Featured আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

শীতের পিঠা আর রং বেরঙের খাবার; ভার্জিনিয়াতে “প্রবাস কথার” মিলনমেলা

শেয়ার করুন

যে কোন একটি অনুষ্ঠান বা গেট টুগেদারকে সফল করার পেছনে থাকে অনেক শ্রম, আলোচনা এবং সবাইকে এক করার জন্য খুঁটিনাটি অনেক পরিকল্পনা। এই আয়োজনের পেছনে প্রথম আয়োজক হিসেবে পরিতোষ মৃধা দাদা এবং কাজী রশিদ খুব বেশি জড়িত ছিলেন। যদিও এই আয়োজনটা করার কথা ছিল একটা কমিউনিটি সেন্টারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: কাজী রশিদ এর একটা জরুরী কারণে হয়ে উঠেনি।

সেই যেদিন থেকে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে, ঠিক তখন থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহেই সবাই মেসেন্জারে গ্রুপ কলে যোগ দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং কিভাবে কি করলে এই অনুষ্ঠানটি সফল করা যায়, তা নিয়ে অনেক সময় ঘন্টা ধরে আলোচনা, সমালোচনা এবং মতামত নিয়ে অবশেষে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হই সবাই।

আনন্দ, আড্ডা আর মুখরোচক খাবারের সব আয়োজন

যেহেতু শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কারণে কমিউনিটি সেন্টার আমরা ভাড়া নেইনি, সেহেতু বাপ্পি ভাই এবং সুমি ভাবি উনারা উনাদের বাসায় প্রোগ্রামটি করার জন্য মৌখিক কয়েকজনের সাথে আলোচনা করে, পরে সকলকে মেসেন্জারে প্রস্তাব দেয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক খুশি ছিলাম। কারণ, যেহেতু আমার মেয়ে এখনো ছোট এবং দিনে দুপুরের পরে সে কয়েক ঘন্টা ঘুমায়- তাই বাসায় করলে যদি আমার মেয়ের ঘুম আসে তাহলে যে কোন রুমে ওকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা যাবে। সেটা কমিউনিটি সেন্টারে সম্ভব ছিল না। আপনারা সেই প্রমাণ লাইভ ভিডিওতে দেখেছেন।

এই অনুষ্ঠানটি  আয়োজন করা হয়েছে ‘পোটলাক’ এর মতো করে। মানে, অনেকগুলো খাবারের আইটেম এর মধ্যে যে কোন একটা বা দুইটা খাবারের আইটেম একেক পরিবারকে বলা হয়েছে সিলেক্ট করতে। তারপর একেক পরিবার নিজেরা এক এক ধরণের খাবার রান্না করে নিয়ে এসেছে। পোটলাকের মজাটা হচ্ছে, শুধু একজন ভাবি বা এক পরিবারের উপর পুরো প্রেসার বা চাপটা যাতে না পরে সেই দিকটা বিবেচনা করা। এইভাবে আয়োজন করলে, খাবারের আইটেম যে রকম অনেক করা যায়, তেমনি দুই একটা জিনিস বাসায় বানাতেও অনেক সহজ হয়। মানে বউ খুশি তো, মিঞা ভাইরাও বেজায় খুশি.. হাহাহা।

ফুচকা ছাড়া বাংলাদেশীদের মিলনমেলা আয়োজন যেন সম্পূর্ণ হয় না

অবশেষে আমাদের মিলনমেলা শেষে, আমরা আগামীতে আরো দুই একটা অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে কথা বলেছি। ইনশাআল্লাহ, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আবারো অন্য কোথাও, অন্য কোন পরিবেশে এই ধরণের মিলনমেলা অব্যাহত থাকবে। আর আমাদের এই আয়োজনের মূল ফটোগ্রাফার ছিলেন বাপ্পি ভাই, যিনি একাধারে আমাদের হোস্টও ছিলেন। উনি দৌড়ে দৌড়ে অনেক ছবি তুলেছেন। তার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। সকল ভাবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এত দারুন দারুন খাবার তৈরী করে নিয়ে আসার জন্য এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি সকল আয়োজক এবং পৃষ্ঠপোষকদের।

পরিশেষে ধন্যবাদ দিতে চাই সকল বন্ধু বান্ধবদেরকে, যারা ছাড়া এই আয়োজন সফল করা কোনভাবেই সম্ভব ছিল না। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুমি বাপ্পি, মোহাম্মদ তালুকদার, নিয়াজ মোর্শেদ খান জনি, বিজন সিং, হাবিব খান, টপি প্রামানিক, এহতেশাম হক সুমন, ফারজিনা আহমেদ, মোহাম্মদ বাকির আহমেদ, জিনাত আফরোজ লিজা, নাঈমা ইমু, শান্তি রয়, তানিয়া হক, কাজী রশিদ এবং পরিতোষ মৃধা।

ছবি: বাপ্পি

  • গোলাম মাহমুদ, ভার্জিনিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.