Featured এশিয়া দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশী কর্মীদের দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার কেন এত আগ্রহ?

শেয়ার করুন

দ্রুত উন্নয়নশীল এক স্বপ্নের দেশ দক্ষিন কোরিয়া। ক্ষমতাবান পাসপোর্টের দিক দিয়েও জাপানের পরই বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে আছে এই দেশটি। এশিয়ার ‘টাইগার ইকোনমি কান্ট্রি’ হিসেবে খ্যাত দক্ষিণ কোরিয়া।

দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা স্বত্বেও নানাবিধ কারণে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশী কর্মীদের চাহিদা। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রায় ১৯ হাজারের মতো বাংলাদেশী কাজ করছেন তাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ইপিএস এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এসেছেন।

ইপিএস (EPS) কি?

ইপিএস হলো (Employment Permit System) ২০০৭ সালে কোরিয়া এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে একটি শ্রম চুক্তিপত্র। এই চুক্তির মাধ্যমে কোরিয়ার মানব সম্পদ পরামর্শ বিভাগ এবং বাংলাদেশের বোয়েসেল এর যৌথ সমন্বয়ে প্রথমে লটারির মাধ্যমে সারাদেশে থেকে কর্মী বাছাই করা হয়। পরবর্তীতে বাছাইকৃত কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদেরকে কোরিয়ান ভাষার উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

কোরিয়ার মানব সম্পদ পরামর্শকারীদের উপস্থিতিতে সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে কর্মী বাছাই করা হয়। চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সর্বশেষ স্কিল টেষ্ট পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হয়। তারপর সর্বশেষ তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার পর তাদেরকে অনলাইন ডাটাবেইজে রুস্টারভূক্ত করা হয়। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কর্মীদের নামের তালিকা কোরিয়ার বিভিন্ন ফ্যাক্টরির মালিকদের নিকট নামের তালিকা প্রেরণ করেন। কোরিয়ান মালিকরা তখন ঐ সকল কর্মীদের জীবন বৃত্তান্ত ও আনুসাঙ্গিক বিষয়ে সন্তুষ্ট হলে বাংলাদেশের বোয়েসেল এর মাধ্যমে ঐ সকল কর্মীদের নামে ভিসা ইস্যু করেন।

কর্মী নিয়োগে কেমন ব্যয়?

বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণদের উন্নত দেশগুলোতে যাওয়ার জন্য যেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েও কাজের কোন নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না, সেখানে নামমাত্র মূল্যে অর্থাৎ বিমান ভাড়া এবং বোয়েসেল এর অন্যান্য খরচ বাবদ মাত্র ৮০ হাজার টাকার মাধ্যমে একজন লোক বাংলাদেশ থেকে থাকা খাওয়ার নিশ্চয়তাসহ ৪ বছর ১০ মাসের ভিসা নিয়ে বৈধপথে সরকারীভাবে দক্ষিন কোরিয়ায় আসতে পারে।

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কেমন?

সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো বেতন। একজন কর্মী এদেশে আসার পর তার থাকা খাওয়া এমনকি ইন্টারনেট লাইন পর্যন্ত মালিক বহন করে থাকে। কাজে যোগদানের মাস থেকেই সে সর্বনিম্ন ১৫শ মার্কিন ডলার থেকে শুরু করে ২ হাজার বা তারও অধিক ডলার বেতন পেয়ে থাকেন। যা বাংলাদেশী টাকায় দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার মতো।

উল্লেখযোগ্য দিক হলো সমস্ত খরচ কোম্পানি বহন করার ফলে পুরো টাকাটাই সে দেশে পাঠাতে পারছে। আর এটাই হচ্ছে কোরিয়াতে আসার জন্য বাংলাদেশী তরুণদের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

সম্প্রতি এই বেতন বৃদ্ধি পেয়ে নতুন বেতন স্কেল নির্ধারিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমেই গত বছর থেকে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আসা শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়াতে। প্রথম দিকে প্রতি বছর প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার শ্রমিক কাজ নিয়ে দক্ষিন কোরিয়াতে আসলেও বর্তমানে নানাবিধ কারণে এর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২ থেকে ৩ শত। যা আমাদের জন্য একটি খুবই খারাপ সংবাদ।

দক্ষিন কোরিয়াতে আসার কেন এত আগ্রহ?

দক্ষিন কোরিয়া একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ। বিশ্বখ্যাত স্যামসাং, এলজি, হুন্দাই, ডাইয়ু এবং কেয়া মটরসের মতো  নামী দামী প্রতিষ্ঠানের জন্ম এদেশে। ফলে প্রচুর কাজের লোকের চাহিদা এদেশে। বলতে গেলে পুরো দেশটিই একটি শিল্প ইন্ডাস্ট্রি। এখানে হালকা মাজারি এবং ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রচুর।

এদেশের জনসংখ্যা ৫ কোটির কিছু কম। কাজের লোকের অভাব থাকায় দেশটিতে ইপিএস এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সাথে চুক্তি করে কর্মী নিয়ে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশ সহ প্রায় ১৫টি দেশ থেকে এই পদ্ধতিতে প্রতি বছর হাজার হাজার কর্মী নিয়ে আসছে কোরিয়াতে।

  • মোড়ল হারুন, প্রবাস কথা, প্রতিনিধি, দক্ষিণ কোরিয়া। 
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.