Featured ইউরোপ ভ্রমণ স্পেন

বিশ্বের দর্শনীয় দেশ স্পেনের মাদ্রিদে নেই সমুদ্র সৈকত

শেয়ার করুন

বিশ্বের তিনটি দর্শনীয় দেশের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্পেন। প্রতি বছর  লাখ লাখ পর্যটক এসে ভিড় জমায় দেশটির সমুদ্র সৈকত আর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগের জন্য।

‘ওয়ার্ল্ড ট্যুরিস্ট অর্গানাইজেশন’ এর ২০১৭ সালের তথ্য বলছে, বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যায় স্পেন বিশ্বে তৃতীয়। ২০১৬ সালে ৭৫.৬ মিলিয়ন বিদেশী পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেন যা ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যকেও ছাড়িয়ে গেছে। ইউরো স্ট্যাটিস্টিকসের ২০১২ সালের পরিসংখ্যান মতে, সে বছর স্পেন আবাসিক হোটেল ব্যবসায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম স্থানে ছিলো।

স্পেনে পর্যটকদের প্রথম আকর্ষণ কাতালুনিয় এবং বার্সেলোনা অন্যতম প্রধান শহর হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে বার্সেলোনা স্পেনের সর্বাধিক সর্বাদিক ভ্রমনকৃত সিটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল এবং বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে ২৫তম হয়েছিল। ট্যুরিস্টদের জন্য সবচেয়ে বেশি বাজেট ব্যায় করা ইউরোপের ৫টি শহরের মধ্যে মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনার অবস্থান।

বার্সেলোনা স্পেনের একমাত্র শহর যেখানে হোটেলে রাত্রিযাপন খরচ সবচেয়ে বেশি। এখানে ৩৫২ টি হোটেলে প্রায় ৬৫ হাজার সিটের ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে একরাতে হোটেল রুমের গড় ভাড়া ১০০ ইউরো। আর মাদ্রিদে ৬৮ ইউরো এবং ভ্যালেন্সিয়াতে ৬০ ইউরো।এছাড়াও কানারিয়াস আইল্যান্ড, বালেয়ারেস আইল্যান্ড ইত্যাদি রয়েছে।

মাদ্রিদের ‘পান্তানো দে সান খোয়ান’ জলাধারে লেখক।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৫ সালের জরিপ অনুযায়ী প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন বিভাগে সে বছর স্পেন প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। তাছাড়া ২০১৬ সালে স্পেন ৭৭৬২৫ মিলিয়ন ইউরো আয় করেছে ট্যুরিজম সেক্টর থেকে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে স্পেনের আবহাওয়া যথেষ্ট উষ্ণ এবং সূর্যকরোজ্জল। গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ২০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই সাধারণত উঠানামা করে। অনেকগুলো প্রদেশে বছরে ৩০০ দিনেরও বেশি সূর্য থাকে। স্পেনের উত্তর দিকের প্রভিন্সগুলোর আবহাওয়া মোটামুটি ঠান্ডা এবং আদ্র। অনেক স্প্যানিশ এবং পর্যটকরা উত্তরাংশের সবুজ পাহাড় আর বনায়নে আকর্ষিত হয়ে সেখানে যায়।

স্পেনে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি সমুদ্র সৈকত রয়েছে। কিন্ত দেশটির রাজধানী মাদ্রিদে কোন সমুদ্র সৈকত নেই। যা নিয়ে মাদ্রিদবাসীর দুঃখ আর আক্ষেপের সীমা নেই। গ্রীষ্মকাল আসলেই ভালেন্সিয়া, আন্দালুসিয়া, মুর্সিয়া কিংবা গালিসিয়াতে ছুটে যেতে হয় সমুদ্র উপভোগের জন্য। মাদ্রিদবাসীর এ আক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে বেরনার্দো বাসকেস নামে এক সংগীত শিল্পী ১৯৮৯ সালে তার রেফ্রেসকোস নামে একটি এ্যালবামে এখানে কোন সমুদ্র নেই শিরোনামে একটি গান লিখেন।

এই গানে তিনি মাদ্রিদের ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে মাদ্রিদবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের বড় বড় পার্ক থাকতে পারে, থাকতে পারে হাজারো সিনেমা হল, হাজারো থিয়েটার এবং হাজারটা মিউজিয়াম, কিন্ত যখন গ্রীষ্ম আসে তখনই মনে হয় এখানে কোন সী-বীচ নেই।’

সমুদ্র সৈকত না থাকলেও মাদ্রিদের মানুষের জন্য শান্তনা স্বরূপ বড় একটি জলাধার রয়েছে যার নাম ‘পান্তানো দে সান খোয়ান’। এটাকে সবাই প্লায়্যা দে মাদ্রিদ/ মাদ্রিদের সমুদ্র বলেই ডাকে।এর শান্ত নীল পানির দিকে তাকালে একটা মরা নদী বলে মনে হয়।

স্পেনের আলবের্চে নদীর সাথে সংযুক্ত জলাধারটি সান মার্তিন দে ভালদে ইগলেসিয়াস, এল তিয়েম্বলো, সেবরেরস এবং পেলায়স দে লা প্রেসা এই চারটি পৌরসভা নিয়ে মাদ্রিদের দক্ষিণপুর্বে আবিলা প্রদেশের পাশেই অবস্থিত। ৬৫০ হেক্টর আয়তনের জলাশয়টি ১৯৫৫ সালে তৈরি করা হয়। এর পানি থেকে বিদ্যুৎও উৎপাদন করা হয়। চারদিকে সবুজ উঁচু পাহাড়েঘেরা জলাশয়টি মাদ্রিদের মানুষের জন্য সমুদ্র সৈকতের বিকল্প হিসেবেই কাজ করে।

  • মুজিব, মাদ্রিদ, স্পেন 

আরও পড়ুন- মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট রি-ইস্যু নিয়ে অপপ্রচার, দূতাবাসের বিবৃতি

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.