Featured পর্তুগাল

“ভাই আমি রেসিডেন্ট কার্ড পাইছি”

শেয়ার করুন

কিন্তু একই সময় পর্তুগীজ সরকার ডিজিটাল পর্তুগাল গঠনের লক্ষ্যে পুরনো ঝামেলা শেষ করার জন্য, বিগত দিনের সকল নিয়ম কানুন পরিবর্তন ও সহজ করার জন্যে ইমিগ্রেশনের সমস্ত কাজ স্থগিত করে দেয়। “এ যেন মরার উপর খারাড় ঘা”। ফলে বিপাকে পড়েন হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী। শুধুমাত্র ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ এর মাঝামাঝি প্রায় ৫/৬ হাজার মানুষ পর্তুগাল আসে বৈধতা পাওয়ার আশায়।

পর্তুগালের বর্তমান সরকার সোশ্যালিস্ট সরকার। সেই ১৯৯৩ সাল থেকে এই সরকার অভিবাসীদের সকল প্রকার সুবিধা দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এই সরকার আরেকটি যুগান্তকারী আইন সংসদে পাশ করিয়েছেন।

কোন অভিবাসী পর্তুগালে এক বছর কাজ করলে ও যথাযথ সরকারী ট্যাক্স প্রদান করলে তাঁকে এক বছরের মধ্যে পর্তুগালের বৈধ রেসিডেন্ট পারমিট দেয়া হবে। যারা আইনত বৈধ উপায়ে পর্তুগালে প্রবেশ করেনি তাদেরকে ও বৈধ করা হবে এই আইনের আওতায়।

এপ্রসঙ্গে কথা হয় লিসবনের সিটি কাউন্সিলর ও পর্তুগালের ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী নেতা রানা তসলিম উদ্দিন এর সাথে। তিনি উল্লেখ করেন, বামপন্থী পি এস, বি ই, পি সি পি, পি ই ভি ই পি এ এন এই চারটি দল এই আইনের পক্ষে ভোট প্রদান করেন আর ডানপন্থী পি এস ডি এবং সি ডি এস এই আইনের বিপক্ষে ভোট দেন।

“ভাই আমি রেসিডেন্ট কার্ড পাইছি”! এই কথা বলে মানুষ যখন দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে, তখন আনন্দে আমার বুক ফুলে উঠে! আজকাল সকাল বিকাল লিসবনে বাংলা অধ্যুষিত এলাকায় আসা যাওয়ার পথে বিভিন্ন মানুষের সাথে দেখা হলে মনটা খুশিতে ভোরে উঠে। অনেকে ফোন করে জানিয়েছে, ম্যাসেজ দিয়েও জানিয়েছেন, আর যারা বলতে না পেরে দেশে চলে গেছেন তারা ইনবক্সে বিয়ের দাওয়াত পাঠিয়েছেন। নির্দ্বিধায় এটি আমাদের জন্য একটি আনন্দের খবর।

বর্তমান প্রধান মন্ত্রী ডঃ আন্তনিয় কোস্টার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি অভিবাসীদের হৃদয়ে আজীবন স্থান করে নিয়েছেন, এটা আমি নিশ্চিত বলতে পারি। আমরা চাই, আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে আবারো সোশ্যালিস্ট পার্টির জয় হবে ও আমাদের সঠিক নেতা হিসেবে আবারো ডঃ আন্তনিয় কোস্টা প্রধান মন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

উল্লেখ পর্তুগীজ জন সমষ্টির মোট ৪% অভিবাসী। তাই পর্তুগালে আরো অনেক বেশী অভিবাসীর প্রয়োজন। বিশেষ করে পর্তুগীজরা সে সকল কাজ করেনা বা করতে বিমুখ সে সকল কাজের জন্য বাহিরের লোকের দরকার বলে এক সমীক্ষায় প্রকাশ পায়। এতে করে যেমন কাজের শুন্য স্থান পূরন হবে তেমনি সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটিতেও অনেক সহযোগিতা হবে বলে মনে করা হয়।

আপাত দৃষ্টিতে সরকারী বিভিন্ন পলিসিতে বর্তমান সোশ্যালিস্ট সরকার বিভিন্ন অভিবাসী বান্ধব কর্মসুচি হাতে নিয়েছেন এবং ১২ মাস এই দেশে কাজ করলে তাঁকে বৈধ রেসিডেন্ট পারমিট দেয়ার আইন গত মাসে সংসদে ইতিমধ্যে পাশ করিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, অভিবাসীদের প্রত্যাশীত সেবা নিশ্চিত করার জন্য পর্তুগাল ইমিগ্রেশন সার্ভিস সমূহ এই মাস থেকে আরও বাড়ানো হচ্ছে। ইমিগ্রান্ট বান্ধব বর্তমান সোশ্যালিস্ট পি এস সরকার প্রতি ধাপে ধাপে বিদেশীদের জন্য পর্তুগালের সব বন্ধ দরজাগুলো আস্তে আস্তে খুলে দিচ্ছেন। আশা করি লিসবন একটি মাল্টি কালচার নগরীতে অচিরেই আরো বেশী পরিচিতি লাভ করবে।

  • প্রতিবেদন- মোঃ রাসেল আহম্মেদ, লিসবন, পর্তুগাল

  আরও পড়ুন-  ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলা; নিহত বাংলাদেশী সামাদের স্ত্রী বেচে আছেন

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.