ব্রেন্টন ট্যারান্ট
Featured ওশেনিয়া নিউজিল্যান্ড

জেলখানায় অন্য অপরাধীদের বড় টার্গেট ক্রাইস্টচার্চের সেই খুনী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট!

নিউজিল্যান্ডের মত শান্তিপ্রিয় দেশে ক্রাইস্ট চার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলার ঘটনাটিতে পুরো বিশ্ববাসীর মনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এই দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.১% বা ৪৬ হাজার মানুষ মুসলিম হলেও, দেশটির সমগ্র জাতি এখন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়েছে।

এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছে। এই বর্বর ঘটনার সবচেয়ে সমালোচিত হামলাকারী হলেন ব্রেন্টন ট্যারেন্ট। এই অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ১৬ মিনিটি ৫০ সেকেন্ডের পুরোটা সময়ই ফেসবুক লাইভে ছিলেন, যা মানবতার কফিনের শেষ পেরেক ঠোকার মতই নির্মম।

নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীসহ পৃথিবীর সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের এখন একটাই দাবী, আর তা হলো এই হত্যাকারীর অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড নয়। বরং যাবজ্জীবন হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মনে একটি ক্ষোভ রয়েই যাচ্ছে। তবে অবাক বিষয় হলো, এই মুক্ত পৃথিবীর মানুষেরাই নয় শুধু, বরং জেলখানায় শাস্তিপ্রাপ্ত অপরাধীরাও এই ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে তাদের ঘৃণার পাত্র হিসেবেই স্থান দিয়েছে। অভিজ্ঞ বিশ্লেষকদের মতে-

“ক্রাইস্ট চার্চের ঘটনার সাথে যুক্ত অপরাধীটিই হলো বর্তমানে জেলখানার ভেতরের সবচেয়ে ঘৃণীত ব্যক্তি। এমনকি সে জেলখানার কয়েদিদের কাছে বিশেষ টার্গেট হিসেবেও পরিণত হয়ে উঠেছে।”

ব্রেন্টন ট্যারান্ট
ব্রেন্টন ট্যারান্ট; ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী

জানা গেছে, এই ২৮ বছর বয়সী আততায়ীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও ২৪ ঘন্টাই বিশেষ নজরদারীতে রাখা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের একটি গ্যাং এর সদস্য যে কি না সকলের সাথে হতাহতদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সামিল হয়েছিল, সে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানিয়েছে-

“আমাদেরও বন্ধু আছে জেলখানার ভেতরে।”

সে পুরো বিষয়টি খোলাসা না করলেও তার হুমকী ছিল স্পষ্ট। ক্যান্টারবেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধতত্ত্ববিদ গ্রেগ নিউবোল্ড, যিনি কি না অতীতে জেলখানায় নিযুক্ত ছিলেন তিনি বলেছেন-

“এই হুমকীগুলো বেশ গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত। আমি নিজেই এটিকে খুব বেশি গুরুত্বের সাথে নেওয়ার পাশাপাশি এবং এটিও বলবো যে, এই হত্যাকারী তার নিজের কর্মের জন্য অনেক বেশি বিপদে পড়বে জেলখানার ভেতরে।”

তিনি আরো বলেন-

“সেখানে (জেলে) কিছু মানুষ অবশ্যই অনেক বেশি ক্ষোভের মধ্যে থাকবে। বিশেষ করে যেহেতু এই হামলাকারী একজন শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থী, সেক্ষেত্রে কয়েদিদের মধ্যে তাকে টার্গেট হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি কোনো অর্থেই উড়িয়ে দেওয়া চলে না।”

গ্রেগের মতে বেশিরভাগ কয়েদিই শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থি নয় বলেই হয়তো ব্রেন্টন সেখানে তার মতাদর্শের কোনো অপরাধী পাবে না, যার সাথে সে সখ্য গড়ে তুলবে। এমনকি কয়েদখানায় শ্বেতাঙ্গরা ‘মাথা নিচু’ রাখা ছাড়া চলতেও পারে না। তবে সাউথ আইল্যান্ডে ‘ছোট পকেট’ আকারে শ্বেতাঙ্গ উগ্রপন্থিদের অবস্থান অতীতে কিছুটা থাকলেও, বর্তমানে ওকল্যান্ডে তার সামান্যটুকুও নেই।

এই সমগ্র ঘটনার প্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে, ব্রেন্টনের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাকে তার বাকি জীবন জনবিচ্ছিন্ন একটি কারাবাসের মধ্যে দিয়েই অতিবাহিত করতে হবে। যেখানে তাকে থাকতে হবে সকল কয়েদিদের থেকে দূরে এবং সম্পূর্ন পৃথকভাবে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.