বাচ্চাদের বেড়ে উঠার জন্য নির্মল পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

received_307601699939252-620x413.jpeg

দৈনন্দিন জীবনযাত্রার হিংস্রতা এবং হতাশায় আমরা কি আমাদের শিশুদের বেড়ে উঠার জন্য একটি নির্মল সুন্দর পরিবেশ তৈরী করে দিতে পারছি? আমরা কি আমাদের বাচ্চাদেরকে বেড়ে উঠার জন্য এবং অন্বেষণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরী করে দিচ্ছি?

তাঁর জীবদ্দশায়, আমাদের প্রিয় নবীজী আমাদের সন্তানদের মোকাবেলা করার জন্য মহান উদাহরণ দিয়েছেন। আমরা দেখেছি যে উনি তার মেয়ে সাঈদা ফাতিমা জোহরা (রা:আ:) কে কিভাবে ট্রিট করতেন। উনি শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সঙ্গে তার সাথে যেকোন জিনিস দেখিয়ে দিতেন। ফাতিমা (রাঃআঃ) যখন বাবার ঘরে ঢুকতো তখন উনি দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতেন? তিনি তার বাবার যত্ন নেওয়ার জন্য পরবর্তীতে “উম্মে আবিয়া” বা “তার বাবার মা” হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

আমাদের বাচ্চাদের প্রতি শ্রদ্ধা করা মানে তারা আমাদের থেকে বড় হয়ে যাওয়া নয়। বরং এর বিপরীতে এর অর্থ হচ্ছে আমরা সন্তানদেরকে আল্লাহর সৃষ্টির রূপে সম্মান করি। আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা দ্বারা আমাদেরকে দেওয়া এই বিশ্বাসকে অনেক বেশি সম্মান করি।

এইখানে বাচ্চাদের বেড়ে উঠার পরিবেশ কে উৎসাহিত করার জন্য কয়েকটি উপায় দেয়া হল-

১. আপনার সন্তানকে সময় দিন: আপনাদের ফোনগুলি সরিয়ে রাখুন, টিভি বন্ধ করে তাদের কথা শুনুন। মনোযোগী হবার জন্য তাদের চোখের প্রতি দৃষ্টি রাখুন। তাদেরকে এক সেকেন্ডের জন্য ও ভাবতে দেবেন না যে তাদের অন্যত্র মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে।

২. সন্তাদেরকে যত বেশি প্রশ্ন করতে বলুন: যে কোন প্রশ্নের জন্য অনুমতি দেওয়া উচিত। যদি একটি শিশু তাদের বয়সের জন্য অনুপযুক্ত একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করে, তাহলে তাদেরকে না বলবেন না। এটি সহজভাবে বুঝিয়ে বলুন “তোমার এখন এই বিষয়ে চিন্তা করা দরকার নেই।” বা একটি ছোট্ট বিবৃতিতে “বাচ্চারা মায়েদের কাছ থেকে জন্ম নেয়।” তাদের বয়স বাড়ার পরে তাদের জানতে দিন, আপনি আরও ব্যাখ্যা করতে পারেন। আপনার সন্তানদের কখনো তাদের মনে হয় না যে তাদের প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ নয় বা জিজ্ঞাসা করতে খুব “নিষিদ্ধ”। যদি আপনার সাথে শেয়ার না করে তাহলে তারা অন্য কাউকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবে।

৩. ধৈর্য ধরুন: কখনও কখনও বাচ্চাদের দরকার ভিন্ন নির্দেশনা যখন অনেক কাজগুলো সহজ হিসাবে আসে। তাদেরকে তাড়াহুড়ো করার কিছুই নেই। টাস্ক সম্পূর্ণ করার জন্য তাদের যথেষ্ট সময় দিন। জুতা পরতে যদি আপনার সময়ের চেয়ে বেশি সময় লাগে, তাহলে জুতা পড়া তাড়াতাড়ি শুরু করুন। তাদের দিকে খুব কোমল ভাবে নির্দেশ করুন, এবং তারপর স্পষ্ট হবে “আমরা শীঘ্রই চলে যাবো। দয়া করে তোমার জুতো পরে দরজায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকো।” একটি ছোট্ট শিশু হয়তো আপনার মতো সময় বুঝতে পারে না এবং সেই সময় জুতাগুলি বাছাই করা তাদের পক্ষে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

৪. ভুল করার জন্য ঘরে অনুমতি দিন: বাবা-মায়ের জন্য কঠিন, যখন আমাদের বাচ্চাদের ভুলের পরে আমাদের ওই ভুল গুলো ঠিক করা লাগে ৷ জেনে রাখুন যে ওই ভুল গুলো হতে পারে। কিন্তু মনে রাখবেন এইভাবেই শিশুরা শিখবে। বুঝিয়ে দিন যে এটি একটি শিক্ষনীয় অভিজ্ঞতা এবং তাদের লজ্জা দিবেন না। তাদেরকে জানিয়ে দিন যে কেউ ভুল করতে পারে এবং কি বাবা মায়েরা ও। কিন্তু বাবা মায়ের কাছ থেকে শিখতে চেষ্টা করুন এবং পরবর্তী সময় ভাল করার চেষ্টা করুন।

৫. প্রেমময়, দৃঢ় এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ: নিশ্চিতভাবেই আপনি কেবল আপনার বাচ্চাদের নষ্ট করার জন্য ওদের প্রতিটি দাবি দাওয়া মেনে নিতে চান, কিন্তু এটি আপনার বাচ্চাদের সাহায্য করবে না। নিয়ম কানুন এবং একটি সঠিক রুটিন আসলে একটি সুস্থ ভিত্তি বাচ্চাদের বাড়াতে সাহায্য করবে। তারা জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে পারবে এবং ধীরে ধীরে শিখবে।

সর্বশক্তিমান আমাদের সন্তানদের একটি সুন্দর ও প্রেমময় পরিবেশে উত্থাপন করার সুযোগ দিক। যেখানে তারা ধর্ম ও আল্লাহকে ইতিবাচক সংযুক্তি দেয়। আমরা যেন আমাদের প্রিয় নবীর ঐতিহ্য অনুসরণ করতে পারি এবং ভালবাসা ও সম্মানের মাধ্যমে আমাদের সন্তানদের সাথে সুন্দর জীবন গড়তে পারি। এই হোক আমাদের দীপ্ত অঙ্গীকার।
সূত্র: ইসলামিক ইনসাইটস

গোলাম মাহমুদ, ভার্জিনীয়া, প্রবাস কথা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.