Featured আমেরিকা কানাডা

বিদেশে চাকরি; নারী হলে সুবিধা বেশি, নাকি পুরুষ হলে?

কিছু দিন আগে আমি আমার Resume (CV ) এখানে সাসকাতনের একটা ভালো বড় করর্পোরেট কোম্পানীতে জমা দিয়েছিলাম৷ তার দুই/তিনদিন পর আমার স্বামীর  সাথে একজন বাঙ্গালী ভাইয়ের কথা হয়। কথা প্রসঙ্গে যখন ঐ ভাই শোনেন যে, আমি আমার Resume জমা দিয়েছি ঐ কোম্পানীতে, তখন ঐ ভাইটা বলেন যে-

‘ঐসব কোম্পানীতে এশিয়ার মানুষদের হায়ার করে না৷করলেও অনেক কম৷’

আমি যখন শুনছিলাম তখন আমার মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো৷ তবে মনে মনে আশা ছিলো যে, আমাকে ওরা ডাকবে৷ জানি না কেন এমন মনে হচ্ছিলো আমার! যাই হোক, গত চারদিন আগে আমাকে সে কোম্পানী থেকে ই-মেইল পাঠালো। তারা আমার ইন্টারভিউ নিতে চায়। আমাকে দুইদিন পর ইন্টারভিউ এর ডেইট দিলো৷

যথারীতি নির্দিষ্ট সময়ে আমি ইন্টারভিউ দিতে গেলাম সকাল বেলা৷ খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম৷ রিসিপশনে গিয়ে যখন বললাম, আমি ইন্টারভিউ দিতে এসেছি, তখন অামাকে অফিসের ওয়েটিং রুমে বসতে বললো৷ কিছুক্ষণ পর একজন ভদ্রমহিলা এসে আমাকে তার রুমে নিয়ে গেলেন। উনি আমার ইন্টারভিউ নেবেন৷প্রথমে গলা কাঁপছিলো ভয়ে৷ কিন্তু কয়েক মিনিট পর খুব স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, কানাডিয়ান ভদ্রমহিলা দুইজন খুবই আন্তরিক ছিলেন আমার সঙ্গে৷ তারপর আমার ইন্টারভিউ শেষ হতেই আমাকে বললো যে, তোমার জব অফার লেটার আজকে অথবা সোমবার আমরা ই-মেইল করে দেবো৷

আমি তো শুনে মহাখুশি হলাম৷রুম থেকে বের হয়েই আমার স্বামীকে ফোন দিলাম যে, আমার ইন্টারভিউ সাকসেসফুল হয়েছে৷ যথারীতি ঐ ভাই এর সাথে ভাগ্যক্রমে দেখা হয়ে গেলো৷ ঐ ভাই আগেরদিনও  বলতেছিলেন- ‘আমি শুনেছি এই কোম্পানীতে এশিয়ার কাউকে হায়ার করে না৷ আমিও তিনবার আমার CV জমা দিয়েছিলাম ডাকেনি আমাকে৷’

তখন আমার বর বললো-

‘কই মেঘলাকে তো আজ ইন্টারভিউতে ডেকেছিল এবং ওরা জব কমর্ফাম করেছে৷’

শ্রদ্ধেয় দেশী ভাই বলেন- ‘ও আচ্ছা, তাহলে হয়তো মেয়ে বলে ইন্টারভিউতে কল করেছে৷’

মেয়ে হবার কারণে যদি ইন্টারভিউতে কল করতো বা মেয়ে হবার কারণে যদি জবের এ্যাডভান্টেজ বেশি হতো, তাহলে বাঙালী কোন মহিলা কানাডায় বেকার থাকতো না। এই কথাটা তখন আমার মনে হচ্ছিলো৷ আসলে আমি এসব কথা শুনে ভাবছিলাম, ‘এখানে জবের ক্ষেত্রে মেয়ে-ছেলে কি?’ এটা হচ্ছে ছেলেদের সমস্যা৷ আসলে সব ছেলেদের বলবো না, গোটা কয়েক ছেলে মানুষের সমস্যা৷ আমরা মেয়েরা অপ্রাপ্ত বয়েসেও সংসারের হেশেল ধরতে পারি, দশ মাস দশ দিন সন্তান গর্ভে ধরতে পারি। একটা অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলেকে যদি বিয়ে করিয়ে দেয়া হয়, তাহলে হয় সে পাগল হবে, নয় তো সংসার ছেড়ে পালাবে।

পুরুষ ভাইদের একটু বলতে চাই- ভাই, আপনারা দৃষ্টিভঙ্গি একটু পাল্টান। এটা ডিজিটাল যুগ। নারীরা যেমন ঘর কন্যার কাজ করতে পারে, তেমনি বাহিরেও সামলাতে পারে৷ যুগ পবির্বতন হয়েছে ভাই৷

এটা ভাববেন না যে, তাদের অবলা ভেবে কেউ সহানুভূতি দেখায় বা মেয়ে বলে সুযোগ নেয়ার জন্য জব দেয়। এখানে জব হয় যোগ্যতায়, কোন নারী কোটায় না।
যদি নারী বলে কাজের সুযোগ হতো, তাহলে পৃথিবীর সব দেশের ভাইটাল পোস্টে নারীরা থাকতো। এভারেস্ট তো নারী বলে সমীহ করে নাই নিশাত মজুমদারকে। মহাকাশ তো ক্ষমা করে নাই কল্পনা চাওলাকে নারী হবার জন্য। কিংবা হিলারীকে তো নারী হিসেবে বিবেচনা করে তাকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট করে দেয়নি।
জব হয় যোগ্যতার কারণো, তাই না?

  • আমিনা আলী মেঘলা, সাসকাতন, কানাডা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.