Featured ইউরোপ ফ্রান্স

ফ্রান্সে অতিরিক্ত তাপদাহে জনজীবন ব্যাহত

উত্তর আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি থেকে ধেয়ে আশা গরম বাতাস ও অসহনীয় তাপমাত্রার জন্য ফ্রান্সের জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। শীতপ্রধান দেশগুলোতে সাধারণরত, তাপমাত্রা ২৮ থেক ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক হলে, মানুষের মধ্যে অস্থিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

মঙ্গলবার বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী থাকলেও একসময় তা ২৯ ডিগ্রিতে গিয়ে পৌঁছে। আজকে তাপমাত্রা ৩২ থেকে ৩৪ ডিগ্রিতে ঘোরাফেরা করছে, আগামীকালও এরকম তাপমাত্রা থাকবে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের আবহাওয়া অফিস।

প্যারিসের মেয়র ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তাপপ্রবাহ থেকে নাগরিকদের বাঁচানোর জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। প্যারিসের সমস্ত পার্ক সারাদিনের পাশাপাশি রাতেও খোলা থাকবে। সাথে প্যারিসের অধিকাংশ সরকারি সুইমিংপুল বেশি সময় খোলা রাখবে এবং সেগুলোতে বিনামূল্যে প্রবেশ করা যাবে।

প্যারিসের বিভিন্ন এলাকার নির্দিষ্ট কিছু স্পোর্টস অডিটরিয়াম ও বিভিন্ন ব্যক্তিগত জায়গায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুম থাকবে। যাতে করে সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারে।

জিপসি ও ভবগুরে নাগরিকদের এই তাপদাহ থেকে বাঁচানোর জন্য, নগরীর শাওয়ার বাথ জায়গাগুলো সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা ও বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা অব্দি খোলা থাকবে।

তাদের দেখাশোনা করার জন্য একটি বিশেষ দল নিয়োজিত থাকবে। মঙ্গলবার প্যারিসবাসীর জন্য গাড়ি পার্কিং ফ্রি করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া যানজটের মাত্রা না বাড়ানোর জন্য, সবাইকে মেট্রো ও ট্রেনে চলাচলের জন্য অনুরোধ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

প্যারিসের বিভিন্ন পার্ক ও রাস্তায় প্রায় ৯২২টি স্থায়ী ট্যাপ থেকে পানি পান করতে পারেন সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে, নগরীর কিছু বাগান ও পার্কে স্থায়ী ঝর্ণার পাশাপাশি অস্থায়ী ঝর্ণাও স্থাপন করা হয়েছে।

এ পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি সিটি কাউন্সিল নাগরিকদের কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন। যেমন, নিয়মিত পানি পান করা, সম্ভব হলে কয়েকবার গোসল করা, সেই সাথে মদ্যপান না করার জন্যও আহ্বান করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, সম্ভব হলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বাসা থেকে না বের হতে। সেই সাথে শিশু ও বয়স্কদের বেশি যত্ন নিতে বলা হয়েছে। বাসার ঘর শীতল রাখতে জানালা খুলে রাখতে বলা হয়েছে ও জানালার সাঁটার বন্ধ করে রাখতে বলা হয়েছে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত।

শুধু প্যারিস তথা ফ্রান্স নয় পুরো ইউরোপেই চলতি সপ্তাহ তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের আবহাওয়া অফিস।

১৯৪৭ সালে পুরো ফ্রান্স জুড়ে জুন মাসে ছিল অসহনীয় তাপমাত্রা, যা সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রির উপর পৌছায় লিল শহরে। কিন্তু ২০০৩ সালে সেটি বেড়ে গিয়ে ফ্রান্সের লিওঁ শহরে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পৌছায়।

সে বছর ফ্রান্সে অতিরিক্ত তপদাহ সহ্য না করতে না পারায়, ১৯ হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়। অপরদিকে ইতালিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ ও পুরো ইউরোপে ৭০ হাজারের মতো মানুষ মৃত্যু বরণ করেন। এদের মাঝে বেশিরভাগই ছিলেন বয়োজোষ্ঠ ও শিশু।

 

  • আওয়াল রহমান, প্যারিস, ফ্রান্স 

আরও পড়ুন- সৌদিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.