Featured রঙ্গের দুনিয়া

ব্যতিক্রমী ৫ ভাইবোন; আদিম মানুষ থেকে সভ্য হতে পারেননি যারা

শেয়ার করুন

আদিম যুগে মানুষদের বসবাস ছিল বন্যপ্রানীদের সাথে মিলেমিশে। সভ্যতা, ভদ্রতা কিংবা মানবিক আচরণ- কোনো কিছুই আদিম মানুষ এবং প্রানীদের মধ্যে পৃথক ছিল না। কালক্রমে মানুষ সভ্য জাতিতে পরিণত হয়েছে, শিখেছে মানুষ হিসেবে নিজের পরিচয় গড়তে। কিন্তু এখনো আদিম মানুষের বৈশিষ্ট্য বহন করছে এমন পরিবারের অস্তিত্ব আছে পৃথিবীতে।

তুরস্ক-সিরিয়া সীমানার দক্ষিণে বাস করা একটি পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ২১ জন। এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে থাকা পাঁচ ভাই-বোন এখনো বহন করছে আদিম মানুষের বৈশিষ্ট্য। তারা ৫ জন সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারে না, হাঁটা তো দূরের কথা।

তারা সামনের দিকে ঝুঁকে  আদিম মানুষের মতোই মুখ ওপরের দিকে তুলে চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন।

তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ছোট্ট একটি গ্রামে বসবাস করেন এই পাঁচ ভাই-বোন। সর্বপ্রথম এই অদ্ভূত পরিবারটির খোঁজ পেয়েছিলেন তুরস্কের উনের ট্যান নামক এক বিজ্ঞানী।

বিজ্ঞানী ট্যান এই পাঁচ ভাই-বোনকে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ করার পর নিজের গবেষণাপত্রে জানান, পাঁচ ভাই-বোনের এই ভাবে চলাফেরা করার পেছনে রয়েছে বিপরীত বিবর্তন। ডারউইনের বিবর্তনবাদের মতে, যেভাবে আমরা বানর থেকে  ক্রমশ আদিম মানুষ এবং ধীরে ধীরে বর্তমানের সভ্য মানুষে পরিণত হয়েছি- এই ৫ ভাই-বোনের বেলায় ঘটেছে এর উলটো ব্যাপার। তাদের ক্ষেত্রে বিবর্তনের ধারা বিপরীতমুখী। তাই এই পাঁচ ভাই-বোনের এ অবস্থা, যা বদলায়নি। পরবর্তীতে এই বিজ্ঞানীর নামানুসারে এই অবস্থার নামকরণ করা হয় ‘উনের ট্যান সিনড্রোম’।

উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো মেরুদণ্ডে, হাঁটুতে, পায়ে বা কোমরে কোনো গুরুতর সমস্যা না থাকলেও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না এই ভাইবোনেরা।

২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মস্তিষ্কের স্ক্যান, রক্তের নমুনা কিছুই বাদ যায়নি। তবু তেমন কোনো সমস্যাই ধরতে পারেননি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

তবে ‘উনের ট্যান সিনড্রোম’ এর  ধারণা বদলেছে ২০১৪ সালে। এই পাঁচ ভাই-বোনের বিষয়ে ‘বায়োলজি জার্নাল প্লাস’-এ ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।

সেখানে উনের ট্যানের তত্ব খারিজ করে এই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, বিপরীত বিবর্তনের ফলে নয়, ‘সেরিবেলার হাইপোপ্লাসিয়া’ নামের বিরল জিনগত সমস্যার কারণে সোজা হয়ে হাঁটতে পারেন না তুরস্কের এই পাঁচ ভাই-বোন।

বিজ্ঞনীরা জানান, এই রোগে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সোজা হয়ে দাঁড়ানো একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়ে। কথাবার্তাও জড়িয়ে যেতে পারে।

তবে এখনো এই রোগের চিকিৎসা কতটুকু কার্যকর তা জানাতে পারছেনা বিজ্ঞানীরা। এতে এই ভাইবোনেদের সোজা হয়ে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা আপাতত বিজ্ঞানের কাছে নেই।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.