Featured আফ্রিকা রঙ্গের দুনিয়া

যে দ্বীপে দেখা মিলবে বাস্তবের মৎসকন্যাদের!

শেয়ার করুন

মৎসকন্যা, নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অর্ধেক নারী অর্ধেক মৎসের এক মিশ্রিত অবয়ব। যদিও এই চরিত্রটির অস্তিত্ব কল্পনা ও উপন্যাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে বাস্তবেও আছে মৎসকন্যা! কিন্তু তারা দেখতে কল্পনার মৎসকন্যাদের মত নয়, একদম মানুষের মত।

এই মৎসকন্যারা দিনের অধিকাংশ সময় কাটান সমুদ্রের তলদেশে। তবে অকারণে নয়, তাদের এই বিচরণ ঝিনুক খোঁজার জন্য।

দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে এই মৎসকন্যাদের বাস। এরা হেনিয়ো বা সাগরকন্যা নামেই পরিচিত।

হেনিয়োরা অগভীর সমুদ্রে ডুব দিয়ে ঝিনুক আর শঙ্খ সংগ্রহ করে। ঝিনুক আর শঙ্খ রপ্তানি করে যে অর্থ আয় হয়, মূলত তা দিয়েই চলে হেনিয়োদের সংসার।

এই জেজু দ্বীপে পুরুষরাও বসবাস করেন। মহিলারা যে সব ঝিনুক আর শঙ্খ সংগ্রহ করেন, সেগুলিকে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পৌঁছে দেন এই দ্বীপের পুরুষরা।

এই হেনিয়োরা মূলত ডুবুরি। বর্তমানে এই দ্বীপে যারা ঝিনুক আর শঙ্খ সংগ্রহ করেন, তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এক বয়স হওয়া সত্ত্বেও এরা সমুদ্রের অন্তত ২০ মিটার (প্রায় ৬৬ ফুট) গভীরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটান।

তবে অদ্ভূত বিষয়, এদের সাথে থাকে না কোনো অক্সিজেন সিলিন্ডার। দীর্ঘদিনের অভ্যাসে এরা জলের গভীরে ২ মিনিটেরও বেশি সময় দম বন্ধ করে থাকতে পারেন। এ ভাবেই দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সমুদ্রের প্রায় ৬৬ ফুট গভীরে ঝিনুক আর শঙ্খের খোঁজে কাটান হেনিয়োরা।

হেনিয়োরা শুধুমাত্র ঝিনুক বা শঙ্খর প্রজননের সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরই এগুলিকে সংগ্রহ করেন। ফলে যুগ যুগ ধরে ঝিনুক আর শঙ্খের যোগান আর সমুদ্রের ইকো সিস্টেম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

বর্তমানে হেনিয়োদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক হলেন আল সু রা। বলা হয়ে থাকে, তিনিই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রবীণা ডুবুরি। তাঁর বয়স ৯৫ বছর।

আল সু রা জানান,

সমুদ্রের স্রোত এই অঞ্চলে অনেকটাই বেশি। তাছাড়া সমুদ্রের তলও পাথুরে, রুক্ষ।

তিনি জানিয়েছেন, এই পরিবেশও হঠাৎ হঠাৎ বদলে যায়। তাই এই কাজে প্রাণের ঝুঁকিও রয়েছে যথেষ্ট! ২০১৭ সালেও একজন হেনিয়োর মৃত্যু হয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে।

আল সু রা বলেন,

নতুন প্রজন্মের বেশিরভাগই কষ্টসাধ্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ এই পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকেই বিকল্প পেশা বেছে নিয়েছেন।

এছাড়া বিগত ৫০-৬০ বছরে হেনিয়োদের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬০ সালে যেখানে হেনিয়োদের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ হাজার বর্তমানে (২০১৮) তা কমে হয়েছে মাত্র ৪,৫০০।

এই হেনিয়োদের সংখ্যা যেভাবে কমছে। তাতে হয়তো আর বছর খানেক পর শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতাতেই খোঁজ মিলবে এই সাগরকন্যাদের।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া,প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.