Featured রঙ্গের দুনিয়া

তবে কি লাইভ নিয়ে ভাবতে হচ্ছে ফেসবুককে?

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর ‘ফেসবুক লাইভ’ এর বিষয়টিকে বিশেষ নজরে আনছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এই হামলার পুরো সময় ফেসবুক লাইভে ছিল হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্ট। কিভাবে একজন বন্দুকধারী নৃশংস হত্যাকান্ডকে ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত সহজে ছড়িয়ে দিতে পারে- তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল পুরো বিশ্বে। এরই প্রেক্ষিতে এ হামলার ২ সপ্তাহ পর ফেসবুক তাদের লাইভের বিষয়কে অনেক দিক থেকেই সংকুচিত করে ফেলছে বলে জানা যায়।
ফেসবুক
ফেসবুক লাইভ
ফেসবুকের চিফ অপারেটিং অফিসার শেরেল স্যান্ডবার্গ বলেন,
”এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো অনেক কিছুই করার আছে।”
এদিকে এই হামলার ১৬ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের লাইভটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পূর্বে ৪০০০ বার দেখা হয়েছিল। অপরদিকে ফেসবুকের লাইভের অবাধ ব্যবহারের প্রতি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি নিউজিল্যান্ড সরকার, ‘ঘৃণা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত আইন’ থাকার বিষয়টিকেও সম্প্রতি নজরে এনেছে।
নিউজিল্যান্ডের আইনমন্ত্রী অ্যান্ড্রু লিটল জানান,
”আমাদের বর্তমান আইন ব্যবস্থা অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা ঘৃণা এবং বিদ্বেষ পোষণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনা। যা এসকল নেক্কারজনক ঘটনাকে বাড়িয়ে তুলছে।”
ফেসবুক
ভিডিও সরিয়ে ফেলার প্রসংগে ফেসবুকের টুইট
তিনি আরও জানান বছরের শেষদিকে নিউজিল্যান্ডের সরকার এবং মানবাধিকার কমিশন একই সাথে এই বিষয় নিয়ে কাজ করবে।
এদিকে ফেসবুকের পক্ষ থেকে শেরেল স্যান্ডবার্গ বলেন,
‘আমরা, পুরো ফেসবুক পরিবার নিউজিল্যান্ডের মুসলিমদের পাশে আছি। সেই সাথে পুরো নিউজিল্যান্ডের প্রতিও আমাদের সহমর্মিতা রয়েছে।”
ফেসবুক
শেরেল স্যান্ডবার্গ
তিনি আরও বলেন,
”সকলের একটি প্রশ্নই ছিল যে ফেসবুকের মত এত বড় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিভাবে এই হামলাকে প্রচারে সহায়তা করলো! আমরাও আপনাদের সাথে একমত, আমাদের এখন অনেক কিছুই করার আছে।”
”প্রথমত আমরা লাইভের ব্যাপারটিকে নিয়ে কাজ করছি। লাইভ প্রচারের ক্ষেত্রে আমরা সীমাবদ্ধতা নিয়ে আসছি যেন পরবর্তীতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”
ক্রাইস্ট চার্চের হামলার প্রথম লাইভ মাত্র ২০০ জন দেখলেও পরবর্তীতে ১.৫ মিলিয়নবার একই ভিডিও বিভিন্ন একাউন্ট দিয়ে ফেসবুকে আপলোড করা হয়। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র ফেসবুকই নয় বরং টুইটার, ইউটিউবসহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
নিউজিল্যান্ড
সাধারণ মানুষের শোক প্রকাশ
এই ঘটনায় ফেসবুকের পদক্ষেপ নিতে দেরী করায় নিউজিল্যান্ডের প্রাইভেসি কমিশনার ফেসবুকের উদ্দেশ্যে বলেন,
”আপনাদের মৌনতা আমাদের শোকের প্রতি অপমান করার সামিল”
তবে ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা নিউজিল্যান্ড পুলিশকে তদন্তের ব্যাপারে সার্বিক সহায়তা করছে। কিন্তু এই লাইভের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধুমাত্র নিউজিল্যান্ডই নয় বরং সমগ্র বিশ্বের নেতারা উদ্বিগ্ন। সেদিক থেকে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করা পর্যন্ত ফেসবুকের প্রতি সমালোচনার তীর বজায় থাকবে বলেই বিশেষজ্ঞদের মতামত।
  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.