Featured ভ্রমণ

বিমান ভ্রমন; যে কারণে যাত্রী সেবা পেতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি!

কয়েক দিন আগে আমি কুয়েত এয়ারলাইন্সে ঢাকা থেকে প্যারিস আসি। ঢাকা থেকে কুয়েত পর্যন্ত বিমানটা পরিপূর্ন ছিলো আমার মতো প্রবাসী এবং হজ যাত্রী নিয়ে। 

আমরা যারা ইউরোপ থেকে বাংলাদেশে যাই তাদের সবারই মধ্যপ্রাচ্যের কোনো একটা দেশে যাত্রা বিরতি নিতে হয়। সেই যাত্রা বিরতির আগে আমরা যে রকম সার্ভিস পেয়ে থাকি কেবিন ক্রুদের কাছ থেকে, যাত্রা বিরতির পর বাংলাদেশর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া বিমান থেকে সেই রকম সার্ভিস আমরা পাইনা। 

কিন্তু কেন পাইনা? যাত্রীদের কি কেবিন ক্রু’রা অবহেলা করছে? নাকি বাংলাদেশী যাত্রীদের তারা পছন্দ করেননা? এই রকম বহু প্রশ্ন মনে দাঁড় করানো যাবে, আমি সেখানে যাচ্ছি না আপাতত।

আমার চোখে দেখা কিছু কারণ, যে কারণে দিন দিন যাত্রী সেবা পেতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি – 

  •  কেবিন ক্রু’রা বারবার অনুরোধ করা সত্যেও আমরা বিমান টেকঅফ করার সময় মোবাইলে কথা বলা বন্ধ করি না।
  •  বিমান টেকঅফ করার পরপরই আমরা চেয়ার থেকে উঠে ওয়াশ রুমের দিকে দৌড়ানো শুরু করি , বিমান ক্যাপ্টেনের নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করি না। ক্রুদের বারবার অনুরোধ করার পরও চেয়ারে বসে থাকি না।
  • বিমানের টয়লেট বাংলাদেশের পাবলিক টয়লেট মনে করে , ঐ রকম ভাবে ব্যবহার শুরু করি। (কয়েক দিন আগে এক ফ্লাইটে আমার এমন বিচিত্র দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য হয়েছে ) টয়লেটের পানি বিমানের চেয়ার পর্যন্ত পৌছে গেছে।
  • বিমানে খাবার খেয়ে আমরা এতটা নোংরা করি যে , আমার মনে হয়েছে হোটেল ছালাদিয়াও এর চেয়ে পরিস্কার।
  • বিমান ল্যান্ড করার পর , বিমান স্থির হওয়ার আগেই চেয়ার থেকে উঠে লাগেজ নামানো শুরু করি । ক্রু’রা নিষেধ করলে তাদের কথা আমাদের বিষ ফোঁড়ার মতো লাগে।
  • বিমানে চেয়ার থেকে উঠে গ্রুপিং আড্ডা এবং একজন অন্যজনকে ডাকাডাকির কথা না হয় না’ই বললাম।

আমার মনে হয় ফ্লাইটে আমাদের আর একটু সচেতন হওয়া উচিত, যাতে যাত্রীদের কারণে ক্রুদের ভোগান্তির শিকার হতে না হয়। যদি কোন ব্যপার অজানা থাকে তাহলে, ক্রুদের কাছ থেকে জেনে নিন, অযথা টয়লেটে গিয়ে গোসল করবেন না। আপনার চেয়ার এর আশেপাশে পরিস্কার রাখুন, ক্রুদের অনুরোধকে প্রাধান্য দিন তারা যখন যেটা বলে সাথে সাথে সেটা করার অভ্যাস তৈরি করুন।

বিমানের ক্যাপ্টেন এবং ক্রুদের সম্মান করুন, তাদের অনুরোধকে অবহেলা করা থেকে বিরত থাকুন। কেননা ক্যাপ্টেন এবং কেবিন ক্রু’রাই পারে আপনাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌছে দিতে ও প্রিয়জনদের মুখের হাসি দেখার সুযোগ করে দিতে।

শাহেদুর রহমান শাহেদ, প্যারিস, ফ্রান্স 

আরও পড়ুন- নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ইমিগ্র্যান্ট ডে আইন পাস

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.