Featured এশিয়া সিঙ্গাপুর

প্রবাসে অপরাধ কর্মকাণ্ড ও দেশের দূর্নাম

প্রবাসে অপরাধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলার আগে জেনে নেই অপরাধ কি? সাধারণত অপরাধ বলতে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ও দন্ডনীয় কাজকে বুঝায়। আইনবিদ স্টিফেন এর মতে, ‘অপরাধ বলতে সেসব কাজ করা বা না করাকে বুঝায় যার জন্য আইনে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে’।

আইনের দ্বারা নিষিদ্ধ যেকোন কাজই অপরাধ কর্ম বলে বিবেচিত। যেখানে মানুষ থাকবে সেখানে অপরাধকর্ম হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা বাংলাদেশীরা পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, বিভিন্ন অপরাধ কর্মে লিপ্ত হওয়া যেন আমাদের নেশা। আমাদের রক্তের ডিএনএ এই তথ্য দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তোমরা আইনবিরোধী কাজ করে যাও!

কয়েকদিন আগে এক সিকিউরিটি অফিসার আমাকে বলল, ওমর গত একমাসে ২১টি মারামারি সংক্রান্ত মামলা হয়েছে এবং এই মামলাগুলোতে বাংলাদেশী জড়িত। তোমরা বাংলাদেশীরা নিজেরা মিলেমিশে থাকতে পারো না কেন? আমি তার কথার প্রতিত্তুরে কিছু বলতে পারিনি। মামলায় জড়িত এই বাংলাদেশিদেরকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সিঙ্গাপুর একে অপরের সাথে মারামারি করা মারাত্নক অপরাধ। মারামারির মামলায় দেশে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি অনেকসময় কারাভোগও করতে হয়।

শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে শুনলাম আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করা ৮০ভাগই বাংলাদেশী। মিথ্যা মামলা হল- নিজে নিজের আঙ্গুল কেটে আদালতে গিয়ে বলা কাজ করার সময় আঙ্গুল কেটেছি, তা যদি প্রমানিত হয়, সে সত্যি কর্মক্ষেত্রে আঙ্গুল কেটেছে তাহলে সে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে মোটা অংকের কিছু টাকা পাবে। অল্প কিছু টাকার জন্য নিজের আঙ্গুল নিজে কেটে ফেলে দেওয়াই প্রমান করে আমরা কতটা নিচে নামতে পারি।

আর আদালতে যদি মিথ্যা প্রমানিত হয় কর্মক্ষেত্রে আঙ্গুল কাটেনি বা দুর্ঘটনা হয়নি তাহলে অভিযোগকারীকে মোটা অংকের জরিমানার পাশাপাশি কারাভোগ করতে হয়। সেদিন শুনলাম আদালতে মিথ্যা মামলা অভিযোগের দায়ে একজনের পঁয়ত্রিশ হাজার ডলার জরিমানার পাশাপাশি তিন বছরের কারাভোগের শাস্তি হয়েছে।

কয়েকদিন আগে এক পরিচিত ব্যক্তি ম্যাসেজ দিয়ে বলল, ওমর ভাই একজন আমার ১২ হাজার ডলার নিয়ে পালিয়েছে। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম সিঙ্গাপুরে ১২ হাজার ডলার নিয়ে পালাবে সেটা কিভাবে সম্ভব! আপনি ভুল বলছেন নিশ্চয়। সে বিস্তারিত বলল, তার কথার সার কথা হল, সে এক হুন্ডি ব্যবসায়ীর নিকট ১২ হাজার ডলার দিয়েছে ডলারের দাম একটু বেশী পাবার লোভে। আর এই ডলার তার একার না। এই টাকার মালিক মোট চারজন।

সিঙ্গাপুরে হুন্ডি ব্যবসা বা অবৈধ লেনদেন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ এবং বাংলাদেশেও হুন্ডি ব্যবসা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ তবুও শতশত লোক হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত। অল্প কয়েক টাকা বেশী পাবার লোভে হুন্ডিতে টাকা পাঠায় এবং অনেকেই ধরা খায়। আইন দ্বারা নিষিদ্ধ হবার কারনে কেহ আইনের আশ্রয় নিতে পারে না। টাকার শোকে পাগলপ্রায় হয়ে যায়।

সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকায় কয়েক মাস আগে একটি রিপোর্ট দেখলাম। সিঙ্গাপুরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সাধারনকর্মীদের অল্প কয়দিনে টাকা দ্বিগুন করার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

প্রবাসে কিছু বাংলাদেশী তাদের মেধা ও পরিশ্রম দ্বারা দেশের সুনাম বহন করছে অপরদিকে কিছু অসৎ লোকের জন্য বদনামও হচ্ছে। তাই আমাদের উচিৎ নিজের, পরিবারের, দেশের কথা চিন্তা করে সমস্ত অসৎ কর্মকাণ্ড পরিহার করে একে অপরের সাথে মারামারি থেকে দূরে থাকা। মনে রাখতে হবে প্রবাসে আমরা একেকজন প্রবাসী একেকটা বাংলাদেশ। একজন ভাল কিছু করলে পুরো বাংলাদেশের সুনাম আবার একজন খারাপ কিছু করলেও পুরো বাংলাদেশের দূর্নাম।

  • ওমর ফারুকী শিপন, সিঙ্গাপুর 

আরও পড়ুন- গ্রিসে প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা বিষয়ক অডিও-ভিডিও প্রকাশ

প্রবাসীদের সব খবর জানতে; প্রবাস কথার ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.