Featured বাংলাদেশ থেকে

বুলবুলের তাণ্ডব; সাতক্ষীরাতেই বিধ্বস্ত ৫০ হাজার ঘরবাড়ি!

শেয়ার করুন

প্রথম দফায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে প্রলয়কারী হিসেবে ধরা না হলেও শেষমেষ এই ধারণা থেকে বের হতে হয়েছে দেশবাসীকে। শক্তি হারানো অবস্থায় বুলবুল আঘাত করা সত্ত্বেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে উপকূলীয় এলাকাসমূহ। বুলবুলের তাণ্ডবে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জানা গেছে, শুধু সাতক্ষীরাতেই বিধ্বস্ত হয়েছে ৫০ হাজার ঘরবাড়ি।

ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বর্ণনা করে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম বলেন,

এলাকায় একটি ঘরবাড়িও নেই। দুই একটি টিনের বাড়ি ছাড়া এখানকার বেশিরভাগ ঘরবাড়িই হচ্ছে মাটির তৈরি। ঝড়ে মাটির তৈরি ঘরবাড়ি ও টিনের ঘরবাড়ি সব বিধ্বস্ত হয়েছে। আমার ইউনিয়নে পাঁচ হাজারেরও অধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাটে গাছপালা পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এলাকার মাছের ঘেরগুলো সব ভেসে গেছে।

একই উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল বলেন,

ইউনিয়নের দুই হাজারেরও অধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মাটির তৈরি কোনো ঘরবাড়িই ভালো নেই। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। মাছের ঘেরগুলোও ভেসে গেছে।

রবিবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল ঘূর্ণঝড়ে সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা কন্ট্রোল রুমের তত্ত্বাবধায়ক জেলা ডিআরআরও প্রশান্ত কুমার রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান,

জেলাব্যাপী ৫০ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ৬৬০টি ঘর। সম্পূর্ণরুপে বিধ্বস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৫৮০টি ঘরবাড়ি। এছাড়া জেলার কোথাও কোনো হাতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তবে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব পরবর্তী পরিস্থিতি সামলে নিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.