Featured বাংলাদেশ থেকে

প্রসঙ্গ আইএসের টুপি; কেন বইছে সমালোচনার ঝড়?

শেয়ার করুন

আলোচিত হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় গতকাল বুধবার। এই রায়ে আসামীদের ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১ জনকে খালাস দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত জঙ্গির কারও মধ্যে কোনো ধরণের অনুশোচনা দেখা যায়নি। বরং আদালত কক্ষ থেকে বের করার সময় আসামীরা স্লোগান দিতে থাকে।

প্রথম আলো পত্রিকার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় আসামি রাকিবুল ইসলাম ওরফে রিগ্যান এর মাথায় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসের (ইসলামিক স্টেট) পতাকার প্রতীক সংবলিত একটি টুপি ছিল। এরপর আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার পর রিগ্যানের সাথে আরও এক জঙ্গিকেও কালো কাপড়ে তৈরি একই রকম টুপি পরতে দেখা যায়। টুপি পরিহিত অপর জঙ্গির নাম জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,

সকালে আদালতে আনার সময় কারও মাথায় এমন টুপি ছিল না। বের হওয়ার সময় রাকিবুলের মাথায় এই টুপি দেখা যায়। কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আনা এসব জঙ্গিরা আইএসের প্রতীক সংবলিত টুপি কোথায় পেলেন তা নিয়ে উপস্থিত সবার মধ্যে বিস্ময় ও প্রশ্ন তৈরি হয়। এরা কারাগার থেকে এ টুপি নিয়ে এসেছেন নাকি আদালতে আনার সময় বা আনার পর কোনোভাবে তাদের কাছে এই টুপি এসেছে—এ নিয়েও আদালত চত্বরে আলোচনা চলছিল।

বইছে সমালোচনার ঝড়

এই টুপির বিষয়টি প্রথমে নজরে না আসলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এই প্রসঙ্গ। এরপরই সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে পুরো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো জুড়ে।

তবে এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন,

‘এটি আমরা দেখেছি, ছবিও দেখেছি। আমরা বিস্মিত হয়েছি। কারাগার থেকে আনার সময় আসামিদের তল্লাশি করে দেখা হয়, তাদের সঙ্গে কি আছে তা দেখা হয়। এ ধরনের টুপি তাদের কাছে কীভাবে গেল, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।’

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,

দণ্ডপ্রাপ্ত নব্য জেএমবির এসব জঙ্গিদের আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামীরা প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে চিৎকার করে নিজেদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে কথা বলতে থাকে। একই সঙ্গে তারা স্লোগানও দিতে থাকে।

এটি কি আদৌ আইএস এর টুপি?

সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে আসামীদের মাথায় পরিহিত টুপিকে আসামীদের টুপি বলে চিহ্নিত করা হলেও প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা। আসামির মাথায় আইএসের টুপির সাদৃশ্যের বিষয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান, অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন,

জানা মতে, আইএসের কোনো টুপি নেই। আইএসের সৃষ্টি থেকে এ যাবৎ পর্যন্ত কোনো টুপি তারা তৈরি করেনি। তারপরও তাদের কোনো টুপি আছে কি না, তা বিশ্লেষণ করে দেখব। পাশাপাশি কারো গাফিলতির কারণে এরকম টুপি এজলাসে এসেছে কি না- তা খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন,

হলি আর্টিসান মামলার রায় সন্ত্রাসীদের জন্য একটা মেসেজ (বার্তা)। এ রায়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা কঠিন বার্তা পেলো, ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে কেউ সাহস পাবে না।

এর আগে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে টুপির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,

‘আমি কি এটার জবাব দিতে পারব? এটা কী করে হলো, সেটা নিশ্চয়ই তদন্ত করা হবে। কী করে আসল, এটা তো আমি আজ এখানে জবাব দিতে পারব না। আমার পক্ষে এটার জবাব দেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু নিশ্চয়ই ব্যাপারটি তদন্ত হওয়া উচিত।’

তবে এই টুপি প্রসঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ও কড়াকড়ি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

  • সুমাইয়া হোসেন লিয়া, প্রবাস কথা, ঢাকা।
শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.