Featured যুক্তরাজ্য

ইংল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে ১ ঘন্টায় ১ হাজারেরও বেশি বজ্রপাত

শেয়ার করুন

ইংল্যান্ডে এখন বেশ ঝড় বৃষ্টির মৌসুম চলছে। যারা ক্রিকেট বিশ্বকাপ দেখছেন, তাদের সবারই এই বৃষ্টি বিপাক নিয়ে কমবেশি ইতিমধ্যে জানাই আছে। কিন্তু দক্ষিণ ইংল্যান্ডে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বেড়ে যায় বজ্রপাতের ঘটনাও।

গত মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় এলাকা ইস্টবোর্নে ১ ঘণ্টায় এক হাজার বারের বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। এই ঝড় ও বজ্রপাতের কারণে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের প্রায় পুরো এলাকা আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার ৬০০ এর বেশি বাসিন্দাকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।

এলাকার বাসিন্দা বেলাল আহমেদ জানিয়েছেন,

গত কয়েকদিন যাবৎ বৃষ্টি হচ্ছিলো। এরমধ্যে হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্তে আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হয়। সেইসঙ্গে ভয়ংকর বজ্রঝড় শুরু হয়। এই দুর্যোগ প্রায় ভোর রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। এরমধ্যে অন্তত ২০-২৫ মিনিট বিরতিহীনভাবে বজ্রপাত হয়। এ সময় পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে গেলে এলাকায় বেশ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ মন্তব্য করেন  ‘এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা আমরা কখনোই দেখিনি।’

ইংল্যান্ডে বজ্রপাত

এই পুরো ঘটনায় স্থানীয় টেলিভিশনের খবরে জানানো হয়,

 ‘১২ ঘন্টায় ১০ হাজার বারের বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে”

ইংল্যান্ডের এই দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার অপর এক বাসিন্দা ক্যারোল পিয়ার্স বলেন,

‘কোনোকিছু বুঝে ওঠার আগেই বজ্রঝড়টি শুরু হয়। সেই সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে সমুদ্র থেকে পানির ঢেউ এসে পুরো এলাকা সয়লাব হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন,

‘’আমার একান্ন বছর বয়সে এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা কখনও দেখিনি। এমনকি আমার মা-বাবা কিংবা তাদের চেয়েও যারা বেশি বয়সের তাদের মুখেও কোনোদিন এমন অবস্থার কথা শুনিনি। বজ্রপাতের শব্দে মানুষের বধির হয়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল।’

স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানায়, রাত ১১টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই হঠাত ঝড় এবং বজ্রপাতের ফলে শহরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কর্তৃপক্ষ সাহায্য করছে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.