাম, মনে হল আমি সবুজ প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গেলাম। দুই পাশে ফসলের মাঠ, পাশেই আছে পাহাড়ী দৃশ্য। আঁকা বাঁকা রাস্তা নিয়ে যাচ্ছে আমাদের সুদূর ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায়। প্রায় ঘন্টা খানেকের মত ড্রাইভ করে আমরা গন্তব্যে পৌঁছালাম।

ওখানে ঢুকতে প্রতি গাড়ি ১৫ ডলার করে ফী দিতে হয়, ভাগ্য ভালো ছিল বিধায় ফি দিতে হয়নি। মনে হয় উইকেন্ড ছিল সেজন্য। যাই হোক, ওখানে গিয়ে দেখি গাড়ি পার্কিং করে আমাদেরকে শাটল বাসে করে দৃশ্য দেখার জন্য যেতে হবে।

যেহেতু আমার মেয়ে ফাতিহা আছে সেহেতু ভিজিটর সেন্টার গিয়ে কিছু পরামর্শ নিয়ে আসলাম এবং একজন পার্ক রেঞ্জার আমাকে একটা ম্যাপ দিয়ে পুরো জায়গাটার বর্ণনা দিয়ে বললো, ‘তোমার মেয়ের জন্য শুধু স্ট্রলার নিলেই হবে’। ব্যস ঐটা নিয়েই আমরা শাটল বাসের জন্য অপেক্ষা করলাম।

প্রতি ৫ মিনিট পর পরই শাটল বাস আসে। আমার ফাতিহা মনির জীবনের প্রথম বাস ট্যুর। ফাতিহা অনেক উপভোগ করেছে আমার পাশের সিটে বসে। কিছুক্ষন পরেই বাস আমাদের নামিয়ে দিল সেই ‘হারপার্স ফেরি’, আমরা হাঁটতে লাগলাম। চারিদিকের দৃশ্যগুলো এতটাই জোস লাগছিলো তা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

একটু হাঁটতেই দেখি ওখানকার অনেক মিউজিয়াম, খাবারের দোকান, বিভিন্ন ধরণের রেস্টুরেন্ট। যে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলাম সেই রাস্তা দেখেই মনে হলো, এটা যেন এক ইউরোপ শহরের কোন রাস্তা। হলুদ গাছের দৃশ্যে পুরো রাস্তাটাই ছিল অসাধারণ।

একটু একটু করে যখন এগিয়ে গেলাম, তখনি দেখি এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে সাগরের কিনারায় পানিগুলো শেনানদোয়াহ এবং পটোম্যাক নদীর সাথে মিশে একাকার। এখানে দুটো ব্রিজ আছে, যেগুলো মোটামুটি দেখতে ভি শেপের মত। যে ব্রিজ দিয়ে আমরা পার হচ্ছিলাম সেই ব্রিজের মাঝখান দিয়ে আবার ট্রেনের লাইন চলে গেছে। ব্রিজের মাঝখানে দাঁড়ালে কি যে অপূর্ব লাগে! তা হয়তো কিছুটা ভিডিও দেখলে আপনারাও অনুভব করতে পারবেন।

এই ‘হারপার্স ফেরি’তে অনেকগুলো এক্টিভিটিজ আছে। যার মধ্যে আছে টিউবিং, জিপলিং, কায়াকিং, এডভেঞ্চার সেন্টার এবং ওয়াটার রাফটিংসহ আরো অনেক এক্টিভিটিজ। যেহেতু আমরা এসেছিলাম বিকাল ৫ টায় এবং আমাদের এতসব এক্টিভিটিজ সম্পর্কে ধারণা ছিল না, সেহেতু আমাদের এইসব এক্টিভিটিজ এর কিছুই করা হয়নি, ইনশাআল্লাহ নেক্সট টাইম আবার গেলে সব প্রস্তুতি নিয়েই যাবো।

যদি কেউ ভ্রমণ করতে চান, মনে রাখবেন ওখানে শাটল বাসের শেষ সার্ভিস হচ্ছে বিকাল ৬ টা ৪৫মিনিটে এরপর আর কোন বাস সার্ভিস নেই। আপনি যদি ওখানে ভ্রমণে যেতে চান, আমি বলবো সকালের দিকে যাওয়াটাই মঙ্গল। তাহলে সব এক্টিভিটিজসহ ঘুরাঘুরি করার জন্য হাতে অনেক সময় পাবেন।

অবশেষে ৬টার দিকে পুরো জায়গার কিছু অংশ ঘুরে আমরা বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করলাম। যেহেতু সময়ের অভাবে আমরা ওখানে কোন রেস্টুরেন্টে বসে কিছুই খেতে পারিনি, সেহেতু বের হয়ে এসেই একটি পিজ্জা হাটে ঢুকে খাওয়া দাওয়া শেষে ফাতিহাকে ঘুম পাড়িয়ে বাসায় একটি সুন্দর স্মৃতি নিয়ে ফিরে আসলাম।

  • গোলাম মাহমুদ মামুন, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র 

আরও পড়ুন- ভ্রমণের গল্পে জীবনের গল্প; জ্যাকসন হাইটস নিউইয়র্ক, পর্ব- ০৫

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.