Featured বাংলাদেশ থেকে

বিমানবন্দরে যেভাবে উদ্ধার হলো প্রবাসী দম্পতির হারিয়ে যাওয়া ৪০ হাজার ইউরো

ইউরোপের বিমানবন্দর পুলিশের সহযোগিতা এবং কাজের পরিধির সুনাম সম্পর্কে মোটামুটি আমাদের সবারই জানা। কিন্তু বাংলাদেশের বিমানবন্দর পুলিশ সম্পর্কে আমাদের ধারণা আপাতদৃষ্টিতে একটু কমই। অন্যান্য দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে কোনো সমস্যায় পড়লে প্রবাসীরা একটু দ্বিধাদন্দ্বে ভোগেন।

কিন্তু প্রবাসীদের পাশে যেকোনো সমস্যায় সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে কমতি রাখেন না বাংলাদেশের বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নও। বেলজিয়াম থেকে আসা এক প্রবাসী দম্পতি জাবের উদ্দিন ও জয়িতার ঘটনার মাধ্যমেই পাওয়া যাবে তার প্রমাণ।

ঘটনার শুরু যেখানে

২৭  জুলাই ভোর রাতে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে বেলজিয়াম থেকে  ঢাকায় আসেন জাবের উদ্দিন ও তার স্ত্রী জয়িতা। তাদের সাথে অন্যান্য ল্যাগেজ এবং ব্যাগের সঙ্গে ছিল একটি কার্টন। এই ছোট্ট কার্টনে ছিল এই দম্পতির ৪০ হাজার  ইউরো, যা  বাংলাদেশি টাকায় ৩৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকার সমপরিমাণ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেল্টে যখন ব্যাগেজের জন্য অপেক্ষার পর তারা দেখলেন সব ব্যাগ আসলেও আসনি শুধু  ইউরো ভর্তি কার্টনটি। সাথে সাথে তারা  অভিযোগ জানালেন কাতার এয়ারওয়েজের কাছে এমনকি রিপোর্ট করলেন বিমানবন্দরের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে।

কিন্তু মাঝে কয়েকদিন চলে গেলো তবুও কার্টনের কোনো খবর পাওয়া গেলো না। অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়েই জাবের সরণাপন্ন হলেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কাছে। মাত্র ৩ দিনের মাথায় কিভাবে উদ্ধার হলো সেই টাকা তা বলেছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন।

কার্টন হারানো এবং উদ্ধারের গল্প

এই টাকা ভর্তি কার্টন হারিয়ে একপর্যায়ে আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন জাবের-জয়িতা দম্পতি। তবে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের সহায়তায় ঠিকই ফেরত পেয়েছেন তাদের হারানো কার্টন।

এ বিষয়ে জাবের উদ্দিন বলেন,

আমরা বেলজিয়াম থাকি ১৭ বছর ধরে।  কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ঢাকায় আসি ২৭ জুলাই ভোর রাত  ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে। ইমিগ্রেশন শেষে ভোর সাড়ে ৪টা দিকে বেল্টে মালামাল খুঁজতে এসে দেখি একটি কার্টন আসেনি।  তারপর কাতারের এয়ারওয়েজের কর্মীদের বিষয়টি জানালে তারা লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডে যোগাযোগ করতে বলেন। সেখানে আমরা অভিযোগ দিয়ে চলে আসি।  কিন্তু  কোন খবর না পেয়ে কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করি, কিন্তু তারা কোন জবাব দিতে পারছিল না।

জাবের উদ্দিন আরও বলেন,

প্রথমে মনে হয়েছিলো আমার কার্টনটি যেহেতু  বেল্টে আসেনি, তাহলে হয়ত বেল্টে আসার আগেই উধাও হয়ে গেছে। এরপর কি করবো না করবো বুঝতে পারছিলাম না। একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়ি। তারপর একজনের পরামর্শে  ৫ আগষ্ট বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কাছে অভিযোগ করি।

এই কার্টন উদ্ধার সম্পর্কে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন,

জাবের-জয়িতা দম্পতি অভিযোগ পাওয়ার পর  সিসি ক্যামেরা দেখে ব্যাগেজ বেল্টের এলাকাগুলো অনুসন্ধান করতে থাকি। পরবর্তীতে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে  একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী এই কার্টন টি নিয়ে চলে গেছেন। ইটালি থেকে আসা সেই সহযাত্রী  সেই কার্টনটি নিয়ে তার  গ্রামের বাড়ি বাক্ষ্মণবাড়িয়ায় চলে যায়। পরবর্তীতে তথ্য সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

ইতালির সেই প্রবাসী ব্যক্তির কাছ থেকে প্রথম ধাপে ২০ হাজার ও পরে আরও ২০ হাজার ইউরো উদ্ধার করে ৮ আগস্ট জাবের-জয়িতা দম্পতির কাছে কার্টন বুঝিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান আলমগীর হোসেন ।

উদ্ধার হওয়া কার্টনের সাথে জাবের

এদিকে তাদের কষ্টের উপার্জনের টাকা ফেরত পেয়ে খুশি জাবের-জয়িতা দম্পতি।

তারা বলেন,

আমরা হতাশার মধ্যে ছিলাম। তবে ইউরোপে পুলিশ যেভাবে সহায়তা করে, এখানেও তেমন সেবা পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।

তবে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যেকোনো সমস্যায় প্রবাসীরা যেন বিলম্ব না করে তাদের নিকট আসেন। যেকোনো ক্ষেত্রে সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত আছেন।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.